প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদার সুযোগ বাড়ানো হতে পারে

বিশ্বজিৎ দত্ত: [২] গত ৩ অর্থবছরেই কর্পোরেট আয়কর কমানো হয়েছে। গত বছরেও ননলিস্টেড কোম্পানির কর কমেছে প্রায় আড়াই শতাংশ। সুতরাং আগামী ২০২১-২২ সালের বাজেটে কর্পোরেট কর কমানোর কোন সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তবে ধনীদের উপর ১ শতাংশ কোভিড করারোপের একটি চিন্তা রয়েছে এনবিআরের।

[৩] আগামী ২ মে বাজেটে কর কাঠামো কি হবে এনিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এনবিআরের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সেখানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল আগামী বছরের বাজেট নিয়ে দিক নির্দেশনা দিবেন বলে জানা গেছে।

[৪] এনবিআর সূত্র জানায়, ২০২০-২১ সালের বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ও সরকারের উন্নয়ন কাজের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় চলতি অর্থবছরে ২লাখ কোটি টাকার মতো রাজস্ব আহরণ হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা। সুতরাং আগামী বাজেট বিপুল পরিমান ঘাটতি নিয়েই শুরু হবে।

[৫] এ বিষয়ে সাবেক এনবিআর সদস্য ও অর্থনীতিবিদ আমিনুর রহমান বলেন, চলতি বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দেয়া হয়েছে তা অব্যাহত রাখা দরকার। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে। এর অন্যতম কারণ প্রথমবারের মতো আইন হয়েছে এই টাকার উৎস্য সস্পর্কে কোন সংস্থাই প্রশ্ন করতে পারবে না। তা ছাড়া করোনায় বিদেশে টাকা পাঁচার করা যাচ্ছে না। আবার হুন্ডিও বন্ধ। এই অবস্থায় কালো টাকার মালিকরা চলতি বছর শেয়ার বাজার, রিয়েলএস্টেটে বিনিয়োগ করেছে। আগামীতেও এই কারণেই কলো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা দরকার। এনবিআর বড় লোকদের কাছ থেকে কর নিতে পারবেনা। তার জন্য যে ধরনের দক্ষতা ও রাজনৈতিক সাপোর্ট থাকা দরকার তা এনবিআরের নেই। সুতরাং কিছু কর দিয়ে যদি কিছু আদায় করা যায় সেটাই ভাল উপায়। তিনি মনে করেন কোভিডে সবাই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্থ নয়। সেক্ষত্রে ধনীদের আয়ে কোভিড করারোপ করা যেতে পারে। সেটি ১ থেকে ২ শতাংশ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

[৬] এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলাম বলেন, মার্কিন গবেষণা সংস্থা ওয়েলথ এক্স গবেষণা করে দেখিয়েছে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ২৫০ কোটি টাকার উপরে সম্পদের মালিকদের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৭.৩ শতাংশ। কোভিড কালীন এই মালিকদের সম্পদের উপর করারোপ করার পক্ষে তিনি মত দেন। তবে তিনি কালো টাকা সাদা করার বিষয়ে বলেন, দুর্নিতিবাজদের কালোটাকা লালন করা থেকে সরকার যদি সরে না আসে তবে আয় ও সম্পদ বন্টনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারবেনা।

এনবিআরের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধনীদের উপর করারোপের চিন্তা থাকলেও বাস্তবে তা কতটুকু করা যাবে এ নিয়ে সংশয় আছে। কারণ বাজেট নিয়ে মতামতে সকল ব্যবসায়ী সংগঠন বলেছে তারা কোভিডে সবাই ক্ষতিগ্রস্থ। এমন একজনকেও পাওয়া যায়নি যিনি বলেছেন ক্ষতিগ্রস্থ হননি।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত