প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আর রাজী: অন্যের পাপের প্রতিকার করতে গিয়ে আপনি নিজেই অপরাধী হয়ে উঠছেন না তো?

আর রাজী: আপনি চাইলে একজনের ‘গোপন খবর’ প্রকাশ-প্রচার করতেই পারেন, কিন্তু এই কাজটি করার আগে অন্তত একবার ভাবা জরুরি, আপনার বা আপনার মা-বাবা-ছেলে-মেয়ে-ভাই-বোন বা বন্ধুকে নিয়ে এমন খবর প্রচার হলে আপনার মানসিক অবস্থা কেমন হতো? যদি দেখেন, আপনার গোপন খবরটি প্রকাশ হয়ে যাওয়া আপনার বা আপনার ঘনিষ্ট জনদের ভালো লাগবে না, জানবেন সে খবরটা অন্য কারও সম্পর্কে হলে তার সাথে সম্পর্কিত মানুষদেরও ভালো লাগবে না। এই ‘ভালো না লাগা’ যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- তা নিশ্চয়ই আপনি বোঝেন? তাহলে কি এ ধরনের খবর প্রকাশ-প্রচার করবেন না? করবেন, কিন্তু অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারপর।

জেনে রাখেন, আপনার মনে যদি শয়তানি বা ব্যক্তিটির প্রতি বিদ্বেষ না থাকে তাহলে এ ধরনের খবর তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ-প্রচারের তাড়া আপনার থাকার কথা না। এ ছাড়া, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা একান্ততা সম্পর্কিত খবরগুলো সাধারণত এক্ষুনি প্রকাশ করতে হবে, নইলে পাঠককূল বা জাতি ভয়ানক ক্ষতির মুখে পড়বে এমন হয় না। এ কারণে এ ধরনের খবর প্রকাশের জন্য বেশ একটু সময় নিতে হয়। এই সময়ে আপনাকে যা নিশ্চিত হতে হয় তা হচ্ছে, এই খবর প্রকাশিত হলে ঘটনার কেন্দ্রে যিনি আছেন তার সাথে সম্পর্কিত মানুষগুলোর মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষা। একজন ব্যক্তির যৌন কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে তার পরিবার, বিশেষত তার স্ত্রী/স্বামী, মা-বাবা, পুত্র-কন্যা তাদের মাঝে কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে আপনি বিবেচনা করেছেন কখনো? দেখেন, পাপী ব্যক্তিটির সাথে সম্পর্কিত মানুষগুলো কিন্তু সম্পূর্ণ নির্দোষ।

কিন্তু তারা যে মানসিক আঘাত পেতে পারেন তার পরিণতি ভয়ানক ও সুদূরপ্রসারী হতে পারে। হতে পারে যে নর ও নারীটির কেলেঙ্কারি আপনি ফাঁস করছেন তার স্ত্রী/স্বামী, পুত্র-কন্যা, মা-বাবা আছেন, যারা বা যাদের কেউ একজন কেলেঙ্কারিটা মেনে নিতে না পেরে আত্মহত্যার পথও তো বেছে নিতে পারেন। অনেকে মানসিক অভিঘাত সইতে না পেরে মানসিক রোগী হয়ে যেতে পারেন, কেউ একজন এক্কেবারে চূড়ান্ত পাগলও হয়ে যেতে পারেন। যে সদ্য কৈশোর-উত্তীর্ণ সন্তান এখনো জগতের জটিলতা, কুটিলতা, কামনা-বসনা সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই জানেন না, বোঝেন না; তিনি এমন এক মানসিক আঘাত পেতে পারেন যা তাকে সারা জীবনের জন্য মানসিকভাবে অসুস্থ, সমাজ-বৈরি, হিংস্র, প্রতিশোধ-পরায়ণ ইত্যাদি কতো পরিণতির দিকেই না ঠেলে দিতে পারে।

আজ যে সহ্য করে নিচ্ছে, দশ-বিশ বছর বা তারও পরে সেই ঘটনার নব-অভিঘাত সে সহ্য করতে নাও পারে। মিডিয়ায় সব থেকে যায়, তাড়াহুড়ো করে করা আপনার একটা অপূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তাকে তার উজ্জ্বল সময়েও আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিতে পারে, প্রতিপক্ষ তাকে ধ্বংস করতে ব্যবহার করতে পারে সেই পুরানো সংবাদ। এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে তাই তাদের সুরক্ষার ব্যাপারটি আপনাকে নিশ্চিত করতেই হবে। যদি তা না পারেন, তাহলে জানবেন এই সংবাদ প্রকাশের অধিকার আপনার নেই। আপনি এই অনাধিকার চর্চাটি করছেন মানে আজ বা আগামীর সম্ভাব্য কিছু আত্মহত্যা আর মানসিক রোগী সৃষ্টির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছেন। একটা পাপের প্রতিকার করতে গিয়ে নিজে হয়ে উঠছেন ভয়ানক অপরাধী। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত