প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মসজিদে আকসায় পাঁচ’শ বছর ধরে আজান দেয় যে পরিবার

জেরিন আহমেদ : [২] মুসলমানদের ইবাদত করার জন্য সবচেয়ে উত্তম স্থান এ মসজিদ। ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদটি অবস্থিত জেরুজালেমের পুরনো শহরে। মসজিদুল আকসা নামে পরিচিত। যার কথা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন।

[৩] বংশ পরম্পরায় পাঁচ শতাব্দীকাল ধরে মসজিদে আকসায় আজান দেয়ার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে কাজ্জাজ পরিবার।

[৪] বর্তমানে এ পরিবারের অষ্টম পুরুষ ফিরাস আল কাজ্জাজ মসজিদে আকসায় মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন ফজরসহ তিন সময় তাঁর আজানের ধ্বনি ভেসে আসে মসজিদে আল আকসার মিনার থেকে। সুমধুর কণ্ঠে তাঁর আজান শুনে জেগে ওঠেন পূর্ব জেরুজালেমবাসী।

[৫] ৩২ বছর বয়সী ফিরাস আল আকসা মসজিদের কনিষ্ঠতম মুয়াজ্জিন। মসজিদে আকসার সন্নিকটে আল সিলসিলা রোডের পাশে তাঁর পরিবারের বসবাস। তবে কয়েক বছর ইহুদিদের আবাস সম্প্রসারণ করতে গিয়ে তাঁর ঘরও ভেঙে ফেলা হয়।

[৬] ৮০ বছর বয়সী বাবার সঙ্গে পালাক্রমে ফিরাস প্রথম দিকে আজান দিতেন। তাঁর বাবাও ৪০ বছর যাবৎ আল আকসায় আজান দিয়েছেন। এখন ফিরাস ফজর, মাগরিব ও ইশার নামাজের আজান দেন। আর ফিরাসের বাবা দিনেরবেলা জোহর ও আসরের সময় আজান দেন। ফিরাস জানান, ‘ছোটবেলায় আমি বাবার সঙ্গে মসজিদে আকসায় যেতাম। তখন আমার ১০ বছরও অতিক্রম হয়নি। তখন খুব কাছ থেকে আমি আজান শোনার সুযোগ পাই’।

[৭] ফিরাসের পরিবারের মূলত বর্তমান সৌদি আরবের হেজাজের অধিবাসী। পাঁচ শ বছর আগে তাঁর পূর্ব পুরুষ মসজিদে আকসায় আসেন। সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী হওয়ায় উসমানি সম্রাজ্যের দায়িত্বশীলরা তাঁকে মসজিদে আকসার মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে বংশ পরম্পরায় তাঁরা আজান দিয়ে আসছেন।

[৮] মূলত জিকির ও ধর্মীয় সংগীতচর্চাই সুফি ধারার এ পরিবারের অন্যতম ঐতিহ্য। তাই পারিবারিক সূত্রে শৈশব থেকে জিকির ও ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে তিনি বেড়ে উঠেছেন।

[৯] এ এলাকায় অসংখ্য নবী–রাসূলের স্মৃতিবিজড়িত, এর আশপাশে অনেক নবী–রাসূলের সমাধি রয়েছে। এটি দীর্ঘকালের ওহি অবতরণস্থল, ইসলামের কেন্দ্র এবং ইসলামি সংস্কৃতির চারণভূমি ও ইসলাম প্রচারের লালনক্ষেত্র। এ পবিত্র ভূমির প্রতি ভালোবাসা প্রথিত রয়েছে প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ের গভীরে। সূত্র : ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর, ডেইলি বিডি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত