প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঘূর্ণিঝড় তওকতের তাণ্ডব মোকাবিলায় গুজরাটে সেনা মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রচণ্ড শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যমে ‘অত্যন্ত মারাত্মক ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হওয়া ‘তওকত’র আঘাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ভারতের গুজরাট প্রদেশে সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে গুজরাট উপকূলে এই ঘূর্ণিঝড় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে আঁছড়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ।

ইতোমধ্যে অতিপ্রবল এই ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ধ্বংসাত্মক বাতাস প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ বলছে, গুজরাট উপকূলের পরবন্দর ও মাহুভা এলাকার ওপর দিয়ে এই ঝড়ের তাণ্ডব চলতে পারে। বর্তমানে এই ঝড় গুজরাটের দিউ উপকূল থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী গুজরাটের উপকূলীয় এলাকায় ‌অত্যন্ত মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় তওকতের আঘাত আসন্ন হওয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর শাখাগুলো ত্রাণ ও সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, উদ্ধার ও পুনর্বাসন তৎপরতা চালাতে ইতোমধ্যে সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো গুজরাটে মোতায়েন রয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাসে বলেছে, ঘূর্ণিঝড় তওকত অত্যন্ত ভারি থেকে তীব্র বর্ষণ ঘটাতে পারে গুজরাটে। এর ফলে নিম্নাঞ্চলগুলোর সঙ্গে রাজ্যের কিছু অংশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
অত্যন্ত শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড় গুজরাটে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০০ কিলোমিটার বেগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতাসের এই গতিবেগে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়তে পারে। গুজরাটের সরকার ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি বাসিন্দাকে উপকূলীয় এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।

এদিকে, মহারাষ্ট্র প্রদেশের উপকূলীয় এলাকা থেকেও হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ইতোমধ্যে ঘূর্ণিঝড় তওকতের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের কার্যালয় সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে বলেছে, রাজ্যে এই ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ৬ জন নিহত ও আরও ৯ জন আহত হয়েছেন। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাতে গুজরাটে আঘাত হানার পর মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড় তওকত উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। আরব সাগরে উৎপত্তি হওয়া তওকতের প্রভাবে ভারতের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বহু গাছ উপড়ে পড়েছে। উপকূলে আঘাত হানার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তওকতের প্রভাবে কর্নাটক, কেরালা, গোয়া রাজ্যের ওপর দিয়ে প্রবল ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায়, ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় সাগরে প্রবল ঢেউ দেখা দেয়। এই রাজ্যগুলোতে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও বৈদ্যুতিক লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘূর্ণিঝড় থেকে বাঁচাতে গুজরাট উপকূলের নিচু এলাকাগুলো থেকে দেড় লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পোরবন্দর, আমরেলি, জুনাগড়, গির সোমনাথ, ভাবনগরের উপকূল ও আহমেদাবাদের উপকূল এলাকায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

ভারতে করোনার প্রকোপে সবচেয়ে বিপর্যস্ত রাজ্যগুলোর একটি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি যতটা সম্ভব সবাইকে বাড়ির ভেতরে থাকার অনুরোধ করেছেন। তিনি কর্মকর্তাদের হাসপাতাল ও অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মুম্বাই বিমানবন্দর। স্থানীয় সময় সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মুম্বাই বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের মাত্রা বৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে।
সূত্র- ঢাকাপোস্ট

সর্বাধিক পঠিত