প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রিমান্ডে নির্যাতন, ১৮ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা

এস এম নূর মোহাম্মদ: ফরিদপুর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে রিমান্ডে থাকাকালীন অবস্থায় আবুল হোসেন (৫০) নামের এক আসামির শনিবার মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবারের অভিযোগ নিরীহ আবুল কোনো অপরাধ করেননি। তাকে রিমান্ডে নিয়া মেরে ফেলা হয়েছে।

রিমান্ডে নির্যাতন হয়েছে বুঝার পরও হত্যা মামলায় দশম শ্রেণির ছাত্রের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করায় চাঁদপুরের তৎকালীন চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যাখ্যা দিতে গত ১৫ মার্চ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। শুনানিতে আদালত বলেন, কোনও বিচারকের দায়িত্ব জবানবন্দি নেওয়ার সময় কাউকে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দী গ্রহণ করলেও তিনি উল্লেখ করেন, আসামির দুই হাতের কব্জির নিচে দঁড়ি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখায় কালো দাগ দেখা যায়। এছাড়া পায়ের ফোলা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রিমান্ডে নির্যাতনের ভয়ে এই জবানবন্দী দিয়েছে।

এর আগে নারায়ণগঞ্জে ‘ধর্ষণের পর খুন হওয়া’ স্কুল ছাত্রী জীবিত ফেরত আসায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনার তিন আসামির পরিবার জানিয়েছিল, তাদের ওপর নির্যাতন করে স্বীকারোত্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়।

নারায়ণগঞ্জে ‘হত্যার পর লাশ শীতলক্ষ্যায় ফেলে দেওয়া’ মামুন নামে এক যুবক ৬ বছর পর ফিরে আসার ঘটনায়ও বেশ আলোচনা হয় সে সময়। অভিযোগ রয়েছে মামলার ৬ আসামিকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দিয়েছে পুলিশ।

রিমান্ডে জোর করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের এমন ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। নির্যাতনের ফলে আটক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগও কম নয়। বিভিন্ন ঘটনায় হাইকোর্টও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মনজিল মোরসেদ বলেন, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় ৪৮ ঘণ্টা, ৭২ ঘণ্টা, ১০০ ঘণ্টা পর্যন্ত পুলিশের কাস্টডিতে থাকে। কারণ গ্রেপ্তার করেও স্বীকার করেনা। রিমান্ড সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে কর্মপদ্ধতিটাই পরিবর্তন হয়ে যাবে।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, সংশ্লিষ্টদের উচিত সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী রেকর্ড করা।

উচ্চ আদালত কোনও আসামি বা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং রিমান্ড বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিলেন ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল। ২০১৬ সালে আপিল বিভাও তা বহাল রাখেন। আসামিকে গ্রেফতারের সময় পরিচয়পত্র দেখানো, গ্রেফতারের কারণ এবং আটকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে আটকৃতব্যক্তির পরিবারকে জানানো সংক্রান্ত কয়েকদফা নীতিমালা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে রিমান্ডে কোন নির্যাতন করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিতে রিমান্ডের আগে ও পরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বজন ও আইনজীবীর উপস্থিত রাখার কথা উল্লেখ রয়েছে রায়ে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারা সংশোধন বিষয়ে আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি রিভিউ আবেদনের শুনানিতে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেন, ২০০৩ সালে রায় দেয়া হয়েছে। বাস্তবায়ন করা না হলে রায় দিয়ে লাভ কী? আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের রিভিউ আবেদন স্পষ্ট নয়। রায়ে যেসব নির্দেশনা রয়েছে সেগুলোর কোথায় কোথায় আপত্তি সেটা সুনির্দিষ্ট করে বলুন। এই রায় পুরোটা রিভিউ হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত