প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

জবি প্রতিনিধি : [২] করোনাভাইরাসের প্রকোপে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময়।মাঝে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলেও খোলেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেশনজট নিরসন ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

[৩] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে আশু সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি।কিন্তু সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শতভাগ স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখা উচিত। শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের অধিকাংশই ইতোমধ্যে  করোনা টিকা দেয়া হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে খুব দ্রুত সময়ে ক্যাম্পাস খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হবে।

[৪] শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল হাসান জাহিন বলেন,আমরা শুরুর দিকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করার দাবি জানিয়েছিলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের রোস্টারিং পদ্ধতি, আবাসন ও পরিবহন সমস্যা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভ্যাকসিনেশনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা জরুরী ছিলো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সমস্ত পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোনো প্রকার অগ্রগতি নেই৷ আমরা দাবি জানাচ্ছি, দ্রুত রোডম্যাপ ও ভ্যাকসিন প্রদান করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে।

[৫] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.এ.কে.এম মনিরুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গেছে। অনলাইনে ক্লাস চালিয়ে গেলেও পরীক্ষা নেওয়া এখনও সম্ভব হয় নি, ফলে একটা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার কথা একাধিকবার ভাবলেও নানা জটিলতা রয়েছে, তাই শিক্ষার্থীদের সেশনজট থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

[৬] আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.সরকার আলী আককাস বলেন, শিক্ষার্থীদের বেদনা আমরা বুঝি। আমরা অনলাইনে ক্লাস নিলাম দুইটা সেমিস্টারের কিন্তু সেটার কোন সুফল নাই। এমন তো হয় না যে আমরা অনলাইনে ক্লাস নিয়েই যাবো। আমি মনে করি এর আগে আমরা স্নাতকোত্তরদের পরীক্ষা যেভাবে নিলাম সেভাবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বল্প সময়ে শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষা গুলো নেওয়া উচিত, তাহলে সেশনজট থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাওয়া যাবে।

[৭] বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, আসলে করোনাকালীন সময়ে সব থেকে বড় ক্ষতিটা হয়ে গেলো শিক্ষা খাতে। কিন্তু করোনার বিপক্ষে সরকারেরও কিছু করা সম্ভব না। আমরা অনলাইনে যে ক্লাস নিলাম এটা আসলে ওতটা ফলপ্রসূ না যতটা স্বশরীরে হয় । তবে আমিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পক্ষে।শিক্ষার্থীদের দাবি দাওয়ার পক্ষে।

[৮] জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের যে পরিমান সময় নষ্ট হয়েছে তা অপূরনীয়। শিক্ষার্থীদের তো ক্ষতি হয়েছেই। সেক্ষেত্রে তাদের ক্ষতির পরিমাণটা কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দ্রুত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া উচিত।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত