প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মহামারীকে নাগরিক অধিকার খর্বের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে দেশগুলো

লিহান লিমা: [২] ২০২০/২১ সালে বিশ্বের ১৪৯টি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, নাগরিক অধিকার খর্ব করতে এবার বেশিরভাগ দেশের সরকার করোনা ভাইরাসকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনে শীর্ষে রয়েছে মিশর, লেবানন, ব্রাজিল, মেক্সিকো, বুলগেরিয়া, মিয়ানমার ও কেনিয়া। অ্যামনেস্টি ওয়েব

[৩]বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এই ভাইরাস সংখ্যালঘু জাতিগত সম্প্রদায়, শরণার্থী ও নারীদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সুবিধাবঞ্চিত, নিপীড়িত ও বৈষম্যের শিকার হওয়া ব্যক্তিরা। স্বাস্থ্যকর্মী, সম্মুখসারীর কর্মী ও অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর মহামারী মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। ধনী দেশগুলোর আমিই প্রথম টিকা নীতির ফলে দরিদ্র দেশগুলো টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

[৪]প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, দুর্নীতি ও সরকারের করোনা ভাইরাস মোকাবেলা নিয়ে প্রতিবেদনের জন্য সাংবাদিকরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাক-স্বাধীনতাকে খর্ব করতে ২০১৮ সালে প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিভিন্ন ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিচারবর্হিভূত হত্যকাণ্ড চালিয়েছে। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী অধিকারকর্মীরা ধর-পাকড়ের শিকার হয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবায় জনগণের অধিকার রক্ষা করা হয় নি। এছাড়া আশ্রয় দেয়া ১০ লাখের বেশি রেহিঙ্গা শরণার্থীর নিরাপদ প্রত্যাবসনে পরিকল্পনারও কোনো অগ্রগতি অর্জন করা যায় নি।

[৫]সরকারী হিসেবে জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯’শর বেশি মামলা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের হয়েছে। ১ হাজার জন্য অভিযুক্ত ও ৩৫৩জন আটক হয়েছেন। হামলার শিকার হয়েছেন কমপক্ষে ২৪৭জন সাংবাদিক। একই সময়ে এই আইনের ১৪৪ ধারা ব্যবহার করে ১৭টি সভা-সমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন ২২২ জন। এদের মধ্যে ১৪৯জন গ্রেপ্তারের পূর্বে ও ৩৯জন গ্রেপ্তারের পরে নিহত হন। অন্যরা নির্যাতন এবং অন্যান্য কারণে প্রাণ হারান।

[৬]এই বছর ২ হাজার ৩৯২টি নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬২৩টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ৪৪০জন নারী ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

[৭]পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৮৫টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ৯৯জন গণগ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন, ১০৪টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে, স্থানীয় সংঘর্ষে ৬৯জন আদিবাসী অধিকার কর্মী নিহত হয়েছেন, ৫০জনকে অপহরণ করা হয়েছে, ৮২টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।

[৮]অ্যামনেস্টির নতুন মহাসচিব অ্যাগিনস কালামার্ড বলেন,‘আমরা একটি হতাশাজনক বৈশ্বিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি। এমনকি সবচেয়ে বিভ্রান্ত নেতারাও এটি অস্বীকার করতে পারছেন না যে মহামারী পরিস্থিতিতে আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। মহামারী বহু দশকের বিদ্যমান অসমতা ও ক্ষয়প্রাপ্ত জনসেবা খাতের দুর্বলতাকে প্রশস্ত করেছে।’

 

সর্বাধিক পঠিত