প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুযোগ বুঝে খেজুরের দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

নিউজ ডেস্ক: রোজার বাকি আছে এখনো পাঁচ দিন। এর মধ্যেই খুচরা বাজারে বেড়েছে খেজুরের দাম। প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেওয়া বাজার চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে সাধারণ মানের খেজুর বিক্রি হয়েছিল ১২০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। গতকাল বৃহস্পতিবার একই মানের খেজুর বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ সাধারণ মানের খেজুরের দাম গড়ে কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞার হুজুগে স্বল্প সময়ের কেনাকাটার চাপ রয়েছে বাজারগুলোতে। এ ছাড়া ফুটপাতে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বসতে না পারায় বাজারে প্রতিযোগিতাও কমে গেছে। এর সুযোগ নিচ্ছেন স্থায়ী দোকানের ব্যবসায়ীরা। সে কারণে পাইকারিতে খেজুরের দাম না বাড়লেও খুচরায় বাড়ছে।

দেশে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা বাড়ে খেজুরের। সারা বছর খেজুরের চাহিদা কম থাকলেও রোজায় ধনী-গরিব সবার ইফতারে খেজুর অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে থাকে। খেজুর আমদানিকারকদের তথ্য মতে, প্রতি মাসে দেশে খেজুরের চাহিদা রয়েছে পাঁচ-ছয় হাজার মেট্রিক টনের। রোজায় এ চাহিদা বেড়ে ৩০-৩৫ হাজার টনে দাঁড়ায়। এ বছর রোজা সামনে রেখে ৫০ হাজার টনের বেশি খেজুর আমদানি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর বাদামতলীসহ বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ রকম খেজুর পাওয়া যাচ্ছে এখন। সারা বছর সাত-আট ধরনের খেজুর বিক্রি হলেও রোজায় নতুন কিছু ধরন যোগ হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চলে ইরাক, তিউনিশিয়া ও আলজেরিয়া থেকে আমদানি করা জাহেদি, লুলু (বরই), ধাবাস এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা নাগাল খেজুর। তুলনামূলক দাম কম হওয়ায় প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ইফতারে এসব খেজুর খায়।

বাংলাদেশ ফল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আজোয়া, মরিয়মসহ সব ধরনের খেজুরের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে দাম কম। তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা ইরাকি জাহেদি খেজুর বিক্রি করি ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। এ বছর এখন পর্যন্ত এ মানের খেজুর বিক্রি করছি ৫৫ থেকে ৮৪ টাকা কেজি দরে। ভালো মানের আজোয়া বিক্রি করছি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে।’

এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, ‘সরকারি বিধি-নিষেধের কারণে বাজারের সময় সীমিত হওয়ায় ক্রেতার চাপ বেড়েছে। বিপরীতে দোকানের সংখ্যা কম। আমার মনে হচ্ছে, বাজারে প্রতিযোগিতা না থাকায় কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন।’ তিনি মনে করেন, আড়তের দামের সঙ্গে ১৫ শতাংশ মুনাফা যোগ করে বিক্রি করলেই যৌক্তিক দাম হবে।

আড়তে সাধারণত খেজুর বিক্রি হয় ১০ কেজির কার্টনে করে। বর্তমানে নাগাল নামের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে, জাহেদি ৮০, এজিদ ১৪০, লুলু (বরই) ১৫০, ধাবাস ১৬০ থেকে ১৬৫, মরিয়ম ৪৮০ থেকে ৫০০ এবং আজোয়া বি গ্রেড ২৮০ থেকে ২৯০, এ গ্রেড ৪৭০ থেকে ৪৮০ টাকা কেজি দরে। আড়ত থেকে এই খেজুর পাইকারি ব্যবসায়ীদের হাত হয়ে খুচরা বাজারে আসে।

গতকাল রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, জাহেদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। দিন কয়েক আগেও খুচরা বাজারগুলোতে এই মানের খেজুর ১০০-১১০ টাকায় পাওয়া গেছে। ধাবাস খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে। সপ্তাহখানেক আগেও এ মানের খেজুর কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে পাওয়া যেত। কিছুটা ভালো মানের মধ্যে আম্বার, আজোয়া, মরিয়ম খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে এক হাজার টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া আধাকেজির প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা সুমনের দাবি, খেজুরের দাম আগের মতোই রয়েছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ হয়তো সুযোগ বুঝে দাম বাড়াচ্ছে, কিন্তু খেজুরের বাজার এবার স্বাভাবিক। রোজায় সরবরাহ ঠিক থাকলে দাম আর বাড়বে না বলেই মনে করছেন তিনি। – কালের কণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত