প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ডেমরায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতার বিরুদ্ধে কাঁচা বাজার দোকানীদের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : [২] রাজধানীর ডেমরায় বড়ভাঙ্গা এলাকায় অস্থায়ী কাঁচাবাজারে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক নেতা ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজিতে হত দরিদ্র দোকানিরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

[৩] এক্ষেত্রে ওই বাজারের ২০/২৫ টি দোকানের মধ্যে একেক সময় একেক দোকান থেকে বিনামূল্যে সবজি, মাছ ও নগদ অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে কথিত মো. আলী বাহিনীর বিরুদ্ধে। তিনি বড়ভাঙ্গা এলাকার জাবেদ আলীর ছেলে।

[৪] বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটিতে তার কোনও পদ না থাকলেও মো. আলী সাবেক সারুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক ছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ওই বাজার কমিটি ডেমরা থানায় অভিযোগ দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছেনা বলে জানা গেছে।

[৫] সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় মো. আলী বাহিনী বড়ভাংগা কাঁচাবাজারে অস্থায়ী দোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নগদ টাকা ও কাঁচামাল নিয়ে যায়। এ সময় টাকা চাইলে টাকা না দিয়ে উল্টো ব্যাবসা করতে দেওয়া হবেনা বলে হুমকি দেয় চাঁদাবাজরা।

[৬] এ বিষয়ে কাঁচামাল দোকানিরা ওই বাজারের আহবায়ক কমিটির কাছে গত রবিবার লিখিত অভিযোগ জানান। এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে মো. আলীর ছোট ভাই রেদওয়ান মঞ্জু ও তার বন্ধু মঞ্জু আহমেদসহ ৪/৫ জন সন্ত্রাসী মিলে বাজার কমিটির সদস্য সচিব আবদুল মান্নানের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে আহত করে।

[৭] এ বিষয়ে ডেমরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী আবদুল মান্নান।

[৮] সরেজমিন দেখা গেছে, বড়ভাঙ্গা বাজারে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে অর্ধশতাধিক দোকানপাট রয়েছে। বাসিন্দারা এ বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার করেন প্রতিনিয়ত। আর বাসিন্দারের সুবিধার্থে বাজারে প্রয়োজনীয় সব কাঁচাবাজার ও খাদ্যসামগ্রীর দোকান করেন দোকানিরা। আর এ বাজারে লকডাউনের কারণে অল্প সময় দোকান করার সুযোগ পায় দোকানিরা। এ সময়েও চাঁদাবাজি করা হচ্ছে বলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন দোকানিরা। আর এ বিষয়ে বড়ভাঙ্গা বাজার কমিটি ও স্থানীয়রা কথিত এই সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর কাছ থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

[৯] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দোকানি বলেন, আমার কাছ থেকে সিগারেট খাওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা নিয়ে যায় মো. আলী। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে আমাকে উল্টো মারতে আসেন তিনি। আর কথা না শুনলে এ বাজারে ব্যবসা করতে দেওয়া হবেনা বলেও জানান মো. আলী বাহিনী।

[১০] এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বড়ভাঙ্গ বাজার কমিটি ছিলনা। বর্তমানে এলাকাবাসি, বাজার দোকানদার ও সামাজিক সংগঠন বড়ভাঙ্গা যুবসঙ্ঘ মিলে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক বাজার কমিটি করে দেয় যার আমি সদস্য সচিব। এদিকে মো. আলী প্রতিনিয়ত বাজারের দোকানিদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও কাঁচাবাজার নিয়ে যার মূল্য পরিশোধ করেনা। এছাড়া অনেক দোকানদের কাছ থেকে পকেটে হাত দিয়েও টাকা নিয়ে যায় মো. আলী। আর টাকা ফেরত চাইলে হুমকি ধমকি দিয়ে বলে এখানে ব্যবসা করতে দেওয় হবেনা। আর এ অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার বাজারে লিষ্ট করা হচ্ছিল কোন দোকানদারের কাছ থেকে কত টাকা ও মালামাল নিয়েছে মো. আলী। এ সময় তার ওপর মো. আলী অতর্কিতে হামলা চালায় ওই বাহিনী।

[১১] তিনি আরও বলে ন এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিপন সাহেব মো. আলীর পক্ষে থানায় ওসি সাহেবকে ফোনে সব জানানো হয়েছে।

[১২] এ বিষয়ে মো. আলী বলেন, লকডাউনের কারণে বড়ভাঙ্গা বাজার এলাকায় বাাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। আর ডেমরা থানা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব থানা থেকে আমাকে দেওয়া হয়েছে বলে সময় শেষে আমি ৫ জন ভ্যানগাড়িওয়ালা দোকানিকে চলে যেতে বলায় বাজার কমিটি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছে যা মিথ্যা ও বানোয়াট। আর এ বাজার বসাচ্ছে বিএনপি ও জাতীয় পার্টির লোকজন যারা নিজেরাই চাঁদাবাজ। বর্তমানে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ইচ্ছা করলেও চাঁদাবাজি করা সম্ভব নয়।

[১৩] এ বিষয়ে ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. আলীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে যারা অভিযোগ করেছে তারা নিজেরাই চাঁদাবাজ। আর লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বড়ভাঙ্গ অস্থায়ী বাজারে সড়ক থেকে ভ্যানগাড়ি ও দোকান সরানোর কথা বলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে অপকৌশলে অবলম্বন করে তারা অভিযোগ করেছে।

 

সর্বাধিক পঠিত