প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২-১ গোলে বার্সেলোনাকে হারিয়ে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদ

স্পোর্টস ডেস্ক: প্রথমার্ধে ২ গোলে পিছিয়ে বিরতির পর ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল বার্সেলোনা। ঘুরে দাড়িয়ে একটি গোলও শোধ করেছিল কোম্যানের দল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে টানা দুটি এল ক্লাসিকোতে হারের স্বাদ নিতে হলো তাদের। ধ্রুপদী ম্যাচে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছে।

যদিও ৩০ ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট ৬৬। এক ম্যাচ কম খেলে আতলেটিকো মাদ্রিদেরও সমান পয়েন্ট। কিন্তু হেড টু হেডে এগিয়ে থেকে জিনেদিন জিদানের দল সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছে। বার্সেলোনা ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে।

বার্সেলোনা টানা ১৯ ম্যাচে অপরাজিত থেকে মাদ্রিদের আলফ্রেদো দি স্তেফানো স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল। ডাচ কোচ কোম্যানের অধীনে এই নিয়ে দ্বিতীয় এল ক্লাসিকো ম্যাচ। ৩১ বছরের মধ্যে প্রথম কোন বার্সা কোচ টানা দুটি ম্যাচ হার দেখলো।

৪-৩-৩ ফর্মেশনে ম্যাচের প্রথমার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ বল পজেশনে পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে কিন্তু এগিয়ে ছিল। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-বেনজেমাদের দ্রুতগতির ফুটবলে বার্সার ডিফেন্স এলোমেলো হয়ে যায়। আর বার্সেলোনা ৩-৫-২ ফর্মেশনে সেভাবে সুবিধা করতে পারছিল না। এল ক্লাসিকোতে লিওনেল মেসির এটা ৪৫ তম ম্যাচ। স্পর্শ করেছেন সার্জিও রামোসকে। কিন্তু প্রথমার্ধে মেসির পারফরম্যান্স তেমন উজ্জ্বল ছিলো না।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে রিয়াল মাদ্রিদ এগিয়ে যায়। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় জিনেদিন জিদানের দল। ভাসকুয়েজের ডান প্রান্তের ক্রসে করিম বেনজেমা বক্সের ভিতরে ব্যাক ফ্লিকে দৃষ্টিনন্দন গোল করেন। বল গোলকিপার টের স্টেগেনের হাতে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। যদিও বেনজেমার সামনে ডিফেন্ডার আরাজো থাকলেও দলকে কিছুই করতে পারেননি।

১৬ মিনিটে অবশ্য বার্সেলোনা ম্যাচে সমতা আনতে পারতো। মেসির ক্রসে উসমান দেম্বেলে লক্ষ্যে হেড নিতে পারেননি।

এরপরে রিয়াল আবারও ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়। ২৮ মিনিটে বকসে ঢোকার মুহূর্তে ভিনিসুয়াস জুনিয়রকে বাধা দেন রোনাল্দ আরজু। ফ্রি-কিক থেকে টনি ক্রুজের শট ডিফেন্ডার দেস্তের শরীরে লেগে গোললাইনে থাকা জর্দি আলবা হেড করে ক্লিয়ার করতে গিয়ে জালেই জড়িয়ে দেন!

৩৪ মিনিটে ভালভার্দের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলে ব্যবধান ৩-০ করা হয়নি।

এরই ফাঁকে বার্সেলোনা আক্রমণে গেলেও উসমান দেম্বেলে সফল হতে পারেনি। বক্সের ভিতরে এই ফরোয়ার্ড পরে গেলেও পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি রেফারি।

তবে শেষ দিকে বার্সা দুটি ভালো সুযোগ পেয়েছিল। মেসি কিছুটা ঝলসে উঠেন। কর্নার থেকে নেওয়া তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আর ঠিক এরপরই কর্নার থেকে বল পেয়ে লক্ষ্যে শট নিলেও গোলকিপার কোর্তোয়া গোল হতে দেননি।

বিরতির পর বার্সোলোনা ফর্মেশনে বদল আনে। ৪-৩-৩ ফর্মেশনে গ্রিজম্যান মাঠে নামেন। বৃষ্টির তেজও তখন বেশ বেড়েছে। এরই সঙ্গে বার্সা কিছুটা তেড়েফুঁরে খেলতে থাকে। ৬০ মিনিটে সুফলও পায় কাতালানরা। জর্দি আলবার ক্রসে মিনগুয়েজা ভলি শটে ব্যবধান কমিয়ে আনেন।

এসময় পাল্টাপাল্টি আক্রমণে ম্যাচ আরও জমে উঠে। পরতে পরতে তখন উত্তেজনা। কিন্তু কাংখিত গোলের আর দেখা পাওয়া হয়নি।

ইনজুরি সময়ে মেসির ফ্রিকিক গোলকিপার তালুবন্দি করলে বার্সাকে হতাশই হতে হয়। আর ডি জংয়ের শট বারে লেগে ফিরে আসলে ম্যাচে সমতা আনা হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ২-১ স্কোরলাইন রেখেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত