প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডেকে নিয়ে বিয়ে করেননি প্রেমিক, আত্মহত্যা করলেন প্রেমিকা

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে না হওয়ায় অভিমানে এক তরুণী (১৮) আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে প্রেমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের ভাই। পুলিশ প্রেমিক আরমানকে গ্রেফতার করেছে। ঢাকা পোস্ট

বৃহস্পতিবার (২০ মে) বিকেলে উপজেলার ফুলচৌকি গ্রামে প্রেমিক সাব্বির হোসেন আরমানের নানার বাড়ি থেকে ওই তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুজ্জামান।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মিঠাপুকুর উপজেলার চেংমারী ইউনিয়নের চেংমারী গ্রামের ওই তরুণীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী তিলকপাড়া গ্রামের আবদুল হাকিমের ছেলে সাব্বির হোসেন আরমানের প্রায় এক বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দুজন নিয়মিত মোবাইল ফোনে কথাবার্তা বলতেন এবং বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ঘুরে বেড়াতেন।

বুধবার (১৯ মে) বিকেলে প্রেমিক আরমান বিয়ের কথা বলে ওই তরুণীকে নানা আবদুর রশিদের বাড়ি ফুলচৌকি গ্রামে ডেকে নিয়ে যান। কথা ছিল সেখানে তারা বিয়ে রেজিস্ট্রি করবে। কিন্তু সন্ধ্যায় নানার বাড়ি এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের দুজনকে আটক করে। পরে তারা বিয়ে করবে বলে জানান।

স্থানীয় ময়েনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাজেদুর রহমান তুহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের বিয়ের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে প্রেমিক আরমান ওই তরুণীকে বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার ভোররাতে প্রেমিক আরমানের নানার বাড়িতেই একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই তরুণী। তিনি স্থানীয় শুকুরেরহাট আলিম মাদরাসার আলিম প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

এ ব্যাপারে ওই তরুণীর বড় ভাই বলেন, তার বোনকে বিয়ের প্রলোভনে আরমান দীর্ঘদিন বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বেড়িয়েছে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বুধবার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অন্যত্র ডেকে নিয়ে বিয়ে না করায় ক্ষোভে অভিমানে তার বোন আত্মহত্যা করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য তুহিন বিয়েতে বাধা সৃষ্টি না করলে তার বোনকে এভাবে মরতে হত না। এ ঘটনার জন্য ইউপি সদস্য তুহিন ও প্রেমিক আরমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রেমিক আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত