শিরোনাম
◈ বাংলাদেশিসহ শতাধিক অভিবাসী আটক বসনিয়া-ক্রোয়েশিয়া সীমান্তে ◈ দুই হাজার আইফোনসহ কক্সবাজারে ৬ চীনা নাগরিক গ্রেফতার ◈ চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনলে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা কী? ◈ ‘চিকেনস নেক’ ঘিরে ২ হাজার কোটি রুপির মহাসড়ক বানাচ্ছে ভারত ◈ বাংলা‌দেশ দল আ‌সিয়ান কাপ খেলতে ১৯ সে‌প্টেম্বর ইন্দো‌নে‌শিয়ায় রওনা হ‌বে ◈ ‘এমন উদ্ধার অভিযান বিশ্বে আগে ঘটেনি’ : বিশেষজ্ঞ ◈ সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ‌বি‌শেষ বিদায়ী প্রী‌তি ম‌্যা‌চে মেসি আর্জেন্টিনার জার্সিতে ফির‌ছেন!  ◈ পে-স্কেল বাস্তবায়নে বাজারে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে? ◈ পরমাণু যুদ্ধের ভয় কি হারিয়ে ফেলছে বিশ্ব?

প্রকাশিত : ২০ মে, ২০২১, ০৯:১৬ রাত
আপডেট : ২০ মে, ২০২১, ০৯:২০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাশরাফির কাছ থেকে ভারতীয় রাজনীতিবিদদের শেখা উচিত: আনন্দবাজার

ডেস্ক রিপোর্ট: অনিয়ম-দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এবার তার ওই বক্তব্য নিয়ে ভারতেও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

‘রাজনীতির মঞ্চের নতুন অধিনায়ক ওপারের মাশরফিকে দেখে এপারের দাদা-দিদিরা যেন শেখেন’ শিরোনামে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটার বা অধিনায়ক হিসেবে মাশরফি বিন মুর্তজা কতটা সফল তা পরিসংখ্যানই বলে দেয়। তবে তার আরও একটি পরিচয় আছে। বাংলাদেশের সংসদ সদস্য তিনি। যুব এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্যও। নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিক্ষোভকারী জনতাকে শান্ত করছেন মুর্তজা। ভারতীয় নেটিজেনদের আর্জি, মোর্তাজাকে দেখে যেন এই দেশের নেতারা শিক্ষা নেন।’

আনন্দবাজার পত্রিকায় সেই বক্তব্য সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়, জনতার উদ্দেশে মুর্তজা বলছেন, “আমি যে ৩ কিলোমিটার রাস্তা এলাম, দেখলাম ইটের দেওয়াল ভাঙা। বৃদ্ধ মহিলা, আমার মায়ের বয়সি, পায়ে ধরছেন। দেখলাম তাঁর ঘর ভেঙে গিয়েছে। কার ইন্ধনে করছেন এমন? তারা আপনাদের কী দেয়? খেতে দেয়? ধরে নিলাম আমার কথাতে করেছেন। আমি খেতে দিই? পরতে দিই? ছেলে মেয়ের পড়াশোনা করাই? হাসপাতালে ভর্তি করে দিই? তা হলে আমি কীসের নেতা?” এমন একের পর এক প্রশ্নে জনতাকে শান্ত করতে থাকেন তিনি।

মুর্তজা বলেন, “আমার কথায় আপনি মারামারি করছেন। জেলে গেলে আপনার ছেলে মেয়ে দেউলিয়া হয়ে যাবে। পুলিশের কাজ পুলিশ করবে। আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে। ঢাকা থেকে নেতা বলছে মেরে দিতে, আপনি মেরে দিলেন। আপনি জেলে যাবেন। সে এসে আপনার মামলা লড়বে? জেল তো আপনারাই খাটবেন। ওসি সাহেব এসে ধরে নিয়ে চলে যাবেন। মারামারি করবেন না। কথা বলে মিটিয়ে নিন। আপনারা কিন্তু কথা দিলেন আমাকে যে মারামারি করবেন না।”

আদর্শ নেতার মতো সবাইকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক। নেটাগরিকরাও ভালবাসায় ভরিয়ে দিলেন তাঁকে। কেউ লিখলেন, 'প্রতিটা কথা মনের কথা। সাধারণ মানুষ এই জিনিসগুলো যত তাড়াতাড়ি বুঝবে ততই ভাল'। কেউ বললেন, 'এপারের (ভারতের) নেতাদেরও এটা শেখা উচিত'।

প্রসঙ্গত, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখার চর গ্রামে মঙ্গলবার বিকালে নদীভাঙন ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে গিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্যে মাশরাফি বলেন, ঈদের নামাজ আপনারা ৩০টা রোজা রেখেও পড়তে পারেননি! অমুক নেতা ঢাকায় বসে বলছে মাইরে দিয়ে আয়, আপনি মেরে দিলেন! মাইরে দিয়ে এসে আপনার কী হলো, আপনি বুঝলেন না। সে কি আপনার মামলা লড়ে? কোনো দিন লড়ছে? জেল যা খাটার তা তো আপনারাই খাটছেন, নাকি? খাটছেন না?

তিনি বলেন, তারা আপনাদের কী দেয়? খাইতে দেয়? এই ধরেন আমার কথায় আপনারা এইগুলো করতেছেন, ধইরে নিলাম! আমি আপনাকে খাইতে দিই? পরতে দিই? ছেলেমেয়ের পড়াশোনা করাই? হাসপাতালে ভর্তি করাই? তাহলে আমি কিসের নেতা! আমার কথায় আপনি আরেকজনকে মেরে ফেলবেন! মারামারি করবেন তো খবর আছে। কেউ মারামারি করবেন না, এইবার কিন্তু কোনো পিরিত হবে না!

মাশরাফি বলেন, এই এলাকায় আসলাম পুরো রাস্তাটাই ছিল খারাপ। এখন পর্যন্ত কারও মুখে শুনলাম না যে ভাই আমাদের এই রাস্তাটা ঠিক করে দেন। শুধু রাস্তার মাঝপথে একজন মায়ের বয়সী নারী আমাকে অনুরোধ করলেন, বাবা, আমাদের এই রাস্তাটা একটু ঠিক করে দেন।

  • সর্বশেষ