প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভেসে আসা দুটি তিমির গায়েই আঘাতের চিহ্ন

ডেস্ক রিপোর্ট: গেল কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসছে মৃত কাছিম, ডলফিন ও তিমি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি এসব সামুদ্রিক প্রাণির মৃত্যুর রহস্য। রাইজিংবিডি

গবেষকরা বলছেন, সাগরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ভেসে আসছে উপকূলে এসব মৃত সামুদ্রিক প্রাণী। তবে সমুদ্র দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়াও হতে পারে এসব সামুদ্রিক প্রাণির মৃত্যুর কারণ। বার বার কক্সবাজার উপকূলে মৃত প্রাণী ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক গবেষণা ইনস্টিটিউট।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসে বিশাল আকৃতির মৃত তিমি। এরপর শনিবারও (১০ এপ্রিল) ভেসে আসে আরো একটি মৃত তিমি। যাদের গায়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন। ভেঙে গেছে হাড়ও। তিমি দুটি পচে দুর্গন্ধ ছড়ালেও মুছে যায়নি এসব আঘাতের চিহ্ন।

মৃত তিমির নমুনা সংগ্রহ করতে আসেন নানা সংস্থা ও গবেষক। তারাও জানিয়েছেন, তিমির গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

কক্সবাজারের মেরিন লাইফ অ্যালাইয়েন্স এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম বলেন, শনিবারের মৃত তিমিটির গায়ে বড় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যা হতে পারে জাহাজের আঘাতে। মেরুদন্ডের একটি হাড়ও ভাঙা রয়েছে। এছাড়াও ১০-১৫ দিন আগে সাগরে কি ঘটেছে এটাও খতিয়ে দেখা দরকার, ওখানে কিছু হয়েছিল কিনা?

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানি মো. আশরাফুল হক বলেন, তিমির পিঠে আঘাত রয়েছে। মাথার অংশের হাড় পচে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যাতে বুঝা যায়, অনেক দিন আগে তিমিগুলো মারা গিয়েছে। তীব্র পচনশীল হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বেশি। প্রাথমিকভাবে আঘাতের কারণে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করছি।

বার বার কক্সবাজার সৈকতে মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদিরা।

কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, গেল কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার উপকূলে মৃত সামুদ্রিক কাছিম, ডলফিন ও তিমি ভেসে আসছে। যা নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে সমুদ্রে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ ধরণের সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গেল কয়েক বছর ধরে অব্যাহতভাবে সামুদ্রিক প্রাণী মারা যেতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেউ এসব প্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসছে না। তাই বাংলাদেশে সমুদ্র সম্পদ ও সামুদ্রিক জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় সমুদ্র কমিশন গঠন করা উচিত বলেও জানান তিনি।

আর সামুদ্রিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলছেন, কেবল কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন তারা।

বাংলাদেশ সামুদ্রিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রুপক লোধ বলেন, এর আগে সৈকতে প্রচুর প্লাস্টিক বর্জ্য এসেছে। এখন দেখলাম পর পর দুদিনে দুটি বিশাল আকৃতির মৃত তিমি ভেসে এসেছে। তাই এ ব্যাপারে আমাদের ফিজিক্যাল স্টাডি করতে হবে। কারণ কেন বার বার কক্সবাজার সৈকতে এসব সামুদ্রিক প্রাণী মৃত অবস্থায় ভেসে আসছে। অন্য কোথাও আসেনি কেন। যা দু’বছরের ঘটনা। গেল বছরেরও এসেছে, এবছরও আসলো। এই বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। এখন দেখা যাক, দ্রুত কি করা যায়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, মৃত তিমি দুটি বালিয়াড়িতে গর্ত করে চাপা দেওয়া হয়েছে। পরে কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করেছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত