শিরোনাম
◈ আলমারি ভর্তি রুপি মিলল সরকারি কর্মকর্তার বাড়িতে ◈ আহসান এইচ মনসুরকে সরানো নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী ◈ বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে উপনির্বাচন ঘিরে ইসির বিশেষ আদেশ ◈ এবার নগদে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যারিস্টার আরমান যা বললেন ◈ পিলখানা হত্যাকাণ্ড ছিল সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী ◈ কম্পিউটার অপারেটর থেকে শিক্ষা অফিসার, বিতর্কিত পদোন্নতি নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী ◈ নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রজ্ঞাপন জারি ◈ শুল্ক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি দেখে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী ◈ হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলা, সড়কে অবস্থান (ভিডিও) ◈ নতুন আইজিপিকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৪:৩৭ সকাল
আপডেট : ১৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৪:৩৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসনাত কাইয়ূম: আমাদের সত্যিকারের মানবিক, দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক মানুষরা কি একটু মাথা ঠান্ডা করে ভাববেন?

হাসনাত কাইয়ূম: খুব সম্প্রীতি ‘আনন্দ বাজার পত্রিকা’ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি আমিত শাহর একটি সাক্ষাৎকার ২ কিস্তিতে ছেপেছে। এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রশাসন, সংস্কৃতি ইত্যাদি নিয়ে বিশদে অন্যদের সমালোচনা এবং নিজেদের কর্মপরিক্ল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তবে এই সাক্ষাৎকারে তিনি সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ বন্ধের প্রসঙ্গে। তিনি বলেছেন, তারা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং গরু পাচার বন্ধ করবেন আর রাজ্যজুড়ে সিএএ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করবেন। এই সাক্ষাৎকারের বাইরে তারা তাদের ‘নির্বাচনী প্রচারণা সঙ্গীতে’ বাংলাদেশকে এমনভাবে চিত্রিত করেছেন যাতে মনে হয়; এখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীরা প্রতিনিয়ত হিন্দু বলেই ধর্ষণের শিকার হয় এবং এখানে ধর্মীয় উগ্রবাদী আইএসসহ অপরাপর ইসলামী উগ্রবাদীদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।

একটি দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী দেশকে এইভাবে তুলে ধরা যে কথিত বন্ধুরাষ্ট্রের বন্ধুত্বের ধারণার পরিপন্থী, সে বিষয়ে আমাদের সরকার, রাজনৈতিক দল বা সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

আমি তাদের প্রতিক্রিয়া দেখানো নিয়ে ততো চিন্তিত নই। আমার মূল বক্তব্য হলো, আমরা অনেকেই জানি, বিজেপি ভারতসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য মিশন নিয়ে মাঠে আছে। বিজেপির এই মিশনকে দুইভাবে সহায়তা করা সম্ভব [১] সরাসরি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে, তাদের পদলেহী হয়ে। তাদের কর্মকাণ্ড বিস্তারে যা কিছু তারা প্রত্যাশা করে সেই প্রত্যাশা পুরণ করে। [২] সরাসরি তাদের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নিজেদের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার পুনর্জাগরণ ঘটানোর মাধ্যমে। এ ধরনের বিরোধিতায় সহজে জেহাদী জনসমর্থন আদায় করা সম্ভব হয়, যা আখেরে তাদেরকেই অনেক বেশি লাভবান করে। আমাদের দেশে উপরে উল্লেখিত দুই ধরনের বন্ধুই তাদের আছে এবং অতি সম্প্রতি মোদির সফরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ তাদের জন্য সেই পরিস্থিতিটি তৈরি করে দিয়েছে, যা ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান তারা অনেকটুকু এগিয়ে নিতে পেরেছে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো, বাংলাদেশ নিয়ে বিজেপির এটাই শেষ কাজ নয় বরং এটা শুরু। এখানে তারা অনেক উগ্রবাদী হিন্দু গ্রুপ দাড় করাতে পারে , তাদের দিয়ে অনেক উস্কানিমূলক আচরণ করাতে পারে। তাদের বশংবদ রাষ্ট্র-সরকারও এমন অনেক অপকর্ম করতে পারে, যাতে এখানকার সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মানুষও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে এমনসব ঘৃণ্য অপকর্মে লিপ্ত হয়, যাকে ব্যবহার করে এখানকার সরকারের জন্য আরো বেশি কর্তৃত্ববাদী, আরও বেশি স্বৈরতান্ত্রিক হওয়ার সামাজিক-রাজনৈতিক-মনস্তাত্বিক পাটাতন তৈরি করা সহজ হয়, ইতোমধ্যেই যার লক্ষণ অনেক বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

আমাদের সত্যিকারের মানবিক, দেশপ্রেমিক, গণতান্ত্রিক মানুষরা কি একটু মাথা ঠাণ্ডা করে এই দুইটা দিক নিয়ে একটু ভাববেন? প্রত্যেকে তার নিজের নিজের জায়গায় একটু ছাড় দিয়ে, এই দুই ধারার বিপদ থেকে বের হয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নেবেন? ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়