প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শামীম আহমেদ: মোদিকে অপছন্দ করি, কিন্তু মোদিকে ঢাল বানিয়ে সরকার পতন করে বাংলাদেশকে আইএসএ’র ঘাঁটি বানানোর ষড়যন্ত্র সমর্থন করবো না

শামীম আহমেদ: মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। সেটা মোদী হলেও যা, সোনিয়া গান্ধী হলেও তা। ‘সরকার টু সরকার’ কূটনৈতিক আমন্ত্রণ। নরেন্দ্র মোদীকে পছন্দ করি না। বাবরী মসজিদে হামলা, মুসলিমদের ওপর নির্বিচারে অত্যাচার, হামলার কারণে তাকে অপছন্দ আমার। একটা দেশের ঐতিহাসিক একটা মসজিদ জাস্ট দিনের বেলা হামলা করে ভেঙে ফেললো, তারপর সেই দেশের আদালত বহু বছর পর রায় দিলো যে, ‘ভাই মানিয়ে নাও, তোমাদের অন্য জায়গায় জমি দিচ্ছি, সেখানে আরেকটা মসজিদ বানিয়ে নাও, এটা রাম মন্দিরের জন্য দিয়ে দাও।’ আদালত কেন এই রায় দিয়েছে? রামমন্দির আগে ছিলো এজন্য? না। ভারতের আদালত এই রায় দিয়েছে। কারণ তারা জানে বাবরী মসজিদকে আগের জায়গায় আবার বানাইতে দিলে মোদী ও তার দল হাজার হাজার মুসলমানকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। রায়ে আদালত বলছেন, ভারতের ‘বৃহত্তর’ শান্তি রক্ষার্থে তারা এই কাজটা করছেন।

অনেক কাজই এমন ‘বৃহত্তর’ স্বার্থে করতে হয়। মোদীকে অপছন্দ করা কোটি বাংলাদেশি রাস্তায় প্রতিবাদ জানাইতে পারে। তাতে কোনো সরকারই আপত্তি করতো না। কিন্তু ওই কোটি জনতার মধ্যে লাখ খানেক তৌহিদি জনতা আছেন, যাদের মোদীর চাইতে শেখ হাসিনা বেশি অপছন্দ। কারণ শেখ হাসিনার বাবা শেখ মুজিব রাস্তায় বসে পাকিস্তানের মাইর খায়নি, বাঙালি হয়ে পাকিস্তানিদের দাসত্ব করেনি। এই লাখ তৌহিদীর শখ ছিলো পাকিস্তানের তাবেদারি করা, তাদের দাসত্ব করা। শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কারণে তাদের শখ, স্বপ্ন যুগের পর যুগ ধরে ভেঙে গেছে, যাচ্ছে।

ভারতের ওই আদালতের মতোই বাংলাদেশ সরকারকেও কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়, দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে। ফেসবুক ও ইন্টারনেটের গতি শ্লথ করতে হয়। অনেকের পোস্ট কমেন্ট দেখলাম, ‘কেমন স্বাধীনতা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারি না, ফেসবুক ব্যবহার করতে পারি না।’ এমন যতোজনের কমেন্ট স্ট্যাটাস দেখছি, তাদের একজনেরও জীবনে এমন কোন পোস্ট দেখিনি যেটার কোনো ‘Intellectual value’ আছে। তাদের অর্থহীন সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থিতির চাইতে এক সপ্তাহ ইন্টারনেটের গতি শ্লথ রেখে যে হাজারো প্রকৃত বাংলাদেশির জীবন বাঁচানো হচ্ছে, বাংলাদেশকে জামায়াত-বিএনপি-পাকিস্তানের ঘাঁটি বানানো থেকে রক্ষা করা হচ্ছে, সেটা তাদের বোঝাতে যাওয়াও অর্থহীন। মোদীকে পছন্দ করি না। কিন্তু ভারতের জনগণ করে।

ভারতের নির্বাচন বাংলাদেশের মতো হয়নি। ঠিকঠাক হইছে। সেখানে সর্বকালের সর্বোচ্চ সমর্থন নিয়ে মোদী নির্বাচিত হয়েছেন। আমেরিকায়ও ট্রাম্পের মতো লোকজন, যুক্তরাজ্যে বরিস জনসন টাইপের লোকজন নির্বাচিত হন। ঠিকঠাক নির্বাচন করলে আপনাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী আজকে খালেদা বা তারেক হওয়ার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা ছিলো, যারা আদতে পাকিস্তানি তাবেদার। এখন একদিকে গণতন্ত্র হলো মোদী, ট্রাম্প, বরিস পাবেন, তাও চাইবেন, আবার তারা তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে আসলে সেটার জন্য নিজের দেশের সরকারের পতন চাইবেন- এতোকিছু তো একসঙ্গে হবে না ভাইয়েরা। মোদীকে অপছন্দ করি, কিন্তু মোদীকে ঢাল বানিয়ে সরকার পতন করে বাংলাদেশকে আইএসএ’র ঘাঁটি বানানোর ষড়যন্ত্র করবেন- সেটা সমর্থন করবো না। সেটা ঠেকানো হবে। জয় বাংলা। লেখক : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সর্বাধিক পঠিত