প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনা ঝুঁকি নিয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

নিউজ ডেস্ক : ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী সাধারণ মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। যানবাহন সংকট আর বাড়তি ভাড়ার কারণে তাদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় তারা সিএনজি, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মোটরবাইকে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন। জেলার বাসগুলো সরাসরি ঢাকার দিকে না যাওয়ায় গন্তব্যে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ফলে করোনা ঝুঁকি নিয়েই ভেঙে ভেঙে বাস-ট্রাক ও পিকআপে গাদাগাদি করে ঢাকা ও গাজীপুরে ফিরছেন শ্রমজীবী মানুষ। বাংলাট্রিবিউন

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কনসেন্দপুর গ্রামের আরমান হোসেন। চাকরি করেন গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকার একটি পোশাক কারখানায়। তিনি বলেন, ‘সামনে নাকি আরও কঠোর লকডাউন দেবে সরকার। তাই তাড়াতাড়ি চলে আসছি। সময় মতো অফিসে যোগ দিতে না পারলে চাকরি হারাতে হবে।’

মকবুল হোসেন ও তার স্ত্রী শেফালী বেগম চাকরি করেন হোতাপাড়া এলাকার সাফা সোয়েটার কারখানায়। তারা বলেন, ‘ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় জামালপুরের ইসলামপুর থেকে কর্মস্থলে যাচ্ছি। জামালপুর থেকে ভেঙে ভেঙে ৯শ’ টাকা ভাড়া দিয়ে মাওনা পর্যন্ত আসতে পেরেছি। সব জায়গাতেই কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে।’

জামালপুর সদর উপজেলার শৈলেরকান্দা গ্রামের আব্দুল কাদের, তিনি শ্রীপুরের এসকিউ সোয়েটার কারখানায় কোয়ালিটি সেকশনে চাকরি করেন। ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে এসেছেন। সঙ্গে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে থাকায় বিপাকে পড়তে হয়েছে তাকে। তাদের কথা ভেবে বেশি ভাড়া দিয়ে প্রাইভেটকার ভাড়া করে গন্তব্যে পৌঁছেছেন তিনি।

রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী গ্রামের সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আগামীকাল কারখানা খুলবে। এ পর্যন্ত সিএনজি ও অটোরিকশায় এসেছি। বাস সরাসরি গাজীপুরে আসছে না। বাড়তি ভাড়া দিয়ে কয়েকবার গাড়ি পরিবর্তন করে গন্তব্যে আসতে পেরেছি।

শেরপুরের শ্রীবর্দী উপজেলার কালীবাড়ী থেকে আসা কারখানা শ্রমিক আনোয়ার হোসেন ও রফিক মিয়া জানান, অনেক কারখানায় পুরোপুরি না খুলে শুধু শিপমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক সেকশন খোলা রাখা হয়েছে। ছুটি ৬ দিন থাকলেও ভিড় এড়াতে আগেভাগে চলে এসেছেন তারা। ভাড়া বেশি নিলেও রাস্তা ফাঁকা থাকায় কম সময়ে এবং আরামে আসতে পেরেছেন বলেও জানান তারা।

জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা। কোনও ট্রাক বা পিকআপ দাঁড়াতে দেখলেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। নারী-পুরুষ, শিশু গাদাগাদি করে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই খালি টাক ও পিকআপে ওঠে কর্মস্থলে যাচ্ছেন।

ঢাকার মগবাজারে ব্যবসা করেন গফরগাঁওয়ের আব্দুল জলিল ও আকতার হোসেন। তারা বলেন, ‘বছরে দুটি ঈদে বাড়িতে আসি। এছাড়া বাড়িতে আসা হয় না। বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখাও হয় না। সব সময় তাদের জন্য মন কাঁদে। বছরের দুই ঈদে ভোগান্তি নিয়েই বাড়িতে ছুটে আসি।’

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে কাজ করছেন তারা। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করে পুনরায় কর্মস্থলে যাচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। তাই এ মুহূর্তে গন্তব্যে যাওয়া গাড়িগুলো চেক করার সুযোগ নেই। কারণ, একটি গাড়ি থামিয়ে দিলে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজট লেগে যায়। এতে কর্মস্থলে যাওয়া যাত্রীরা আরও বেশি বিরক্ত ও বিড়ম্বনায় পড়বেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত