প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঋণ নয়, ব্যবসা সচল রাখতে অনুদান দাবি উদ্যোক্তাদের

নিউজ ডেস্ক: করোনার অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে নগদ অর্থ সরবরাহের বিকল্প নেই। দ্বিতীয় দফা করোনার প্রকোপে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি নিয়ে দিশাহারা সবাই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিল্পের চাকা না ঘুরলে অর্থনীতি টিকবে না। আবার শিল্প চালু রেখেও লাভ নেই, যদি পণ্য ক্রেতার হাতে টাকা না থাকে। সংগত কারণেই নগদ টাকা সরবরাহ জরুরি হয়ে পড়েছে এবং ঋণ দিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে না বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, গত বছর সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ মূলত ঋণসুবিধা ছিল। সেটিও সবাই পায়নি। আসছে বাজেটের প্রাক্কালে তাদের দাবি, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় অনুদান প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেছেন, এই মুহূর্তে অর্থনীতির ক্ষত সারাতে হলে অনুদান প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বড় শিল্পে ৫ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য ৫০ শতাংশ অনুদান ধরে নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করা যেতে পারে। তবে কেউ কেউ বলেছেন, বড় শিল্পমালিকরা যারা ইতিপূর্বে প্রণোদনা সুবিধা ভোগ করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে বেশি নজর দেওয়া উচিত এবং ক্ষুদ্র-মাঝারিদের জন্য শতভাগ অনুদান সুবিধা দিয়ে এই মুহূর্তে কর্মসংস্থান সুবিধা অক্ষত রাখাই হবে শ্রেয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, করোনার প্রথম ধাক্কায় ব্যবসা হারিয়েছেন অনেকেই। বন্ধ হয়েছে ছোট-মাঝারি বহু প্রতিষ্ঠান। চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। সার্বিকভাবে আয় কমে যাওয়ায় কমে গেছে ক্রয়ক্ষমতাও। ফলে, সাধারণ মানুষ আজ প্রয়োজনটাই সামাল দিতে পারছে না। বাড়তি কেনাকাটার তো প্রশ্নই আসে না।

এমন পরিস্থিতিতে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কী হবে—সেই অনিশ্চয়তা জেঁকে বসেছে। এই অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের উত্পাদনকারী গোষ্ঠী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতার মধ্যেও প্রবল। এই ধাক্কা আগামী দু-তিন বছরেও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।

এই সংকটময় সময়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে হলে ক্রেতা-ভোক্তা ও উত্পাদক, সবার হাতেই টাকার প্রবাহ বাড়ানোর কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, উন্নত দেশগুলো প্রতিটি নাগরিককেই আর্থিক সুবিধা দিয়েছে। জীবিকার সংকটকালে জীবন বাঁচিয়ে রাখতে নগদ অর্থ সহায়তার বিকল্প নেই। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জরুরি ভিত্তিতে অভিঘাত মোকাবিলায় প্রত্যেক মানুষের কাছে নগদ টাকা পৌঁছে দিতে হবে। মনে রাখতে হবে সর্বজনের কাছে অর্থ পৌঁছালেই অর্থনীতির চাকা ঘুরবে। দ্রুত দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করাও সম্ভব হবে।

এমনকি উত্পাদকরাও বলছেন, করোনার অভিঘাতে স্থবির অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে সমাজের সবার হাতেই টাকার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যেমনটি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও করা হচ্ছে। কারণ, শুধু উত্পাদকদের হাতে টাকা গেলে হবে না। উত্পাদিত পণ্য কিনবেন যিনি, তার হাতেও টাকা থাকতে হবে। নইলে পণ্য কিনবেন কীভাবে? উত্পাদক-ভোক্তা কাউকে এখানে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

যারা স্বকর্মসংস্থানে ছিলেন তথা অসংগঠিত খাতের অবস্থাও ত্রাহি। এরা ব্যাংকিং সুবিধারও বাইরে। বিগত প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা নিয়ে ব্যাংকগুলো বরং নিজেদের আর্থিক অবস্থান সুসংহত করেছে। নগদ মুনাফা তুলতে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ঋণ ফেরত না পাওয়ার আশঙ্কার কথা বলে উদ্যোক্তাদের বঞ্চিত করেছে। যে কারণে করোনায় সরকারঘোষিত ঋণসহায়তার প্যাকেজ ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বাড়তি তারল্যের জোগান নিশ্চিত হওয়ায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে নগদ মুনাফা তুলছে ব্যাংকগুলো। এই সুবাদে এমনকি বন্ধ হওয়ার উপক্রম ছিল এমন ব্যাংকগুলোও এখন ভালো অবস্থায় পৌঁছেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণসহায়তা না দিয়ে ব্যাংকগুলোর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ার সমালোচনাও করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারকে ঋণের বদলে অনুদান দিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে অর্থনীতির স্বার্থেই। নইলে এগিয়ে যাওয়া অর্থনীতি এই হোঁচট সামলাতে পারবে না। -ইত্তেফাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত