প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মোরেলগঞ্জে ডায়রিয়ার প্রকোপ : ৭ দিনে আক্রান্ত প্রায় এক শতাধিক

সাইফুল ইসলাম :[২] বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জেশেষ চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহ ও বৃষ্টির দেখা না-মেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকটে মোরেলগঞ্জ পৌরসভাসহ ১৬টি ইউনিয়নে পানিবাহিত ডায়রিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। ৫০শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে অন্যান্য রোগীর তুলনায় ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি।

[৩] ফাঁকা নেই ডায়রিয়া ওয়ার্ডের কোনো বেড। বারান্দায় ঠাই নিয়েছেন অনেক রোগী। গত ৭দিনে ডায়রিয়া আক্রান্ত ১শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। তাছাড়া, হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন অনেক রোগী। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো বহু মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

[৪] উপজেলায়গত ৭ দিনে সরকারি হিসাবে শিশুসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১শতাধিক । বেসরকারিভাবে এ সংখ্যা আরও বেশি। সূত্রমতে, বেসরকারিভাবে ডায়রিয়ায় ১৬টি ইউনিয়নে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১শতাধিক। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি বলে জানান মোরেলগঞ্জ হাসপাতালের কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ।

[৫] হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট চলছে। চৈত্রের খরতাপে এলাকার পুকুরসহ পানির উৎসগুলো শুকিয়ে গেছে। তাছাড়া, নলকুপের পানিও লবণাক্ত। ফলে, গ্রামের মানুষ দুষিত পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাপ্তবয়ষ্করাই বেশি। অন্যান্য বছরের তুলনায় ডায়রিয়া রোগীর চাপ এবার কয়েকগুণ বেশি বলে হাসপাতাল সূত্র দাবি করছে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিনমোরেলগঞ্জের পৌরসভার ভাইজোড়া গ্রাম থেকে বুধবার (১৪ এপ্রিল ) রিজিয়া বেগম(৫৫)। তিনি বলেন, তাদের এলাকার কোনো পুকরে পানি নেই। দু-একটি পুকুরে পানি থাকলেও তা কোনো মানুষ খেতে পারে না। পানির রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সেই পানি ফিটকিরি দিয়ে খেতে হচ্ছে। এলাকার মানুষ সেই দুষিত পানি খেয়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

[৬] শনিবার থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশু রোগীদের মধ্যে রয়েছে ভাইজোড়া গ্রামের রাব্বি (২০ মাস), উত্তর সুতালড়ী গ্রামের ইউনুছ (২৪মাস), ধানসাগর গ্রামের ফাহিম (১৯মাস, কালিকাবাড়ি গ্রামের তাইয়ব (আড়াই মাস), বিশারিঘাটা গ্রামের সুমাইয়া (১০ মাস), , গুলিশাখালী গ্রামের আরাফাত(১৬মাস), সন্ন্যাসী গ্রামের মরিয়ম (২৭ মাস), সাজিদ (৭ মাস), ধানসাগর গ্রামের আরাফাত (১৫ মাস), পিসি বারইখালী গ্রামের ওমর খলিফা( ২৫ মাস), কালিকাবাড়ি গ্রামের শর্মি (১৭ মাস), ফুলহাতা গ্রামের মনিহা ( ১১মাস), পূর্ব সরালিয়া গ্রামের জান্নাতি (৭ মাস), খাউলিয়া গ্রামের আবু কবর ( ২৩মাস), বারইখালী গ্রামের সাইম (২৩ মাস), এ রকম অর্ধশতাধিক শিশু গত ১ সপ্তাহ ধরে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

[৭] চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবক শেখ সাথী ইসলাম, শাহিদুল ইসলামসহ একাধিক অভিভাবক ক্ষোভের সাথে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শর্য্যায় উন্নিত হলেও এর সুফল পাচ্ছেনা থেকে রোগীরা। সংকট রয়েছে বেডের। রোগীদের বেডগুলো পুরাতন জরার্জীণ অবস্থা। তার পরেও প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিতে আশা রোগীদের একটি বেডের জন্য তদবিরে দৌড়াতে হচ্ছে চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে। বেড না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেককেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ফ্লোরে। আরো কয়েকজনরে সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা পানি সমস্যার কারণেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত