প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদে যে সাজে আকর্ষণীয় দেখাবে আপনাকে

ফাতেমা আহমেদ : ঈদ মানেই খুশি, আনন্দ। ঈদ মানে বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে উৎসবে মেতে ওঠা। ঈদ মানে নতুন জামাকাপড় পড়ে ঘুরতে যাওয়া, ঈদ নিয়ে জোর মাতামাতি। এদিনে কাজের যত চাপই থাক না কেন, নতুন জামাকাপড়ে নিজেকে সাজিয়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না কেউ। ঈদের দিনের পোশাক, সাজগোজ নিয়ে চিন্তাভাবনা চলে বহুদিন ধরে। তবে আকর্ষণীয় দেখাতে চাই সঠিক পরিকল্পনা এবং মানানসই সাজের। সাজসজ্জার ক্ষেত্রে- বয়স, চেহারার গড়ন বিবেচনা করে পোশাক নির্বাচন করা উচিত।

কেমন হবে ঈদের দিনের পোশাক: ঈদের দিন পোশাক হোক একটু আরামদায়ক। এক্ষেত্রে হালকা সুতি হলে বেশি ভালো হয়। শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, আনারকলি যাই হোক না কেন, তার সঙ্গে ম্যাচিং করে পরা যায় দুটি চুড়ি, পায়ে দু ফিতের ডিজাইনার চটি। তবে সুতি পরতে না চাইলে এদিন শিফন, জর্জেট, ঢাকাই জামদানি, মসলিন, টাঙ্গাইল, সিল্ক, জামদানির শাড়ি, জরদৌসি কাজ করা আনারকলি বা সালোয়ার কামিজ পরা যেতে পারে। আবার সিল্কের সালোয়ার কামিজও হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দের।

ঈদের দিনে কাজের ভিড়ে নিজেকে সুন্দর দেখাতে হলে একটু সচেতন হতেই হয়। সকাল, দুপুর ও রাতের সাজ হোক পৃথক পৃথক। সকালে কাজের চাপ থাকে, তাই চলাফেরা করতে সহজ হয় এমন কোনও পোশাক বেছে নিন। সকালে নিজের পছন্দের রঙের হাল্কা জামাকাপড় পরুন। যাতে চলাফেরা ও কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতে পারেন। সকালের মেকআপও হোক হাল্কা। চোখে কাজল পরতে চাইলে কালোর স্থানে বাদামি কাজল পরুন। মুখে লাগান ফাউন্ডেশন ও তার ওপর পাওডার। সকালে সালোয়ার কামিজ পরলে, তার সঙ্গে সাজগোজও করুন ন্যাচরাল ও শুভ্র। চোখে কাজল লাগান। এসময় ঠোঁটে হালকা রঙের লিপিস্টিক লাগাতে পারেন। চুলে টাইট বা আলগা করে খোপা করতে পারেন বা বিনুনি করেও ছেড়ে রাখতে পারেন।

দুপুরের জন্যও হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন। জামদানি, সিল্কের শাড়ি পরুন। মুখে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পাওডার লাগিয়ে নিন। হাল্কা রঙের বøাশঅন লাগাতে পারেন দুই গালে। ঠোঁটে লিপস্টিকের পরিবর্তে লিপগ্লস লাগাতে পারেন। আবার লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট এঁকে লিপস্টিকও লাগানো যেতে পারে। চোখে আইলাইনার লাগিয়ে এর ওপর লাগাতে পারেন শেড করা আইশ্যাডো। আইলাইনার দিয়ে টানা টানা চোখ আঁকতে পারেন। এবার আইশ্যাডোর পালা, এর জন্য চোখের পাতায় প্রথমে বেজ কালার করে নিন। তারপর এক রঙের বা শেড করে দুই রঙের আইশ্যাডো লাগান। পোশাকের সঙ্গে মানানসই ছোটো দুল পরুন কানে। গলায় পরুন পেন্ডেন্ট দেওয়া চেন।
সারাদিনের কাজের ঝক্কি সামলে, রাতে স্বস্তি পেতে পারেন। তাই রাতে চুটিয়ে সাজুন। আশপাশে কোনও আত্মীয়ের বাড়ি গেলে বা বন্ধুবান্ধবদের আমন্ত্রণ জানালে একটি সুন্দর শাড়ি পরুন। ভারি আনারকলি বা সালোয়ার কামিজও পরতে পারেন। মুখ, গলায় ফাউন্ডেশন লাগিয়ে কমপ্যাক্ট পাওডার লাগিয়ে নিন। চোখের পাতায় লাগান মাসকারা। এ সময় সুন্দর করে আইলাইনার লাগিয়ে গাঢ় রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন।

রাতের সাজের জন্য জমকালো একটি শাড়ি বেছে রাখলে মেক আপ করুন পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল। চোখের ওপরে অ্যাকোয়া বøæ এবং গ্রে আইশ্যাডো একসঙ্গে মিলিয়ে লাগান। চোখের ইনার কর্নারে গোল্ড বা শিমারি পিঙ্ক আইশ্যাডো স্মাজ করে লাগিয়ে নিন। তবে গালের জন্য হাল্কা রঙের বøাশার বেছে নিন। বøাশারের রঙ বেশি উজ্জ্বল না-হওয়াই ভালো। সকালের মতো রাতের সাজের জন্যও হাল্কা রঙে লিপস্টিক বেছে নিন। লিপস্টিকের ওপর সামান্য লিপগ্লসও লাগাতে পারেন।

পুরুষদের সাজ: এদিন পুরুষরা পায়জামা-পঞ্জাবি পরতে পারেন। আবার চুড়িদারের সঙ্গেও ডিজাইনার পাঞ্জাবি পরা যায়। পঞ্জাবির ওপর চড়িয়ে নিতে পারেন একটি ডিজাইনার কোট। শিশু সাজবে রঙিন পোশাকে : শিশুরা মানেই আনন্দ, উচ্ছলতায় ভরপুর। রঙিন পোশাকে তারা উৎসবে মেতে ওঠে রঙিন প্রজাপতি। আর ঈদের দিন সকালেই সেজে আনন্দ পায় তারা। আপনার পছন্দের পোশাক নয়, ঈদের সকালটা কাটুক ছোট্ট সোনামণির নিজের পছন্দের পোশাকে। এতে ওর আনন্দ হবে বেশি।

মেয়ে শিশু হলে চুল আঁচড়ে এক পাশে লাগিয়ে দিন হেয়ার ক্লিপ। চাইলে হেয়ার ব্যান্ডও ব্যবহার করতে পারেন। অনেকেই ছোট শিশুদের ভারী সাজে সাজান, যা তাদের বয়সের সাথে বড্ড বেমানান। ওরা নিজের চঞ্চলতার সাজেই সুন্দর। তাই চিকন কাজলের রেখা, হালকা লিপগøসে সাজান তাকে।

ছেলে বাবুদের ঈদের সাজ বলতে মূলত পোশাকই বোঝানো হয়। পাঞ্জাবী না টি শার্ট? পছন্দ ছেড়ে দিন ওর ওপর। তবে ঈদের সকালে ভারী শার্ট না পরানোই ভালো। এক্ষেত্রে সুতি ফতুয়া বা গেঞ্জি পরাতে পারেন। সূত্র :ঢাকাটাইমস, হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত