প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী অব্যাহত ডিএসইতে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন

মাসুদ মিয়া: [২] দেশের শেয়ারবাজার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ব্যাপক মূল্য সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এই নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অব্যাহত রয়েছে। আজ প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ডিএসইতে হয়েছে প্রায় ১৩শত কোটি টাকার কাছাকাছি। যা গত তিন মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। আজ ডিএসইতে ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি আজকের চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওইদিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকার।

[৩] এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কঠোর বিধিনিষেধের আগে বড় দরপতন হলেও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে দেশের শেয়ারবাজার চাঙ্গা ভাব অব্যাহত রয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে প্রতিটি কার্যদিবসে মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে লেনদেনের গতি। এবিষয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী এ প্রতিবেককে বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে বিএসইসি শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন বিশ্বাস করছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে ব্যাংক খোলা থাকলে শেয়ারবাজারে লেনদেনও চলবে। শাকিল রিজভী আরও বলেন, সামনে কঠোর বিধিনিষেধ বাড়লেও শেয়ারবাজারে এফেক্ট পরবে না। এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে সামনে বাজার আরও ভালো হবে।

[৪] এবিষয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদেও সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ায় শেয়ারবাজারে এই টানা উত্থান প্রবণতা দেখা দিয়েছে। রাজ্জাক বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিএসইসি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাও বিশ্বাস ফিরে এসেছে।

[৫] মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। এই কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শেয়ারবাজরে আড়াই ঘণ্টা লেনদেন চলছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারে প্রথম লেনদেন হয়। ওই দিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক বাড়ে ৫১ পয়েন্ট। দ্বিতীয় কার্যদিবস রোববার সূচকটি বাড়ে ২১ পয়েন্ট এবং তৃতীয় কার্যদিবস সোমবার বাড়ে ১৮ পয়েন্ট।

[৬] আর বিধিনিষেধের মধ্যের চতুর্থ কার্যদিবস মঙ্গলবার মূল্য সূচকের রীতিমত ব্যাপক উত্থান হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪২১ পয়েন্টে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে কঠোর বিধিনিষেধের চার কার্যদিবসে ডিএসই প্রধান সূচক বাড়ল ১৬১ পয়েন্ট।

[৭] প্রধান সূচকের পাশাপাশি বেড়েছে ডিএসইর অপর দুই সূচক। এর মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসইর শরিয়াহ্ সূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

[৮] মূল্য সূচকের এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে ১৮টি দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬টির। আর সব খাত মিলিয়ে ১৯৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৮টির এবং ৬৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

[৯] মূল্য সূচকের উত্থানের সঙ্গে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৯৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয় ৬৯৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনেদেন বেড়েছে ৬০২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি পর ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো।

[১০] টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১৪৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকো ফার্মার ৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ৩৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স।

[১১] এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- রবি, বিডি ফাইন্যান্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, লাফার্জহোলসিম বাাংলাদেশ, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।

[১২] অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২১৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত