প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাবার ড্যামে সুফল পাচ্ছে কৃষকরা

আবু হাসাদ:[২] প্রতিবছর খরা মৌসুমে পুঠিয়ায় বারনই নদীতে ব্যাপক পানি সংকট দেখা দিত। সে সময় পাশের নলকূপগুলোতে পানির স্তরও নিচে নেমে যায়। এতে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চাষির ফসলহানী ঘটতো।

[৩] বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’র পুঠিয়া উপজেলা শাখার সহকারী প্রকৌশলী আল মামুনউর রশিদ বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রাবার ড্যামটি নির্মাণ করে বিএমডিএ। গত ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে শিলমাড়িয়া ইউপি এলাকায় বারনই নদীতে এই রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ শেষে ২০১৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

[৪] এতে নিমাণ ব্যয় হয় প্রায় ১৫ কোটি টাকা। ৬২ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৪ মিটার উচ্চতায় রাবার ড্যামটির পানি ধারণ ক্ষমতা ১২০ লাখ ঘন মিটার। নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর কৃষি জমি সেচের আওতায় এসেছে। আর তিনটি উপজেলার নদীতীর এলাকার সুবিধাভোগি কৃষি পরিবারের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৫০০ টি।

[৫] সাধনপুর গ্রামের রহিদুল ইসলাম বলেন, খরা মৌসুম আসলেই এই অঞ্চলের সাধারণ চাষিরা পানি সংকটে পড়তো। এই সংকট নিরসনে শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল এগিয়ে আসেন। বিভিন্ন দপ্তরে তদারকি করে নদীতে ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের চাষিদের পানি সংকটমুক্ত হয়েছে। চাষিরা এখন সকল জমিতে তিনটি করে ফসল উৎপাদন করছেন। আর নদীর পানি ব্যবহার করে উচু জমিগুলোতে বারোমাস বিভিন্ন সবজির আবাদ করা হচ্ছে।

[৬] স্থানীয় চাষি ছবির উদ্দীন বলেন, ড্যাম নির্মাণের আগে খরা মৌসুম আসলে নদীতে পানির চলাচল তেমন থাকতো না। আর নদীর আশপাশের এলাকায় পানির স্তরও অনেক নিচে নেমে যেত। সেচ কাজে ব্যবহৃত বেশির ভাগ বোরিং পাইপের পানি উঠা বন্ধ থাকতো। যার কারণে সে সময় আমাদের জমিগুলোতে ফসল উৎপাদন হতো একমাত্র বৃষ্টি নির্ভর।

[৭] প্রতিবছর পানি সংকটের কারণে এই এলাকার অধিকাংশ চাষিদের ফসল খেতেই শুকিয়ে নষ্ট হতো। ড্যাম নির্মাণের পর থেকে নদীতে এখন সব সময় পানি থাকে। বোরিং গুলোতে আগের মত পানি সংকট দেখা দেয় না। বেশীরভাগ চাষিরা নদীর পানি দিয়েই ফসল উৎপাদন করছেন। এখন পানির অভাবে আর একটু জমিও পতিত থাকে না।

[৮] শিলমাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন মুকুল বলেন, হাজারো চাষি দীর্ঘদিন পানি সংকটে ভুগছিলেন। তাদের চাহিদার বিষয়টি বিবেচনা করে ইউনিয়নের জগদেশপুর এলাকায় রাবার ড্যামটি নিমাণ করা হয়েছে। এর ফলে বারনই নদীর তীরবর্তী পুঠিয়া, বাগমারা, দুগাপুর অঞ্চলের কৃষকদের পানি সংকট নিরসন হয়েছে। এখন ড্যামের মাধ্যমে নদীতে অনেক পানি ধরে রাখা যায়। যা খরা মৌসুমে কৃষকদের চাহিদামত সব সময় ব্যবহার করতে পারছেন।

[৯] পুঠিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভূইয়া বলেন, বিগত বছর গুলোতে পানি সংকটের কারণে নদী তীরের জমিতে এক বা দুইটি ফসল উৎপাদন হতো। কৃষকদের পানি সংকট নিরসনে কৃষি মন্ত্রণালয় বারনই নদীতে নির্মাণ করে রাবার ড্যাম। এখন বছরের খরা মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত পানি মজুদ থাকে। আর জমাকৃত সেই পানি ফসলি জমিতে গুরুতপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নদীতীরের চাষিদের ফসলি খেত আর পতিত থাকে না।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত