প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিডে চরম সংকটে পরিবহন শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা

মিনহাজুল আবেদীন: [২] কোভিডে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের অনেকেই ঘর ভাড়া দিতে পারছে না। কেউ কেউ চলছে সমিতি বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে। শ্রমিক কল্যাণ ফান্ড বা মালিক সমিতির পক্ষ থেকে শ্রমিকদের কোনও খোঁজ খবর নেয়া হয় না। অসহায়ত্ব আর দারিদ্রতার মধ্যে দিন পার করছে অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক।

[৩] শ্রমিক নেতা ইমাম হোসেন খোকন বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা খেটে খাওয়া মানুষ, চাকা ঘুরিয়ে আয় করে, মজুরি পায় দৈনিক হিসেবে। লকডাউনে বেশির ভাগ শ্রমিক কাজ হারিয়েছে। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি মহাখালী শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের মধ্যে চাল, আলু, তেল, ইত্যাদি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই সহায়তা সব শ্রমিকের কাছে পৌছেনি’।

[৪] আন্ত:জেলা বাস পরিবহন শ্রমিক নেতা মো. সেলিম বলেন, ‘কাম নেই তো মজুরি নেই, আমাদের অবস্থা তার বাইরে নয়’। পরিবহন শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কোনও বেতন কাঠামো নেই। ফলে কোভিডে শ্রমিকদের বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তারা প্রতিদিন যা আয় করে, দিন শেষে তাই খরচ করে। সেইজন্য এখন তারা সংকটে পড়েছে।

[৫] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাবতলী রয়েল বাস কাউন্টারের এক কর্মচারী বলেন, যা পুঁজি ছিলো সেই টাকা ভেঙে খাচ্ছি। বিগত ১ বছরে শ্রমিক কল্যাণ তহবিল বা ইউনিয়ন থেকে কোনও সহায়তা পাইনি। গত সপ্তাহে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে মাত্র পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি পেয়াজ, দুই কেজি ডাল পেয়েছি কিন্তু কোনও আর্থিক সহায়তা পাইনি। ৩ মাস ঘর ভাড়া দিতে পারছি না। এদিকে বাড়ির মালিক চাপ দিচ্ছে।

[৬] নাম প্রকাশ না করার শর্তে গাবতলী পূর্বাশা বাসের আর এক কর্মচারী বলেন, কোনও ধরনের আর্থিক সহায়তা পায়নি, বাচ্চার স্কুলের বেতন দিতে পারছি না। সমিতিতে জমা রাখা টাকা তুলে কোনো রকম বেঁচে আছি।

[৭] সায়েদাবাদ বলাকা বাসের শ্রমিক হাসান মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন সংগঠনের নামে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হয় কিন্তু কোনও সহায়তা দেয়া হয় না।

[৮] ঢাকা মহানগরী প্রাইভেট কার ও ট্যাক্সি ক্যাব ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. বিল্লাল শিকদার বলেন, শুধু সরকারিভাবে নয়, বিভিন্ন মাধ্যমে শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হয়। পহেলা বৈশাখ, ঈদ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে ফেডারেশনের সামর্থ্যরে মধ্যে সব ধরনের সহায়তা করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১ হাজার মানুষকে সহায়তা দেয়া হবে। তাদের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহের কাজ চলছে। সব শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয় পত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

[৯] সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা ওসমান আলী বলেন, ২০২০ সালে লকডাউনে শ্রমিকদের সারা বাংলাদেশে বিগত তিন মাসে ১২০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এবার টাকা দেয়া হয়নি, কিন্তু ত্রাণ দেয়া হয়েছে। নিজেদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের চাল, ডাল, তেল, আলু, পিয়াজ দেয়া হয়েছে। রমজান উপলক্ষে মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, টিকাটুলিতে শ্রমিকদের জন্য ইফতার ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

[১০] শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে শ্রমিক ফান্ডের জন্য চাঁদা বরাদ্দ আছে বিশ টাকা। এই টাকাগুলো ব্যয় হয় শ্রমিক নেতা, কর্মচারী, অফিস খরচ, বেতন, ভাতার কাজে অবশিষ্ট টাকা শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের জন্য ব্যয় করা হয়।

[১১] তিনি বলেন, সড়ক দূর্ঘটনায় কোনও শ্রমিক মারা গেলে সরকার তার ক্ষতিপূরণ দেয় না। শ্রমিকদের কেউ মারা গেলে ৪০-৫০ হাজার টাকা কল্যাণ তহবিল থেকে দেয়া হয়। সারা বছর তাদের অসুবিধাগুলো দেখা হয়। অসুস্থ হলে সহায়তা করা হয়, মামলা পরিচালনার খরচসহ সব কিছু এই ফান্ডের মাধ্যমে করা হয়। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত