প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস : একটি সহি ডিজিটাল সমতার গল্প!

ডেস্ক রিপোর্ট : এই ছবিতে একজন নারীকে তার মাথার হিজাব খুলে ফেলতে দেখা যাচ্ছে, আরো দেখা যাচ্ছে, দু'দিকের পুরুষরা ভিন্ন দিকে মুখ ঘুরিয়ে ফেলেছেন।
আসলে ঘটনাটা কি?
ঘটনাটা দাগেস্তানের। ককেশাস, তুর্কিস্তান ও আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম উপজাতিদের মধ্যে একটা প্রথা ছিল। যখন নিজ উপজাইত্র ভেতর দুটো গোত্রে লড়াই বেধে যেত এবং তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছুতো তখন সাধারনত কোন নারী এসে দু'দলের মাঝখানে গিয়ে নিজের হিজাব খুলে ফেলতেন।

আধুনিকতা পূর্ব সময়ে মুসলিম পুরুষদের ভেতর সামাজিকভাবে হিজাব, হায়া ও গায়রতের চর্চাটা এমন ছিল যে এভাবে প্রকাশ্যে কোন মেয়ে হিজাব খুলে ফেললে তৎক্ষণাৎ তারা তার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিতেন।

এর ফলে অনেক সময় একজন নারী হিজাব খুলে ফেলেছেন বলে পুরুষরা যার যার হায়া রক্ষার্থে যুদ্ধ থামিয়ে দিতে বাধ্য হতেন।
একটি সময় ছিল, যখন দুই হাতে ঘরে কাজ সামলাচ্ছিল নারীরা। সেদিন আর নেই। এখন সে দুইহাতেই নারীরা ঘরের পাশাপাশি সামলাচ্ছেন বাইরের দুনিয়াকেও। পুরুষের চেয়ে কোনো অংশেই তারা পিছিয়ে নেই। রাজনীতি, সামাজিক, অর্থনীতি সব জায়গায়ই আজ তাদের সাফল্যের হাতের ছাপ। নিজেরাই আদায় করে নিচ্ছেন নিজেদের অধিকার।

 

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছরের মতো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হবে। নারী দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য ‘করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব।’ নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদে নারীদের জাগ্রত করাই এবার নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

এদিনে যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া এক আন্দোলনই নারী দিবস পালনের পটভূমি। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হোন। সেদিন বেতন বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর কাজের বৈরি পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা একজোট হলে তাদের ওপর কারখানা মালিকরা আর মদদপুষ্ট প্রশাসন দমন-পীড়ন চালায়।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৮ সালে জার্মানিতে এ দিনটি স্মরণে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন। এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মতো প্রতি বছরের ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান করলে এরপর থেকে সারা বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

এদিকে, সোমবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে সংযুক্ত হয়ে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে নারী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ৫ জন জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। তারা বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করবেন। এ সময় তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বিশেষ ক্রোড়পত্র ও স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। টেলিভিশন ও রেডিওতে নারীর অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সজ্জিত করা হবে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন, অধিকার এবং এ বিষয়ে প্রচার ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র‌্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের অসামান্য অগ্রগতি, সমতা সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিয়ে বন্ধ, সুরক্ষা, সকল ধরণের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নারী দিবসের কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পর্যায়ের ৫ জনকে ‘শ্রেষ্ঠ জয়িতা’ সম্মাননা দেবে সরকার। সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু একাডেমি মিলনায়তনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের হাতে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বিকেল ৪টায় ৬৭টি নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে অনলাইনে আলোচনা সভা হবে। তাতে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সভায় উন্নয়নকর্মী, প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি আলোচনা করবেন।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে দেশের জাতীয় গণমাধ্যম বিশেষ সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করেছে। বিভিন্ন সংগঠন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।

যেভাবে এলো আন্তর্জাতিক নারী দিবস

১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেফতার হন অসংখ্য নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই।

এর তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারীশ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

নারী দিবস হচ্ছে- জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেয়ার দিন। এদিনে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামী দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে।

 

নারী দিবসের একটি ডিজিটাল গল্প :

 

ভদ্রলোক খুব পরিশ্রান্ত হয়ে অ্যামাজনের আটিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সহকারী অ্যালেক্সাকে বলে, অ্যালেক্সা , আমার একটু আনন্দ পেতে ইচ্ছা করছে যে! অনেক কর্মক্লান্ত আমি প্রিয়ে।
অ্যালেক্সা উত্তর দেয়, নিশ্চয়; কোন অসুবিধা নেই প্রিয়। আমি তোমার ঘরের আলো কমিয়ে দিচ্ছি; তোমার এসি ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে থিতু করে দিচ্ছি।
আমি তোমার জন্য তোমার প্রিয় থাই-মাসাজ বিনোদিনীকে জানিয়েছি। তার উবার স্টেটাসে দেখছি; মাত্র ১২ মিনিটে পৌঁছে যাবে সে এখানে।
আমি তোমার ক্রেডিট কার্ড থেকে তাকে সম্মানি দেবার ব্যাপারটা ঠিক করে দিয়েছি; এখন থেকে মাত্র দুই ঘন্টা পর তার একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়ে যাবে।
আমি তোমার স্ত্রীর জিপিএস চেক করেছি; সে শহর থেকে একটু বাইরে একটা মলে শপিং-এ ব্যস্ত। তার কেনাকাটার ডিজিটাল ফর্দ আমার ডিস্কেও আছে; কমপক্ষে দুইঘন্টা সময় লাগবে তার কেনাকাটা শেষ করতে। তাছাড়া গুগল ম্যাপের ট্রাফিক বিশ্লেষণে দেখছি; আরো একঘন্টার বেশি সময় লাগবে বাসায় পৌঁছাতে। সুতরাং ফুরফুরে মনে সময়টাকে উপভোগ করো। আনন্দম।
একেই বলে সহি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ফজিলত।

ওদিকে ভদ্রলোকের স্ত্রী অ্যালেক্সাকে জিজ্ঞেস করে, ঠিক মতো আনন্দযজ্ঞ আয়োজন করেছো তো?
অ্যালেক্সা উত্তর দেয়, অবশ্যই। সে ভাবছে তোমার বাসায় ফিরতে তিনঘন্টা সময় লাগবে। তুমি যদি একটা উবার নাও; মাত্র ৪৫ মিনিটে অকুস্থলে পৌঁছে যাবে। আমি চারটা ক্যামেরায় পুরো আনন্দযজ্ঞ রেকর্ড করছি; তোমাকে শুধু এ কক্ষে প্রবেশ করে তাকে হাতে নাতে ধরতে হবে।

আর শোনো, আমি তোমার বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজপত্র প্রিন্ট করে প্রস্তুত রেখেছি। তোমার আইনজীবীকে জানানো হয়েছে, মামলার নথির খসড়া প্রস্তুত হয়ে যাবে আগামীকাল নাগাদ। ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আর প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা বিচ্ছেদ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব প্রস্তুত; তোমার উবার শপিং মলের বাইরে অপেক্ষা করছে।
এইটাকে বলে সহি কাউন্টার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।
হোক সে আর্টিফিশিয়াল; কিন্তু মনে রাখা দরকার; অ্যালেক্সা শেষ পর্যন্ত একজন নারী।
(বিদেশি গল্প অবলম্বনে)

সূত্র- ফেসবুক পোস্ট ও ঢাকা পোস্ট

 

https://www.youtube.com/watch?v=FOR_T6odTqU

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত