প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোজায় ভোগাতে পারে চাল-তেলের দাম

নিউজ ডেস্ক: করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় হিমশিম খাচ্ছে দেশ। মাত্র ১৩ দিন (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল) পরেই রমজান। গত রমজানে হুট করে অনেক পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। তাই বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনেক ক্রেতা ইতিমধ্যে রমজানের বাজার শুরু করেছেন। তবে চাল, ভোজ্যতেল, আদা, ছোলা ও চিনির দাম ভোগাচ্ছে অনেক ক্রেতাকে। ছোলা ও আদার দাম নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে না পারলেও চাল ও ভোজ্যতেলের দাম কমার সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যবসায়ীরা। বাড়তি দামের চাপে সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দোকানে ভিড় করছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

এদিকে গত জানুয়ারিতে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৯০ টাকা করেছিল টিসিবি। গতকাল বুধবার এই দাম আবারও ১০ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। কেজিতে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে চিনি ও পেঁয়াজের দাম। আজ বৃহস্পতিবার থেকে কেজিপ্রতি চিনি ৫৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রি হবে। এছাড়া আজ থেকে কেজিপ্রতি ৫৫ টাকা দরে ছোলা ও ৮০ টাকা দরে খেজুর বিক্রি শুরু করবে টিসিবি। গতকাল টিসিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘দাম বাড়ানো হয়নি। বাজারের মূল্যের সঙ্গে চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম সমন্বয় করে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, বাজারের দামের সঙ্গে অনেক বেশি পার্থক্য থাকলে কালোবাজারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা আবু বকর বলেন, ‘চালের দাম আমাদের হাতে নেই। তেলের দাম তো সরকার নির্ধারণই করে দিয়েছে। চালকল মালিকরা জানিয়েছেন, আপাতত এই দামেই বিক্রি হবে। তবে সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। আর সামনে তো বোরো আসছেই। হয়তো মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দাম কমে যাবে। তবে তখন রমজানও অবশ্য শেষ।’

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখনো প্রতি কেজি মিনিকেট চাল খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ৬৪-৬৫ টাকা এবং নাজিরশাইলের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬৮-৭০ টাকায়। পাইজাম মোটা চালের কেজি ৫০ টাকা এবং ব্রি-২৮ চাল বিক্রি হয়েছে ৫৪-৫৫ টাকা দরে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে চালের তেমন সংকট নেই। তবে দাম চড়া। বোরো মৌসুম শুরুর আগে অর্থাৎ মে মাসের আগে দাম কমার তেমন একটা সম্ভাবনা নেই।

চলতি বছর দুই দফায় বাড়ানো হয়েছে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম। বর্তমানে বাজারে লিটারপ্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৩৯ টাকা দরে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটারও বিক্রি হচ্ছে ১১৭ টাকায়। তবে কোনো কোনো দোকানদার সব ধরনের তেলে লিটারে ২-৩ টাকা ছাড় দিচ্ছেন।

রমজানের অতি প্রয়োজনীয় দুটি উপাদান হলো ছোলা, মসুর ডাল, পেঁয়াজ ও চিনি। কয়েকদিন আগেও এই পণ্যগুলোর দাম ব্যাপক চড়া ছিল। তবে গত ২-৩ দিন ধরে কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজারে কেজিপ্রতি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭২ টাকা, ছোলা ৭০-৮০ টাকা, মসুর ডাল (চিকন দানা) ১১০ টাকা, মসুর ডাল (মোটা দানা) ৮৫-৯০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ ৩৫ টাকা। বাজারে দেশি আদার দাম কম থাকলেও চায়না আদার দাম চড়া। কেজিপ্রতি দেশি আদা ৭০-৮০ টাকা এবং চায়না আদা ১৪০-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মাসুম রেজা বলেন, ‘অন্যান্য পণ্যের দাম তবু যা একটু নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু রমজানে চাল-তেলে খুব ভোগাবে। অন্যান্য সময়ে তবু মোটা চাল খাওয়া যায়। রমজানে সবাই একটু ভালো চাল খেতে চায়। অথচ বাজারে ভালো চালের নাম নিলেই কেজিতে ৬৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। আর তেলের দাম নিয়ে তো কিছু বলার নেই। শুনেছি ভ্যাট কমালে নাকি তেলের দাম কিছুটা কমত। সরকারের উচিত করোনাকালে মানুষের কথা বিবেচনা করে ভ্যাট প্রত্যাহার করা।’

এদিকে গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও খামারবাড়ি এলাকায় টিসিবির ট্রাকে প্রচুর ভিড় দেখা গেছে। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য কিনলেও বেশিরভাগই এর ধার ধারছেন না। ওই দুই ট্রাকের ডিলার জানিয়েছেন, নিয়মিতই এখানে মানুষের ভিড় থাকে। টিসিবির ট্রাকে প্রতি লিটার ৯০ টাকায় ২ লিটার বোতলের সয়াবিন তেল, ১৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ, ৫৫ টাকায় মসুর ডাল এবং ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রি হচ্ছে। শিগগিরই এসব ট্রাকে খেজুর ও ছোলা বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার আরিফুল হাসান।

আজ থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৩ কেজি ছোলা, ২ কেজি মসুর ডাল ও ৫ লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন। অনলাইনের মাধ্যমে মিলবে পেঁয়াজ। সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীতে ১০০টি এবং চট্টগ্রামে ২০টিসহ সারা দেশে ৫০০টি ট্রাকের মাধ্যমে সব জেলা ও উপজেলা শহরে এই বিক্রি কার্যক্রম শুরু হবে। প্রতিটি ট্রাকে ৮০০-১২০০ কেজি চিনি, ৬০০-৭৫০ কেজি মসুর ডাল, ১২০০-১৫০০ লিটার সয়াবিন তেল, ১০০-৩০০ কেজি পেঁয়াজ, ৪০০-১০০০ কেজি ছোলা ও ১০০ কেজি খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

খামারবাড়িতে টিসিবির ট্রাকে পণ্য কিনতে আসা সবুজ কাজী বলেন, ‘এখান থেকে মাল (পণ্য) কিনলে অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। এজন্য একটু কষ্ট করে হলেও লাইনে দাঁড়িয়ে কিনি।’- দেশ রূপান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত