প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেফাজতের তাণ্ডবে অপশক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে ডিবি

ডেস্ক রিপোর্ট : মোদীবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের নামে গত কয়েকদিনে ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারাদেশে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। তাদের এই তাণ্ডবের পেছনে অন্য অপশক্তির শামিল থাকা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অপরাধতথ্য ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর কেন্দ্র করে ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ মিছিল করে হেফাজতে ইসলাম। সেখানে পুলিশ ও সরকারিদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হেফাজতের বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করে হেফাজতের সমর্থক ও মাদরাসা ছাত্ররা। ওই সংঘর্ষে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

এরপর শনিবার (২৭ মার্চ) সারাদেশে বিক্ষোভ করে হেফাজত। রোববার (২৮ মার্চ) সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করে হেফাজতে ইসলাম। তাদের ডাকা হরতালে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি জেলায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিক-পুলিশসহ অনেকেই আহত হয়।

এসব ঘটনায় একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়। বেশ কয়েকটি মামলার তদন্ত ইতোমধ্যে করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজ, ভিডিওফুটেজ, বিভিন্ন টেলিভিশনের ফুটেজ ও ছবি দেখে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে শামিল হওয়া অপশক্তি ও অন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগ।

সোমবার (২৯ মার্চ) মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ সারাদেশে ঘটে যাওয়া তাণ্ডব নির্দিষ্ট কোনো দলের নয়। হেফাজতে ইসলামের ঘাড়ে বন্দুক রেখে অন্য সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বা অপশক্তি এই তাণ্ডবে শামিল হয়েছে বলে আমরা অনুমান করছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অপশক্তি শামিলের প্রমাণও পাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই ঘটনায় অনেকেই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, এসব ঘটনার কয়েকটি মামলা তদন্ত করছে ডিবি, কয়েকটি দেখছে ডিএমপির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আমরা অভিযুক্তদের সিসিটিভি ও টেলিভিশনের ফুটেজ দেখে শনাক্তের চেষ্টা করছি। কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা অবনতিতে জড়িত থাকে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় ৬৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলাগুলোর একটিরও তদন্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেয়নি তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মামলাগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, মামলার তদন্ত এগিয়েছে। খুঁটিনাটি কিছু প্রমাণের অপেক্ষায় তদন্ত এতদিন মুলতবি ছিল। আমরা সেগুলো গুছিয়ে এনেছি, দ্রুতই সেগুলো নিষ্পত্তি করা হবে।
সূত্র- বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত