প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ, ১৩ দিনে নিহত ২৮৩, আহত ৩১৯

শরীফ শাওন: [২] যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তথ্যমতে, বিগত ২০১৯ সালের ঈদুল ফিতরের ঈদযাত্রায় ১৮৫ সড়ক দুর্ঘটনায় ২২১ জন নিহত ও ৬৫২ জন আহত হয়েছিল, এছাড়া ২০২০ সালের ঈদুল ফিতরে ১৪৩ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬২ জন নিহত, ২৭১ জন আহত হয়েছে।

[২] শনিবার পরিষদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক এবারের প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। এসময় ট্রেনে কাটা পড়ে ১ জন ও নৌ-পথে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছড়াও নৌপথে বাংলাবাজার ফেরি ঘাটে ফেরিতে হুড়াহুড়িতে পদদলিত হয়ে ৫ জন নিহত ও শতাধিক অসুস্থ হয়েছিল।

[৩] ৮ মে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছে, ৯ মে ১৪টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত ১৬; ১০ মে ১৬ দুর্ঘটনায় নিহত ১৯, আহত ১৭; ১১ মে ১৫ দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত ২৬; ১২-১৬ মে ৮০ দুর্ঘটনায় নিহত ১০৮, আহত ১৬৬; ১৭ মে ২০ দুর্ঘটনায় নিহত ২৭, আহত ২৩; ১৮ মে ১৩ দুর্ঘটনায় নিহত ১৫, আহত ১০; ১৯ মে ২৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪, আহত ১২ এবং ২০ মে ১৭ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২২ জন, আহত হয়েছেন ৩০ জন।

[৪] প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ উপস্থাপনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুদ্দীন চৌধুরী জানান, লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ছোট যানবাহনে যাত্রী চাপ, ফাঁকা রাস্তায় চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অদক্ষ চালক হাতে দৈনিক চুক্তিতে যানবাহন ভাড়া দেয়া, ফিটনেসবিহীন যানবাহনে যাত্রী বহন, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, নছিমন-করিমন অবাধে চলাচল, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, পণ্যপরিবহনের যানে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে যাত্রী বহন, যাত্রীদের ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব, টিনএজারদের বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল এইসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

[৫] পর্যবেক্ষণে দেখা যায় মোট যানবাহনের ১৯টি বাস-মিনিবাস, ৬৭ টি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ, ৩৪ টি কার-মাইক্রো, ৪৫ টি নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিকশা, ৯৩টি মোটরসাইকেল, ১৭টি অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬৩টি গাড়িচাপায়, ৮০টি সংঘর্ষ, ১৬টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, অন্যান্য কারণে ৬৫টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

[৬] এবারের ঈদে নরসিংদীতে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে রাজধানীর নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের ডাঃ জহিরুল হক ও ডাঃ তুহিন, গাজীপুরে র‌্যাব-৪ এর সার্জেন্ট খায়রুল ইসলাম, সাভারে মিরপুর কম্বাইন্ড স্কুলের শিক্ষিকা মিরা আরফিন, লালমনিরহাট জেলা মটর মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং আরজি পরিবহনের মালিক অনুপ কুমার বাপ্পী, পটুয়াখালীতে সাবিনা আক্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিনা আক্তার, সিলেট ব্রাক্ষণগ্রাম হযরত শাহজালাল (রঃ) ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আমিরুল ইসলাম প্রমুখ মারা যায়। এছাড়াও ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আজীম, কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, নাটোরের বড়াইগ্রামে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. শামীম হোসেন ও তার স্ত্রী-পুত্র দুর্ঘটনায় আহত হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত