প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে পঞ্চগড়ের আলু

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে পঞ্চগড়ে উৎপাদিত আলু। এছাড়া নেপাল, ভূটানসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ জেলার আলু রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাইজিংবিডি

এতে ব্যস্ততা বেড়েছে জেলা বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ আলু চাষি ও শ্রমিকদের। রপ্তানির জন্য আলু প্রক্রিয়াজাত করায় নানা ধাপে বেশ কিছু শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। জমি থেকে আলু সংগ্রহের পর আলু বাছাই, গ্রেডিং, ওজন, প্যাকিং, ট্রাকে লোডসহ নানা কাজে নিত্য ব্যস্ত এখন আলু শ্রমিকেরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার আলুর বাম্পার ফলনেও শুরুর দিকে স্থানীয় বাজারে আলুর দাম কম ছিলো। এতে হতাশ হয়ে পড়েন চাষিরা। কিন্তু বিদেশে রপ্তানি শুরু হওয়ার পর চাঙা হয়েছে বাজার। এতে হতাশগ্রস্ত চাষিরা খুঁজে পেয়েছেন আলোর দিশা।

জেলা বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) দুপুরে ২৮ মেট্রিক টন ডায়মন্ড জাতের আলু রপ্তানির মধ্যে দিয়ে জেলার আলু রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু হয়। দেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কেএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং মালেশিয়ার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিনহুয়া ট্রেডিং কর্পোরেশনের মাধ্যমে ওই দেশে আলু রপ্তানি করা হচ্ছে।

সাড়ে ৮ কেজির প্রতি প্যাকেট আলু পঞ্চগড় থেকে কন্টেইনারে করে প্রথমে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে তা কার্গো জাহাজে করে পৌঁছাবে মালয়েশিয়ায়। ডায়মন্ড জাতের হালকা হলুদ রঙের এসব আলুর প্রতিটির ওজন ৯০ থেকে ২০০ গ্রাম পর্যন্ত।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, গ্রানুলা, টিপিএস, কারেছ, এস্টারিসসহ ২০ টিরও বেশি জাতের আলুর চাষ হয়েছে। এবার মোট আলু উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৯শ ৩৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে জেলায় বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষিরা প্রর্দশনী প্লটসহ ৩০০ একর জমিতে আলুর চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২০ একর জমিতে রপ্তানি যোগ্য ডায়মন্ড জাতের আলুর চাষ হয়েছে। এছাড়া আরো ৩০ হেক্টর জমিতে রপ্তানি যোগ্য অন্যান্য জাতের আলুর চাষ হয়েছে।

জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের তহশীলদার পাড়ার বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ আলু চাষি মো. আব্দুল মতিন জানান, এবার ১১ একর জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলুর আবাদ করেছেন তিনি। তার উৎপাদিত আলুর মধ্যে সাড়ে ১৮ মেট্রিক টন মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের কেরামত পাড়া এলাকার বিএডিসির আলু চাষি মো. বায়েজীদ বোস্তামী বলেন, এ বছর ২৩ একর জমিতে ডায়মন্ডসহ কয়েকটি জাতের আলুর আবাদ করেছি। উৎপাদিত মোট আলুর মধ্যে ৩ মেট্রিক টন আলু দিয়েছি। বাকি আলু বিএডিসি কর্তৃপক্ষ তাদের ভিত্তিবীজ, মান ঘোষিত বীজ হিসেবে নিবে। অবশিষ্ট কিছু আলু সংরক্ষণ করব এবং বাকীগুলো বাজারে বিক্রি করবো।

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ন্যানো এগ্রোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভূটান ও শ্রীলংকাসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশের আলুর বাজার রয়েছে। আমরা কেএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যেমে মালয়েশিয়াতে আলু রপ্তানি করছি।

তিনি জানান, চলতি মৌসুমে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আলু রপ্তানি হয়েছে। আরো বেশ কিছু আলু অন্য কোম্পানির মাধ্যমে যাচ্ছে। বর্তমানে যে অর্ডার আছে সে পরিমাণ আলুই কিনবেন তারা। নতুন অর্ডার পেলে তারা আরো রপ্তানি করবেন, সেই প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত