প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিদেশে বিনিয়োগ নীতিমালার খসড়া: ঋণ ও করখেলাপির সুযোগ নেই

নিউজ ডেস্ক: শুধু রফতানিকারকরা বিদেশে বিনিয়োগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ পূর্ববর্তী ৫ বছরের রফতানি মূল্যের ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করা যাবে। অবশ্য উদ্যোক্তা ঋণখেলাপি বা কর খেলাপি হলে এ সুবিধা পাবে না।

শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনা, অর্থায়ন এবং বিনিয়োগে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানবসম্পদ না থাকলে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে না। আর বিনিয়োগ পরবর্তী সব ধরনের প্রাপ্য যেমন লভ্যাংশ, বেতন, রয়্যালটি, কারিগরি ফি, পরামর্শক ফি, কমিশন ৯০ দিনের মধ্যে দেশে আনতে হবে।

এসব বিধান রেখে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি বিনিয়োগ নীতিমালার খসড়া করা হয়েছে। এখন খসড়া নীতিমালার ওপর মতামত দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতের পর অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। ২০১৭ সালে এ নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

নীতিমালার প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বহির্বিশ্বে বিনিয়োগ একদিকে যেমন বিশ্বের কাছে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে প্রকাশ করে, তেমনি এর ফলে নতুন বাজারে দেশের প্রবেশাধিকার ঘটে, মধ্যবর্তী প্রক্রিয়াকৃত পণ্য কম মূল্যে আমদানি সুযোগ ঘটে এবং বিদেশি প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার পাওয়া যায়। বিনিয়োগকৃত দেশ থেকে ব্যবসার লাভ প্রত্যাবাসন এবং সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের রফতানি আয় বৃদ্ধির কারণে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

বিনিয়োগকৃত দেশের সম্পদ, কাঁচামাল এবং প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার তৈরি হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্নমুখী সামর্থ্য ও দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং তা বিভিন্ন মাধ্যমে নিজ দেশেও প্রতিসরিত হয়। এছাড়া বিনিয়োগকৃত দেশের বিভিন্ন খাতে কৌশলগত অবস্থান সৃষ্টি হয়, যার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ দেশের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অগ্রসরতা তৈরি হতে পারে। তবে ভুল পদ্ধতি ও খাতে বিনিয়োগ করা হলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষতি এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাবের কারণ হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় বিনিয়োগের সদিচ্ছা বাস্তবায়িত হচ্ছে না এবং বিনিয়োগের বিভিন্ন ধাপে বিনিয়োগকারীরা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষত বিনিয়োগের ক্ষেত্র চিহ্নিতকরণ, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বিদেশে প্রেরণের পদ্ধতি নির্ধারণ, ব্যবসায় অর্জিত মুনাফা দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় নীতি-নির্ধারণের লক্ষ্যে নীতিমালা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিদেশে বিনিয়োগকে একটি কাঠামোতে আনতে নীতিমালা করা হচ্ছে। একটি খসড়া করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে বিনিয়োগ যেহেতু একটি বড় ব্যাপার তাই নীতিমালা চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে। মন্ত্রণালয়-বিভাগগুলোর মতামত পাওয়ার পর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এরপর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তৎকালীন এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিদেশে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ নীতিমালা তৈরির বিষয়ে সভা হয়। সেই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নীতিমালার খসড়া করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, দেশে বিনিয়োগের মন্দা চলছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা বিদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তিনি বলেন, যারা বিনিয়োগ করতে চায়, ওইসব ব্যবসায়ীকে বলতে হবে, দেশ কিভাবে লাভবান হবে। তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত, যে টাকা তারা বিদেশে নিতে চায়, ওই টাকা দেশে বিনিয়োগ করতে আপত্তি কোথায়? দেশে বিনিয়োগ করলে কর্মসংস্থান বাড়বে। ফলে সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

যেসব দেশে বিনিয়োগ করা যাবে : খসড়ায় উল্লেখ করা হয়, সাধারণভাবে যেসব দেশে বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ করার, কাজ করার ও উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশে পাঠানোর বিধি-নিষেধ নেই, সেইসব দেশে বিনিয়োগ করা যাবে। এছাড়া যেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি রয়েছে এবং বিনিয়োগ, মূলধনী লাভসহ মূলধন, লভ্যাংশ ও অন্য আয় যেমন কারিগরি ফি, রয়্যালটি, পরামর্শক ফি, কমিশন বা অন্য পাওয়া বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ আছে সেখানে বিনিয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে যেসব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এবং জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রকের দফতরের (ওএফএসি) নিষেধাজ্ঞা আছে সেসব দেশে বিনিয়োগ করা যাবে না।

আবেদন প্রক্রিয়া : রফতানিকারকের সংরক্ষিত কোটা হিসাবে (এক্সপোর্ট রিটেনসন কোটি) পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে বিদেশে বিনিয়োগের জন্য উদ্যোক্তাদের বিডার কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন পর্যালোচনা জন্য বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি থাকবে। কমিটি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত নিয়ে বিনিয়োগের অনুমোদন দেবে।

যেসব খাতে বিনিয়োগ করা যাবে : সব খাতেই বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানের দেশের যে ধরনের ব্যবসা রয়েছে, তার অগ্রবর্তী বা পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। একইসঙ্গে যেসব খাতে অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি পেশাজীবী, কর্মকর্তা বা কর্মচারী নিয়োগ করা যাবে, সে রকম খাতকে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া যেসব পণ্য উৎপাদন করলে বাংলাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে তা আমদানি করা যাবে সেসব খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তহবিল অপব্যবহারের শাস্তি : বিদেশে বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ দেশে প্রত্যাবাসনে ব্যর্থ হলে তা অর্থ পাচার ও মানি লন্ডারিং অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ অনুযায়ী আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী, পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য কর্মকর্তারা দায়ী থাকবে এবং এ দুই আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য হবে। পাশাপাশি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী, পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য কর্মকর্তার নিকট অর্থ আদায় করা হবে। – যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত