প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুটান সেই রাতেই ছয় ঘন্টার মধ্যে তিনশ লোককে খুঁজে বের করে

এ বি এম কামরুল হাসান: ডা. লোটে শেরিং। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। দেখা হয়েছিল একবার। কথাও হয়েছিল দুয়েক মিনিট। সালটা মনে নেই। সম্ভবত দুহাজার এক সাল। আমি কাজ করছিলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওটিতে। তিনি এসেছিলেন বিদায় নিতে। ভুটান ফিরে যাবেন একেবারে। আমার এক শিক্ষক পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিনের স্বল্প আলাপে মুগ্ধ হইনি। মুগ্ধতা এসেছে কোভিড নিয়ন্ত্রণে তাঁর দুটি পদক্ষেপে। প্রথমটি কোভিড এর শুরুতে। দ্বিতীয়টি কদিন আগে দেখলাম সংবাদপত্রে। তিনি বাংলাদেশ সফর শেষে একুশ দিনের কোয়ারেন্টাইনে গেলেন।

লোটে শেরিং একজন চিকিৎসক। বিজ্ঞান বোঝেন। বিজ্ঞান দিয়েই মোকাবিলা করছেন কোভিড পরিস্থিতি । দিন তারিখ স্পষ্ট মনে আছে আমার। গত বছরের ছয় মার্চ। বাংলাদেশে কোভিডের প্রথম রোগি সনাক্তের দুদিন আগের কথা। আমেরিকা থেকে এসেছিলেন ছিয়াত্তর বছরের এক পর্যটক । তিনি থিম্পুতে নামার পর তাঁর কোভিড নমুনা নেয়া হয়। রিপোর্ট পজিটিভ। তিনিই ভুটানের প্রথম কোভিড পজিটিভ রোগি। মধ্যরাতে খোঁজা শুরু হয় পর্যটককে । ভুটান সেই রাতেই ওই পর্যটকের সংস্পর্শে আসা প্রায় তিনশ লোককে খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইনে পাঠায়। যাদের মধ্যে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা অন্যান্য যাদের সংস্পর্শে এসেছিলো, তারাও ছিল। সময় লেগেছিলো ছয় ঘন্টা আঠারো মিনিট। তাও আবার রাতে। সেদিন বুঝেছিলাম লোটে শেরিংই পারবেন সার্থকভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করতে । সেদিন থেকেই আমি লোটে শেরিং এর অফিসের ফেসবুক পেজ ফলো করি । লোটের এই ছয় ঘন্টা আঠারো মিনিটের সার্থক কাহিনি এদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উর্ধতনদের জানাই। গর্ব করে বলি, লোটে শেরিং বাংলাদেশ থেকে পাশ করা ডাক্তার। গরিব দেশ হয়েও যারা সার্থকভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে তাদের মধ্যে ভুটান অন্যতম। সেখানে আজ পর্যন্ত পজিটিভ রোগির সংখ্যা আটশ বাহাত্তর, মৃত্যু এক। অথচ সেদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেয়া আই সি ইউ চিকিৎসকের সংখ্যা এক। দেশজুড়ে চিকিৎসকের সংখ্যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইনের অর্ধেকেরও কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে দু সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইন এর পরামর্শ দিয়েছে সেখানে ভুটান করে তিন সপ্তাহ। তাদের যুক্তি হলো দু সপ্তাহ কোয়ারেন্টাইন এর পরও শতকরা এগারো ভাগ ঝুঁকি থাকে ভাইরাস ছড়ানোর। এতটুকু ঝুঁকিও তারা নিতে চায় না। তাইতো লোটে শেরিংও তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনে গেলেন। দেশ ও জনগণের স্বার্থে। একেই বলে বিজ্ঞান দিয়ে বিজ্ঞান নিয়ন্ত্রণ। লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত