শিরোনাম
◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে চাপে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত, ঝুঁকিতে ফ্লাইট ও প্রবাসী যাত্রী পরিবহন ◈ বিশ্বকা‌পে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের আবেদন ৮৪ লাখ, আসন মাত্র ৩৪ হাজার ◈ সাভারে ফের পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় ডেমোক্র্যাটদের, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারাল ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি ◈ মিরপুর বেড়িবাঁধে বাস-অটোরিকশার মু‌খোমু‌খি সংঘর্ষ, ৪ জ‌নের মৃত‌্যু ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস‌্যু‌তে ম‌তের অ‌মিল, জোটে থেকেই জামায়াতকে চাপে রাখতে চায় এনসিপি ◈ এশিয়া কাপের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা কর‌লো বি‌সি‌বি ◈ আতলেতিকোর মাঠে বায়ার্ন মিউনি‌খের দুই গোলের জয় ◈ দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও জয় পে‌লো ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড ◈ শ্রমিক বিক্ষোভের শঙ্কায় গাজীপুরে ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন

প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৫:৪৯ সকাল
আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০২১, ০৫:৪৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজম খান: কে মুসলমান হইতে পারবে আর কে পারবে না, এই সার্টিফিকেটও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে!

আজম খান: হেফাজত অফিশিয়াল বক্তব্য দিছে রিসোর্ট কাণ্ড, মামুনুলের দুনিয়াতেই জান্নাতুল ঝর্ণা, জান্নাতুল ফেরদৌস ভোগের ব্যাপার নিয়ে। তারা বলেছে এইগুলান মামুনুল হকের ব্যাক্তিগত বিষয়। কিন্তু অন্যদের যা ব্যাক্তিগত ব্যাপার তা আবার তাদের ব্যাপার। এইটা হেফাজতের ১৩ দফার দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়ে যায়। আসেন একে নজর বুলাই।

[১] সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন বাতিল করা। এই সংবিধান তো হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-নাস্তিকদের জন্যও। মানে হইলো আপনাকে তাই বিশ্বাস করতে হবে যা তারা বিশ্বাস করে এবং রাষ্ট্রীয় সংবিধান তাদের মত করে হতে হবে। বাদবাকিরা এখানে ধইঞ্চা।

[২] আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কুৎসা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস। মানে হইলো আপনি ততোটুকুই কথা বলতে পারবেন যতোটা তারা আপনাকে বলতে দিবে।

[৩] কথিত শাহবাগি আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী স্বঘোষিত নাস্তিক-মুরতাদ এবং প্রিয় নবী (সা.)-এর শানে জঘন্য কুৎসা রটনাকারী ব্লগার ও ইসলামবিদ্বেষীদের সব অপপ্রচার বন্ধসহ কঠোর শাস্তিদানের ব্যবস্থা করা। মানে হইলো তাদের বিশ্বাস, মতের বিপরীতে যায় এমন সবাইকে ঝুলায়ে দেও। ফ্যাসিজম এবং ফ্যাসিস্ট কাকে বলে এইটা বুঝার জন্য তাদের এই তিন নাম্বার ধারাটা কোন এক সময়ে খোদ বাংলাদেশেই একাডেমিক টেক্সট বইগুলাতে পড়ানো হবে। যদি আরো কয়েক দশক বেঁচে থাকেন তবে আশা করি দেখতে পারবেন।

[৪] ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ, মোমবাতি প্রজ্বালনসহ সব বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ বন্ধ করা। এর অর্থ দাঁড়ায় আপনি ব্যাক্তিগত জীবনে-আচারে মোমবাতি জ্বালাবেন নাকি হারিকেন জ্বালাবেন সেই সিদ্ধান্তুও তাদের থেকে নিতে হবে। কার সঙ্গে ঘুরবেন, কেমনে ঘুরবেন সেইটার অনুমোদনও তাদের থেকে নিতে হবে। মানুষ হিসাবে আপনার এখানে কোনো ভূমিকা নেই। আপনি লেসার হিউম্যান তাদের তুলনায়।

[৫] ইসলামবিরোধী নারীনীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি বাতিল করে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। আপনি কী পড়বেন না পড়বেন সেইটাও তারা ঠিক করে দেবে। যদিও বাস্তব দুনিয়ার জটিলতা সম্পর্কে তাদের দূরতম ধারণাও নেই। আধুনিক অর্থনীতির অনেকগুলো বেসিক কনসেপ্টের একটা হচ্ছে, যেসব দেশের নারীরা অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয় সেসব দেশ দ্রুত উন্নতি করে। এই ছাড়া সরকারের নারীনীতি গুলো আন্তর্জাতিক নানা দেশ, প্রতিষ্ঠানের সাথেও যুক্ত। যেমন, বাণিজ্য সুবিধা, নানা আন্তর্জাতিক ইকোনমিক ফোরামে যোগদানের পূর্ব শর্ত হিসাবে মানবাধিকার পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় নারীনীতি সহ নানা খুঁটিনাটি বিষয় যুক্ত থাকে। সারা বাংলাদেশের সমস্ত মোল্লারে আধবেলা ঝুলায়ে রাখলেও এই সংক্রান্ত বিদ্যা তাদের পেট থেকে এক ফোঁটাও বের হবে না।

[৬] সরকারিভাবে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা এবং তাদের প্রচারণা ও ষড়যন্ত্রমূলক সব অপতৎপরতা বন্ধ করা। কে মুসলমান হইতে পারবে আর কে পারবে না এই সার্টিফিকেটও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে।

[৭] মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা। আপনের শিল্প রুচি, আকাঙ্ক্ষা এসবও তারাই ঠিক করে দেবে। আজকে ক্ষমতা নেই বলে ভাস্কর্যের উপর দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা পাইলে যাবে আপনার টিভির উপর দিয়ে।

[৮] জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাবিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং ওয়াজ-নসিহত ও ধর্মীয় কার্যকলাপে বাধাদান বন্ধ করা। মানে হইলো তাদের ইনডেমিনিটি দিতে হবে। তারা ছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রীয় আইন মানতে বাধ্য। তারা এসবের ধার ধরে না।

[৯] রেডিও-টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাড়ি-টুপি ও ইসলামি কৃষ্টি-কালচার নিয়ে হাসিঠাট্টা এবং নাটক-সিনেমায় নেতিবাচক চরিত্রে ধর্মীয় লেবাস-পোশাক পরিয়ে অভিনয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মনে ইসলামের প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব সৃষ্টির অপপ্রয়াস বন্ধ করা। নাট্যকার কেমন নাটক লিখবে, নাটক কেমন হবে সবই তারা ঠিক করে দেবে। আপনি সাক্ষী গোপালের মতন টিভির সামনে বসে দেখে যাবেন।

[১০] পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এনজিও এবং খ্রিস্টান মিশনারিগুলোর ধর্মান্তকরণসহ সব অপতৎপরতা বন্ধ করা। তারা একলাই ধর্ম প্রচারের অধিকার রাখে। বাকিরা রাখে না। সোজা কথায় এই ধারার মানে এইটাই দাঁড়ায়। বাকি ৩টা ধারা  এতোটাই সিলি যে সেইগুলান আলোচনা করতে রুচিতে আসলো না। যাই হোক, সব ব্যাক্তিগত স্বাধীনতা হেফাজতের ইসলামের লোকজনের জন্য। আপনার জন্য আছে আইট্রা কলা। যেহেতু তারা কোরআন-হাদিসের স্কলার তাই তারা যা বলবে অনুগত দাসের মতন আপনাকে তাই করতে হবে। স্বাধীন মানুষ হিসেবে গর্ব করার মতন কোনো লিবার্টি তারা আপনাকে দেবে না। এই জন্যই এইগুলারে টাইম নেই বলে দিছি। আই এম নো ওয়ান্স স্লেভ। ফেসবুক থেকে, মামুন