প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালীগঞ্জে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ, মামলা হলেও আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

আতিকুর রহমান:[২] গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) হত্যার পর লাশ গুমের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামি সাবেক ছাত্র নেতাকে এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ। এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আসামিকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। এখনো পর্যন্ত আসামির অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি।

[৩] পুলিশের দাবি, ”পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আসামি আত্মগোপন রয়েছে। তবে তাকে খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।”শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুকুর আলী এসব তথ্য জানান।

[৪] অপরদিকে ”অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারায় ওই ছাত্রীকে পাঁচ দিন ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়। অবশেষে পাঁচদিন পর গত বুধবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ভিকটিমকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত।”

[৫] জানা যায়, ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করলে গত ২২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাতে মামলা নথিভুক্ত করে পুলিশ । এর সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।
মামলার আসামি সাবেক ছাত্রনেতা জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালগাঁও এলাকার নুরুল ওহাবের ছেলে নুরুল হাসান (৩৪)। সে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলো। সে জাতীয় মহিলা সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী বলে জানা গেছে।

[৬] ধর্ষণের শিকার তরুণী জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের বাঙ্গালগাঁও এলাকার এক দিনমজুরের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ধর্ষক সম্পর্কে তার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই।স্থানীয়দের ভাষ্য, ”অভিযুক্ত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল হাসান স্থানীয় একটি প্রভাবশালী (রাজনৈতিক) পরিবারের সদস্য। সেই প্রভাবেই সে ছাত্রলীগের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি ছাত্র সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিয়েছিলো। সে জাতীয় মহিলা সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী হিসেবে চাকরি করে।”

[৭] মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়ে। অভিযুক্ত নুরুল হাসান বিভিন্ন ধরণের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায় দেড় বছর পূর্বে প্রথম ওই ছাত্রীকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে পরিবারসহ তাকে হত্যা করে লাশ গুম ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এরপর থেকে প্রায় দেড় বছর যাবৎ হত্যার ভয় দেখিয়ে তাকে একাধিকবারণ ধর্ষণ করেছে। গত ১৫ এপ্রিল অনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে ওই তরুণীর ঘরে প্রবেশ করে পূণরায় জোড়াপূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে নুরুল হাসান। সে সময় তরুণীর চিৎকারে তার স্বজনরা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত নুরুল হাসান পালিয়ে যায়।”

[৮] ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর চাচা, মামলার বাদী ও তার স্বজনরা জানায়, ”ঘটনার পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গত ২১ এপ্রিল (বুধবার) রাতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) রাতে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল (শুক্রবার) তাকে আদালতে পাঠানো হয়। প্রথমে অর্থের অভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পারায় ভিকটিমকে আমাদের জিম্মায় আনতে পারিনি। পরে তাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। এর পাঁচদিন পর বুধবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত। প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে তাকে জিম্মায় আনতে। সব টাকাই ঋণ করে জোগাড় করতে হয়েছে।”

[৯] তিনি আরো বলেন, ”এখনো পর্যন্ত আসামি নুরুল হাসানকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তাকে খুঁজে পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।”অভিযুক্ত সাবেক ছাত্রনেতা নুরুল হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শুকুর আলী বলেন, ”ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর মা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর আসামি আত্মগোপন চলে যায়। গত বুধবার (২৮ এপ্রিল) ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাকে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছেন আদালত। পলাতক নুরুল হাসানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তাকে খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত