প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে, গণহত্যার অভিশাপ থেকে বিশ্ব কখনও মুক্ত হবে না’

শিমুল মাহমুদ: [২] গণহত্যার ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নির্মূল কমিটির আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে যুক্ত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট আ. ক. ম. মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ২৫ মার্চ সহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পুরো সময়ের মত এমন বর্বরোচিত গণহত্যা পৃথিবীর বুকে কোথাও হয় নি। কিন্তু এই গণহত্যার বিবরণ আমরা বিশ্বে তুলে ধরতে পারি নাই এটা আমাদের সকলের ব্যর্থতা। সিভিল সোসাইটি, নির্মূল কমিটি এবং সরকার সম্মিলিতভাবে ’৭১-এর গণহত্যার বিবরণ বহির্বিশ্বে প্রচার করলে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া সম্ভব।

[৩] তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ক্ষমতা দখলকারী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোশতাকরা মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিপথগামী করার চেষ্টা করেছে। তাদের এ ভূমিকার তদন্ত হওয়া দরকার। ’৭১-এর গণহত্যার জন্য দায়ী পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হাইকমান্ডসহ সকল সংগঠনের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ইতিহাসের মূল্যায়ণের জন্য এ বিচার হওয়া প্রয়োজন। গণহত্যার বিষয়ে বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের মিথ্যাচারের জবাবে গণহত্যার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার প্রচেষ্টায় আমাদের দুর্বলতা রয়েছে। সকলকে ঐকবদ্ধভাবে এই গণহত্যার প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে।

[৪] নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণহত্যার যে রাজনীতি বা দর্শন তার মূল উৎপাটন করা। ’৭১-এর গণহত্যা হয়েছে ধর্মের নামে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা ইসলাম রক্ষার দোহাই দিয়ে বাংলাদেশে ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল। ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলে বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্ব গণহত্যার অভিশাপ থেকে কখনও মুক্ত হবে না। বঙ্গবন্ধু এ কারণেই ’৭২-এর সংবিধানে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিলেন। ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্ত্বা, ভাষা, অঞ্চল যে কারণেই হোক, বিশ্বকে গণহত্যার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে গণহত্যার স্বীকৃতিও জরুরি। এই স্বীকৃতি গণহত্যায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি দেশে দেশে গণহত্যাকারীদের বিচারের পথও সুগম করবে এবং গণহত্যার পুনরাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করবে।

[৫] সহসভাপতি শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আমাদের দরকার। পাকিস্তানি হাইকমাণ্ডসহ গণহত্যায় জড়িত সকল সংগঠনের বিচার করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে গণহত্যার নিষ্ঠুরতার বিবরণ থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারদেরকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ’৭১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসবের পথ সুগম করবে।

[৬] নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদসন্তান কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হলে এ সম্বন্ধে প্রচুর গবেষণা, লেখালেখি ও প্রকাশনা থাকতে হবে। আমাদের আবেগ থেকে বের হয়ে নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে গবেষণার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ’৭১ সালে আমাদের দেশে সংঘটিত অনেক বড় বড় গণহত্যার ঘটনা এখনও বিশ্ববাসীর কাছে অজানা। এগুলো গবেষণা করে প্রকাশ করতে হবে। মন্ত্রণালয় যদি বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বিষয়ে অনুদান প্রদান করে তাহলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে গবেষণার ক্ষেত্র উন্মুক্ত হবে।’

[৭] নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরন্নবী বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমরা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য একসাথে কাজ করব। পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের গণহত্যার স্মৃতি ভুলে গিয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

[৮] নির্মূল কমিটির সর্ব ইউরোপীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ’৭১-এর পরে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকার পরও সাম্প্রদায়িক দলগুলো রাজনীতি করছে। এখন তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি দেয়, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার করে। এসব বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা দরকার।’

[৯] নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ বলেন, ‘২৬ মে ২০১৪ সালে প্রয়োজনীয় আইন তৈরির কথা বলে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানি হাইকমাণ্ডের বিচারের উদ্যোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী ৭ বছরেও বিচারের জন্য আইন হয়নি। রাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আমরা বিচার করব-কি করব না।

[১০] নির্মূল কমিটি আইটি সেল-এর সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময় বলেন, ‘গণহত্যার বিষয়ে গবেষণার কাজগুলো বহির্বিশ্বে পৌঁছানো দরকার। বহির্বিশ্বে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে কাজ করছে, তাদের সাথে সরকারের যোগাযোগ করতে হবে, সহায়তা করতে হবে। সংসদ সদস্যরাও আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধুভাবাপন্ন রাষ্ট্রের সংসদ সদস্যদের কাছে গণহত্যার ইতিহাস পৌঁছে দিতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ফরেন সার্ভিস কমিশনের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হবে।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত