প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উত্তাপ: কর্মসূচিতে নতুনত্ব আনছে বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। মাঠের কর্মসূচির পাশাপাশি দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ড বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর অংশ হিসাবে জিয়াউর রহমানের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দিন ৩ জুন স্মরণে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ৩০ মে তার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ২১ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। এদিকে নতুন কর্মসূচি নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিন পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে হালকা উত্তাপ ছড়িয়েছে। শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল বৈঠকে এ উত্তাপের সৃষ্টি হয়।

দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার দিনটি উপলক্ষ্যে কর্মসূচি ঠিক করতে গিয়ে এক নেতা মৃত্যুবার্ষিকী বলায় এ উত্তাপের সূত্রপাত হয়, যা প্রায় পুরো বৈঠকজুড়েই চলে। পরে স্থায়ী কমিটির সব নেতার মতামত নিয়ে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

স্থায়ী কমিটিতে উত্তাপের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো নেতা মন্তব্য করতে চাননি। তবে দলের কর্মসূচিতে নতুনত্বের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জিয়াউর রহমান। বিষয়টি সামনে এনে কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, ড্যাবসহ বিএনপি সমর্থিত পেশাজীবী সংগঠনগুলোও আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীতে অন্তত ৩০টি স্পটে দুস্থদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। যেখানে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচি পালন করতে চান। কিন্তু করোনার কারণে আমরা ১৫টি স্পটে দুস্থদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করব।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে হালকা উত্তাপ : বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে নিহত হন। এরপর থেকে বিএনপি জিয়াউর রহমানের নামের আগে ‘শহিদ’ ও ‘শাহাদতবার্ষিকী’ পালন করে আসছে। সূত্র জানায়, শনিবারের সভায় দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা ৩০ মে এর কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মৃত্যুবার্ষিকী বলেন।

সঙ্গে সঙ্গে এক নেতা এর প্রতিবাদ করেন। দলের আরেক সিনিয়র নেতা সমর্থন দিয়ে বলেন, আমরা তো জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী পালন করি, মৃত্যুবার্ষিকী নয়। এরপর ওই নেতা শাহাদতবার্ষিকী বলে বক্তব্য দেন।

এছাড়া জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রথমে দুইদিনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা ছিল কয়েক নেতার। এ প্রস্তাব দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে এক নেতা বলেন, রণাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের এবার ৪০তম শাহাদতবার্ষিকী।

তাই, ৪০ দিনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া উচিত। এ সময় এক নেতা বলেন, এতদিন কর্মসূচি কীভাবে করা সম্ভব। তখন ওই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ যদি তাদের নেতার জন্য বছরব্যাপী কর্মসূচি করতে পারেন আমরা কেন পারব না। এ সময় এক নেতা বলেন, ৩ জুন দিনটিকে স্মরণ করে দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীর কমিটির উদ্যোগে কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। এ প্রস্তাবও গৃহীত হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।

সূত্র আরও জানায়, বৈঠকে কর্মসূচি প্রসঙ্গে এক নেতা বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে খালেদা জিয়া ঢাকা শহরে তিনব্যাপী দুস্থদের মধ্যে খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করতেন। এবারও সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে এ কর্মসূচি করা যেতে পারে। তখন দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, এতো নেতা কোথায় পাবেন। তখন প্রস্তাবকারী নেতা বলেন, স্থায়ী কমিটির না হলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিবরা কি নেতা নন? ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির সঙ্গে বসে স্পট ঠিক করার প্রস্তাব দিলে তা বৈঠকে গৃহীত হয়।

জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বিএনপি ভার্চুয়াল আলোচনার আয়োজন করে। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে প্রথমে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে এ নিয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে একরকম বাধ্য হয়েই তিন নেতাকে আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়।

একই ইস্যুতে জাতীয় প্রেস ক্লাবেও কর্মসূচি পালন করে মহিলা দল। কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে বৈঠকে এক নেতা বলেন, লকডাউনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারা দেশে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। আমাদের তো দলীয় নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করা উচিত। আরেক নেতা বলেন, সাংবাদিক মুক্তির দাবিতে আমরা যদি প্রেস ক্লাবে কর্মসূচি পালন করতে পারি, তাহলে দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে পারব না কেন? এ সময় এক সিনিয়র নেতাও দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে কর্মসূচির পক্ষে কথা বলেন। এ অবস্থায় এক নেতা বৈঠকে ঘোষণা দেন তিনি কর্মসূচি পালন করবেন। তখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে থামিয়ে দিয়ে কর্মসূচির সিদ্ধান্ত পরে দেবেন বলে জানান।

এছাড়া বিভিন্ন সূত্র দিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবরের বিষয়ে বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতারা। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, তার সঙ্গে চিকিৎসকদের কথা হয়েছে। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়ার আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে দেশে এর বেশি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। – যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত