প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফের উল্টো রথে ঢাকার বায়ু দূষণ

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত লকডাউন শেষ হচ্ছে ২৮ এপ্রিল। লকডাউনের প্রথমে সড়কে যানবাহন কম থাকায় কমেছিল ঢাকার বায়ুর মান। তবে সম্প্রতি লকডাউন শিথিলতার সুযোগে নগরীতে বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেল বা অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য রাস্তার খোঁড়াখুঁড়িতে সারা বছরই ঢাকার রাস্তায় ধুলার আধিক্য থাকে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় যানবাহন নিঃসৃত দূষিত বাতাস।

লকডাউনের শুরুতে নগরীর বায়ুর মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর কম ছিল। কয়েকদিন স্কোর ১১০ থেকে ১১৮ এর মধ্যে থাকলেও সম্প্রতি ফের খারাপ হতে শুরু করে বায়ুর মান।

রোববার (২৫ এপ্রিল) রাত ১০টায় সর্বশেষ হালনাগাদ করা একিউআই সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ১৭৫। বাতাসের এই গুণগত মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে।

একিউআই স্কোর যখন ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকে, তখন বাতাসের গুণগত মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ঢাকার বাসিন্দারা প্রত্যেকেই এখন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। এক সপ্তাহ আগে গত ১৮ তারিখ ঢাকার একিউআই স্কোর ছিল ৯৯।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, রাজধানীতে বায়ু দূষণ বেড়েছে। হঠাৎ করেই বায়ু দূষণ প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। গত শুক্রবার যখন বায়ুর মান ছিল ১১২। সেখানে গতকাল শনিবার তা চলে গেছে ১৫২ থেকে ১৫৩। চলতি সপ্তাহের আগে বায়ুর মান ৯৬ ছিল।

তিনি বলেন, লকডাউন থেকে মানুষ যখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, রাজধানীর বায়ু তত খারাপ হচ্ছে। যখন গাড়ি চলছে নগরীর বায়ু দূষণ বাড়ছে। এ জন্য পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। কেন গাড়ি চললেই বায়ু দূষণ বাড়ছে। তার মানে আমার রাস্তায় পলিউশনগুলো আছে। ধুলাবালি পড়ে আছে, সেগুলো পরিষ্কার করলে দূষণ কমতো। পাশাপাশি দূষণযুক্ত যে গাড়িগুলো আছে বা ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো রাস্তায় না থাকলেও দূষণ কমতো।

ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার আরও বলেন, ২০২০ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের তুলনায় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ১১ ভাগ, ফেব্রুয়ারিতে ৫ ভাগ এবং মার্চ মাসে ২১ ভাগ বায়ু দূষণ বেড়েছে। এখন গত বছরের তুলনায় দূষণ বেশি আছে। লকডাউনে কমার কথা ছিল। প্রথম দিকে একটু কম ছিল, কিন্তু সেটা আবার বেড়েছে। সেই কমাটা ধরে রাখতে পারেনি ঢাকার বাতাস। গত বছরের সাধারণ ছুটিতে যেভাবে বায়ু দূষণ কমেছিলে, এবারের লকডাউনে সেভাবে বায়ু দূষণ কমেনি।

তিনি জানান, লকডাউন চলাকালে প্রতিদিন ঢাকার দুটি করে মোট ১০ এলাকায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ৮ ঘণ্টা করে বায়ুর মান পরিমাপ করছে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের সাহায্যে। – জাগো নিউজ

সর্বাধিক পঠিত