প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কায় ভারতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক সূচক

রাশিদ রিয়াজ : গত বছরে করোনাভাইরাসের ধকল সামলিয়ে ভারতের অর্থনীতি বেশ ভালই পুনরুদ্ধার কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ বছর ১৩ শতাংশ হবার পূর্বাভাস দেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা বা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের কবলে পড়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখন ১১ শতাংশের নিচে থাকবে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। দি প্রিন্ট
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা ভারতের অর্থনীতিটিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে শুরু করেছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় এবার একই সময়ে তা আরো হ্রাস পাবে। কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা না থাকলে ভারতের অর্থনীতি কোভিড পূর্বাস্থায় পৌঁছে যেত। ২০২১-২২ সালে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিট অর্থাৎ ১২ থেকে ১৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারত। জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে ১৩ শতাংশ না হলেও ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবছর ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে মুডি’র বিশ্লেষণ বলছে আগে এ প্রবৃদ্ধি ১৩.৭ শতাংশ হবে বলা হলেও এবছর তা ৯.৩ শতাংশে নেমে যাবে। এর মূল কারণ অর্থনীতির পুনরুদ্ধার দারুণভাবে হোঁচট খেয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোভিড সংক্রমণে ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির পরিমাপক এমন কিছু মূল সূচক রয়েছে যা গত কয়েকমাস ধরে অব্যাহতভাবে পুনরুদ্ধারের গতি হারাচ্ছে। রফতানি পরিস্থিতির উন্নয়ন হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও পণ্য সরবরাহ কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কায় মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। কোভিডের প্রথম ধাক্কার সময় ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি দ্রুত সংক্রমণের কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত এপ্রিলে উৎপাদনশীল খাতে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এক্ষেত্রে রফতানি অর্ডার বৃদ্ধি ভূমিকা রাখছে। তবে অভ্যন্তরীণ খাতে এধরনের চাহিদা সৃষ্টি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে ভারতের শ্রমবাজারে। সেন্টার ফর মনিটরিং ইকোনোমি বলছে গত এপ্রিলে সাড়ে ৭৩ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে। গত বছর ভারতে শ্রমবাজারের অবস্থা এত খারাপ ছিল না। এ পরিস্থিতি গ্রামীণ বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় পর্যায়ে লকডাউন আরোপ করা হয় কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্যে কিন্তু তা গ্রামীণ শ্রমবাজারকে আরো সঙ্কটে ফেলে দেয়। গত এপ্রিলে মহাত্মা গান্ধী ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিমের অধীনে ২.৪৫ কোটি পরিবার তাদের কাজের কথা জানিয়েছে। কোভিডের দ্বিতীয় ধাক্কা ভারতের ভোক্তাদের মনেও প্রভাব ফেলেছে। যানবাহন বিক্রি কমেছে ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। গত এপ্রিলে ট্রাক্টর বিক্রি কমেছে ডাবল ডিজিটে। এপ্রিলে জিএসটি রাজস্ব আদায় রেকর্ড পরিমান ১.৪১ লাখ কোটি রুপিতে পৌঁছালেও পণ্যের চালান ও আর্থিক কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে ৫.৮ কোটি রুপি। এপ্রিলে ইস্পাত ও জালানি চাহিদা হ্রাস পেয়েছে।

তবে ভারতের সেবা, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কেবলি পুনরুদ্ধারের পথে আগাতে চাচ্ছে। কোভিড সংক্রমণের আতঙ্ক এখনো না কাটায় পারত পক্ষে ভারতের নাগরিকরা ঘরের বাইরে বের হতে চাচ্ছেন না। যাত্রীর অভাবে ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলো অস্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবং এসব খাতে পুনরুদ্ধার সম্ভাবনা কেবল কোভিড সংক্রমণ হ্রাস পেলে বা ভোক্তাদের মনে আস্থা ফিরে এলেই সম্ভব। জরিপে দেখা গেছে ভোক্তা সংবেদনশীলতার সূচক এপ্রিলে ৩.৮ শতাংশ কমেছে। মূল্যস্ফীতি এপ্রিলে হ্রাস পেয়ে ৪.২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগে সারাভারতে ললকডাউনের ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে যা খাদ্যমূল্যস্ফীতি ঘটিয়েছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, টিকা দেওয়ার দ্রুত গতি এবং একটি শক্তিশালী সরকার অর্থনৈতিক উদ্দীপনা প্যাকেজের কারণে দেশটির অর্থনীতির গতি ৪.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতেও অর্থনীতির পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার সাথে সাথে পণ্যগুলির উচ্চতর দাম মুদ্রাস্ফীতিতে চাপ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত এপ্রিলে ভারতের ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ৫.৭ শতাংশ হওলে তা ধীর গতিতে প্রসারিত হয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন চাহিদা ছাড়াও, ব্যাংকগুলি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে পড়েছে কারণ অনাদায়ী ঋণ তাদের ভারসাম্যগুলি দুর্বল করতে পারে। ব্যাংকগুলির ঝুঁকি এড়ানোর পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বাড়তে থাকায় এখন কোভিড সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব হলে এধরনের বিনিয়োগ প্রবণতা আরো বাড়তে পারে। কিন্তু তা না হলে অর্থাৎ সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার এবং দ্রুত পরিবর্তনকারী ভাইরাস ধীরগতির সময়কাল বাড়িয়ে তুললে এবং টিকাদানকর্মসূচিতে গতি সৃষ্টি করতে না পারলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে গতি ফিরে আসা হবে খুবই কঠিন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত