প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোবারক হোসেনের ছোট গল্প ‘কখনো রাত পরিণামে চুপিসারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে মোবারক হোসেনের ছোট গল্পের সংকলন ‘কখনো রাত পরিণামে চুপিসারে’। পেশায় ব্যাংকার লেখক একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। ‘কখনো রাত পরিণামে চুপিসারে’ তার প্রথম প্রকাশিত বই।

প্রশ্নঃ ব্যাংকার থেকে লেখক, ব্যাপারটাকে কীভাবে দেখছেন?

-আসলে আমি এভাবে চিন্তা করি নাই কখনো। ব্যাংকার নয়, যে কোন পেশার লোকই সাহিত্য চর্চা করতে পারেন, কোথাও বাঁধাতো নেই। আর ব্যাপারটা নতুনও কিছু নয়। আমি দুই প্রাইভেট ব্যাংকের সিইওকে (একজন সদ্য সাবেক অবশ্য) চিনি যারা অনেকদিন ধরে লিখছেন।

এবং লেখক হিসেবে আমরা যে রকম পারসোনা আশা করি তারা দুজনই সেরকম নন। একজনের নামে তো তার ব্যাংকেরই কর্মী হয়রানির অভিযোগ এনে কত হুলস্থূল কান্ড বাঁধিয়ে দিয়েছেন সাম্প্রতিক সময়ে। আবার আরেক ব্যাংকের সিইও আছেন যিনি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ফাউন্ডার মেম্বারদের একজন কিন্তু তার কোন লেখা বই আকারে বের হয়েছে বলে জানা নেই।

তাই শেষ কথা হলো, লেখার সাথে ব্যাংকার হওয়া না হওয়ার কোন সংযোগ নেই। আর তাছাড়া আমি আসলে নিজেকে লেখক মনেও করি না। একটা কনসেপ্ট নিয়ে চিন্তা করছিলাম অনেকদিন ধরে, মনে হয় না বাংলা সাহিত্যে এই কন্সেপ্টে খুব লেখা হয়েছে, তাই মনে হলো বই বের করি।

প্রশ্নঃ আপনার বইটা পড়া হয়েছে, আমি মনে হয় ধরতে পেরেছি আপনি যে কন্সেপ্টের কথা বলছেন, তবুও পাঠক আপনার মুখ থেকে শুনুক, প্লিজ।

-আমাদের সাহিত্যের একটা সমস্যা হলো সাধারন ব্যাপারগুলো নিয়ে অদ্ভূত ফ্যান্টাসি করা হয়েছে যুগে যুগে কালে কালে। বিশেষ করে নারীকে দেখা হয়েছে দেবীর অবস্থানে রেখে যেটা আমার কাছে একটা অসম্পূর্ন ব্যাপার মনে হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এটা কমন হয়তো, কিন্তু কথা হলো নারীকে কামনা বাসনার আবডালে তার আসল মানুষ পরিচয় যেন হারিয়ে গেছে। আমার লেখায় সেই ব্যাপারটি ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রশ্নঃ আপনার কথার প্রসঙ্গ ধরেই বলি, পুরুষতান্ত্রিক চোখে নারীকে যৌনতার বস্তু ছাড়া আসলে খুব বেশি কিছু ভাবার প্রসঙ্গ আসে কী?

-আসলে আমি এখানেও একটু অপূর্নতা দেখি। এ সমাজে এখনো যৌনতা বিশাল ট্যাবু। ফুলে ফুলে ঘষা লেগে যেন সন্তান তৈরি হয়, বা অনেক সময় দেখবেন বাচ্চাদের প্রশ্নের উত্তরে বড়রা বলে, স্বর্গ থেকে পেটের মধ্যে একটা বাবু আসছে আর তারপর হাসপাতালে গিয়ে আমরা পেট থেকে বের করে নিয়ে আসছি। কিন্তু আদতে ব্যাপারগুলো এভাবে মাথায় ঢুকানো ভুল। যৌনতা গুরুত্বপূর্ন; খাওয়া, ঘুম, বাথ্রুমের মতোই গুরুত্বপূর্ন।

প্রশ্নঃ এসব কারনেই কি আপনার লেখায় যৌনতা এত বেশি?

-(হাসি), যৌনতা কম বেশি বলে কিছু নেই। আমার লেখায় বাথরুম করার ব্যাপারটাও বারবার এসেছে দেখবেন। আমি অন্যদের মতো সহজ সাধারন ব্যাপারগুলো অস্বীকার করে লিখতে চাইনা।

প্রশ্নঃ আবার লেখার প্রসঙ্গে আসি। শুধুমাত্র যৌনতা ছাড়াও অসম যৌনতাও ঘুরেফিরে আপনার গল্পে এসেছে, এর কারন কী বলবেন? বা যদি অন্যভাবে বলি, আপনার কি মনে হয় না, এ ব্যাপারগুলো লেখায় এনে প্রচ্ছন্নভাবে সামাজিক সংস্কারগুলো ভাঙ্গার একটা চেষ্টা আপনার লেখায় আছে?

-প্রথমেই আপনাকে আমি ধন্যবাদ দিতে চাই, একজন পাঠক হিসেবে আমার লেখা আপনি অনেকদূর ধরতে পেরেছেন সেজন্যে। তারপর আসি আপনার প্রশ্নের উত্তরে। অসম যৌনতার যে কথা আপনি বললেন আমি আসলে অসম শব্দটা নিয়ে আপত্তি করবো। দুইজন এডাল্ট নারী পুরুষের যৌনতা অসম হতে পারে না কখনো। আপনি হয়তো বলতে পারেন সমাজ, সংস্কৃতি বা ধর্মের কথা। এগুলো আছে তা ঠিক, কিন্তু প্রশ্ন হলো, এগুলো কি প্রাকৃতিক? অবশ্যই না।

মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই বহুগামি এবং যৌনতানির্ভর সম্পর্কে আগ্রহি। শুধু মানুষ নয়, যে কোন জীব। প্রকৃতির একটাই উদ্দেশ্য, সেটা হলো সৃষ্টি। এবং তার জন্যে যৌন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ন। সমাজ-ধর্ম সেখানে সভ্যতার নামে বাঁধা সৃষ্টি করেছে যেটা অস্বাভাবিক। এর ফল ভাল হওয়ার কোন কারন নাই।

আবার ধরেন মানুষের শরীর, মাথা কীভাবে কাজ করবে তা এখনো অনেকাংশে অজানা। নাহলে কেন একজন তথাকথিত সফল মানুষ যাকে ‘অসম’ বললেন এমন কারো প্রতি যৌনাকার্ষন অনুভব করবে? আমি বলি কেন, কারন হলো এটা ন্যাচারাল। প্রকৃতি আমার আপনার দেয়া বিয়ে, প্রেম এসব নিয়ে থোড়াই কেয়ার করে। সে চায় এমন একটা জোড়া বানাতে যারা যৌনকর্মের মাধ্যমে অধিক উর্বর সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম। সে কারনেই আমার পার্টনার হিসেবে যাকে পছন্দ হবে আপনার তাকে নাও হতে পারে। আর এভাবেই নতুন নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে জীবন এগিয়ে যাবে, আর প্রকৃতির উদ্দেশ্য সফল হবে। আপনি আমি যাতে এই ফাঁদে পা দেই তার জন্যে আমাদের আছে ইনসেন্টিভ যেটাকে বলে যৌন সুখ। ঠিক একই কারণে হাগু করলে বা হিসু করলে এক রকম সুখ পাওয়া যায়।

এবার আসি একটু অন্য প্রসঙ্গে। একজন লেখকের কাজ সমাজ সংস্কার নয়, পৃথিবী পালটে দেয়া নয়। লেখকের কাজ আইডিয়া দেয়া, চিন্তার মাধ্যমে। সেটা ভুল হতে পারে, সঠিক হতে পারে। পাঠক সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বা ছুড়ে ফেলে দিবে। সময়ই আসলে সব ঠিক করে দেয়, দিবে।

প্রশ্নঃ আপনি বইয়ে এক জায়গায় মানুষকে পিঁপড়ার সাথে তুলনা করেছেন!

-আসলে মানব জাতির এই অহমিকা, এই শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই আমি অস্বীকার করি। মানুষ অন্য সব জীবের মতই সাধারন বা অসাধারন। কেউ স্বীকার করবে না কিন্তু জীবনের উদ্দ্যেশ্য, যাপন এবং পরিণতি সবার একই রকম। একজন পিঁপড়া কেন তুচ্ছ? আপাত দৃষ্টিতে তার মেধা নাই, তাই? কে জানে হয়তো এরকম হতে পারে যে, পিঁপড়াদের মেধা বোঝার মত মেধা মানুষের নেই।

মানুষ বেঁচে থাকতে ক্ষেত-খামার করে, ফসল ফলায়, তারপর নির্দিষ্ট সময় পরে সে ফসল খেয়ে ফেলে। এমন কি হতে পারে না, মানুষ মরে গেলে যে সব কীটপতঙ্গ, জীব-অণুজীব এ দেহটা খেয়ে ফেলে আমরা তাদের ফসল? দুনিয়া নামের এই ফার্মে তারা আমাদের ৬০-৭০ বছরের জন্যে চাষ করে যাতে মরে গেলে আমাদের খেয়ে তারা দিব্যি বাঁচতে পারে? হতেও তো পারে!

অনলাইনে অর্ডার করতে ভিজিট করুনঃ বুকস অব বেঙ্গল
(https://www.facebook.com/BooksOfBengal)

সর্বাধিক পঠিত