প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ফোনে ডেকে নিয়ে প্রেমিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক-২

ফজলুল হক:[২] গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্বচান্দরা ভাঙ্গা মসজিদ সরকার বাড়ী এলাকায় মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) রাতে প্রেমিকাকে ফোনে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

[৩] এঘটনাটি সকাল থেকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বাড়ীর মালিক ইলিয়াস সরকারসহ ৪-৫ জনের একদল গ্রাম্য মাতাব্বর মিমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

[৪] পরে বাড়ীর মালিক ধর্ষণের শিকার কিশোরীসহ পরিবারের সদস্যদের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে দিয়ে দেশে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা।

[৫] ধর্ষিতার পরিবার কোন উপায় না পেয়ে বিকেলের দিকে থানায় একটি অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামুন হোসেন (১৯) ও প্রেমিক সাগর হোসেনের বাবা মুন্না মিয়াকে আটক করেছেন। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ বছর ।

[৬] সে স্থানীয় একটি পোশাক তৈরির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষার্থী। তারা ওই এলাকার ইলিয়াস সরকারের বাড়ীর একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন।এলাকাবাসী, পুলিশ ও ধর্ষণের শিকার কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৬ মাস ধরে একই এলাকায় বসবাস গার্মেন্টসকর্মী সাগরের সাথে পরিচয় হয় কিশোরীর।

[৭] পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে দুইজনের মধ্যে। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে সাগর হোসেন ওই কিশোরীকে মোবাইল ফোনে ডেকে বাড়ীর বাহিরে নিয়ে যায়। ওই কিশোরী বাড়ীর বাহিরে গেলে পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা সাগর হোসেন, মামুনসহ অজ্ঞাত আরো এক যুবক তাকে জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে একই এলাকার আওলাদ হোসেনের একটি প্লটের বাগানের ভিতরে নিয়ে যায়।

[৮] সেখানে প্রেমিকসহ সংঘবদ্ধদল সারারাত ধর্ষণ করে। এরিমধ্যে রাতেই ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা কয়েকটি এলাকায় খুঁজে না পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। রাত পেরিয়ে সকাল হলে স্থানীয় লোকজন ওই বাগান থেকে অজ্ঞান অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়ীতে নিয়ে আসেন।

[৯] কিশোরীর মা এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে চাইলে বাড়ীর মালিক ইলিয়াস সরকারসহ আরো ৪-৫জন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু কিশোরীর মা রাজি না হওয়ায় বাড়ীওয়ালা ও গ্রাম্য মাতাব্বররা ভাড়া বাড়ী ছেড়ে দিতে নানা চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। পরে স্থানীয় এক যুবকের সহযোগিতায় কিশোরীর মা থানায় গিয়ে ওসি মোঃ মনোয়ার হোসেন চৌধুরির কাছে ঘটনাটি খুলে বলেন। পরে ওসি কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পাঠান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামুন ও প্রেমিক সাগর হোসেনের বাবা মুন্নাকে আটক করেন।

[১০] কালিয়াকৈর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, ওই কিশোরীর ধর্ষণের ঘটনায় প্রেমিকার বাবাসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছি। কিশোরীর মা বাদী হয়ে একটি মামলা দিয়েছেন। অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত