শিরোনাম
◈ মেসি নন, বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল রদ্রির হাতে ◈ বিশ্বকাপ ফুটবল: আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ◈ কাজের আশ্বাস, শেষে ডান্স ক্লাব ও যৌ.ন শোষণের ফাঁদ ◈ পেরুতে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৫ ◈ কারাগার থেকে পালানো সেই নারী কয়েদি রাজধানীতে গ্রেপ্তার ◈ বিশ্বকাপ ফাইনাল: একাদশে তিন পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা, অপরিবর্তিত স্পেন ◈ জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে বেশিদিন রাজনীতি করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ বাংলাদেশের পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে জুলাই শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের ছবি ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা, সিদ্ধান্ত আদালত ও ইসির ◈ কুয়েত প্রবাসীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বার্তা

প্রকাশিত : ০২ মে, ২০২১, ০৭:৫৪ বিকাল
আপডেট : ০২ মে, ২০২১, ০৭:৫৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মো. আসাদুল্লাহ: বোরো ধানে কৃষকের হাসি

মো. আসাদুল্লাহ: “এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না” মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার আলোকে উদ্বুদ্ধ কৃষি মন্ত্রণালয়। বোরোর উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার আহবান জানান মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। চলতি বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ আগের বছরের চেয়ে ৫০ হাজার হেক্টর বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি।

এ বছর (২০২০-২১) বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৮.০৫২ লক্ষ হেক্টর। কিন্তু সরকারের দেয়া প্রণোদনা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাদের প্রেরণামূলক কর্মকান্ডের জন্য লক্ষমাত্রার বিপরীতে অর্জন দাড়ায় ৪৮.৮৩৮ লক্ষ হেক্টর (যা লক্ষমাত্রার তূলনায় ৭৮৬০০ হেক্টর বা ১.৬৪ শতাংশ বেশি)। এখানে আরও উল্লেখ যে, গত বছর হাইব্রিড ধান চাষের অর্জিত জমির পরিমান ছিল ৯.০৪৬ লক্ষ হেক্টর; বিপরীতে এ বছর অর্জিত হয় ১২.১৩৪ লক্ষ হেক্টর (৩.২৭৪ লক্ষ হেক্টর বা ৩৬.৯৫ শতাংশ বেশি)।

গত বছর ৪৭.৫৪৪ লক্ষ হেক্টর বোরো আবাদ হলেও এবছর হয়েছে ৪৮.৮৩৮ লক্ষ হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ১.২৯৪ লক্ষ হেক্টর বা ২.৭২ শতাংশ। গত বছর ৯.০৪৬ লক্ষ হেক্টর হাইব্রিড বোরো ধানের আবাদ হলেও এবছর হয়েছে ১২.১৩৪ লক্ষ হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ৩.২৭৪ লক্ষ হেক্টর বা ৩৬.৯৫ শতাংশ। গত বছর ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার হেক্টর হাওড় অঞ্চলে হাইব্রিড বোরো ধানের আবাদ হলেও এবছর হয়েছে ৪ লক্ষ ৫১ হাজার হেক্টর, অগ্রগতি হয়েছে ৬ হাজার হেক্টর বা ১.৩৬ শতাংশ।

হাওড় এলাকায় এ পর্যন্ত ধান কর্তন হয়েছে ৯০ শতাংশ এবং সারা দেশে কর্তন হয়েছে ৩৮ শতাংশ। গত বছর এই দিনে কর্তন হয়েছিল ১৭.৩৪ শতাংশ।
হাওড় এলাকাগুলোতে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় দেশের উত্তরাঞ্চল এবং হাওড়ের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো হতে প্রায় ৪৭ হাজার ৫৪৩ জন বহিরাগত শ্রমিক যোগান দেয়া হয়। এছাড়াও সরকারি ভর্তূকী প্রদানের মাধ্যমে ১৪০০ কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার, ২৫০ টি রিপার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে ধান কর্তন সহজ হয়েছে। এ বছর ১ এপ্রিল ২০২১ তারিখে সুনামগঞ্জে ধান কর্তনের মাধ্যমে বোরো ধান ঘরে তোলা শুরু হয়েছে। অন্যান্য বছরের তূলনায় এক সপ্তাহ আগাম কর্তন সম্ভব হয়েছে।

সরকার এবার বোরো মৌসুমে দুই লক্ষ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড বীজ বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে। এ ছাড়াও অন্যান্য উৎস হতে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন হাইব্রিড বীজ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। বোরো মৌসুমে রাজস্ব প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা এবং বোরো প্রণোদনা কার্যক্রমের আওতায় আরো ৭৬ কোটি ৪ লক্ষ টাকা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। যার ফলে বোরো উৎপাদনে দৃশ্যমান উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

কোভিড-১৯ জনিত লকডাউন থাকলেও সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দিনরাত কৃষি মন্ত্রী মহোদয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহোদয়সহ সকল কর্মকর্তাবৃন্দ, কৃষি বিজ্ঞানী এবং সম্প্রসারণবিদগন মাঠে থেকে ক্ষতিগ্রস্থ বা আতংকিত চাষীদেরকে এ সময়ে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। মাননীয় কৃষি মন্ত্রী মহোদয় সংশ্লিষ্ট সকলকে উৎসাহ ও মনোবল যোগানোর জন্য কৃষকের মাঠ পরিদর্শন করেছেন।

এ বছর তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল না। মাঠে পর্যাপ্ত রোদ ছিল এবং আর্দ্রতা কম ছিল। এতে ফলন ভালো হয়েছে এবং রোগ-বালাই, পোকা-মাকড়ের উপদ্রব কম ছিল।

হাওড় এলাকায় আকস্মিক বন্যা এড়াতে স্বল্প জীবন বিশিষ্ট ধান এবং হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এতে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া গেছে।

বৃষ্টি বাদল না থাকায় এবং পর্যাপ্ত রোদ থাকায় ধান শুকিয়ে কৃষকরা তা নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারছে। ভালো ফলন এবং তা নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে পারায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। পাশাপাশি এবছর ধানের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এবছর অত্যন্ত খুশি।

এ বছর খাদ্য উৎপাদন ২ কোটি ৫ লক্ষ মেট্রিক টন এর যে লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে আশা করা যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ এর লকডাউন পরিস্থিতির বাস্তবতা স্বত্তেও তার অধিক খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

মো. আসাদুল্লাহ
মহাপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়