প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দাবি পূরণে লেবাননেও চলছে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ

দেবদুলাল মুন্না: [২] চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রায় তিন মাস অপেক্ষার পর সংকট-ক্ষতিগ্রস্ত লেবাননে নতুন প্রধানমন্ত্রী হাসান ডিয়াবের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার পরে একমত হওয়া মন্ত্রিসভার তালিকায় প্রেসিডেন্ট মিশেল আওন স্বাক্ষরিত সদস্যদের নাম পড়ে শোনান দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু করোনা সংক্রমণের কালে লকডাউন থাকার ফলে এখনও দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। খবর , রয়টার্স ও আলজাজিরা।

[৩] বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সাবেক অধ্যাপক হাসান দিয়াব জানুয়ারিতে ২০ সদস্যের মন্ত্রীসভার ঘোষণা করেন। মন্ত্রীসভার বেশিরভাগ সদস্যই হিজবুল্লাহ ও মিত্রদলগুলোর সমর্থিত। সংবাদ সম্মেলনে হাসান দিয়াব বলেছিলেন, তিনি কাজ করতে চান। কারো সঙ্গেই বিরোধ করতে চান না।

[৪] বক্তব্যে তিনি লেবাননে চলমান বিক্ষোভকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি তাদের দাবি পূরণের জন্য কাজ করবেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের দাবি তিনি এখনও তাদের দাবি মানেননি। কারণ লেবাননে পর্যটক যান প্রচুর। যেতে পারছেন না এখনও।

[৫] কিন্তু লেবাননের বৈরুত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানী রয়টার্সকে গত সপ্তাহে বলেন, দেশটিতে নতুন সরকারও সাধারণ মানুষের দাবিদাওয়া বোঝার চেষ্ঠা করছে না। মন্ত্রীদের সবাই টেকনোক্যাট হওয়ায় রাজনীতি বিমুখ হওয়ায় জনগণের হৃদস্পন্দন না বুঝতে পারায় জনগণের সঙ্গে বিচ্ছিনতা তাদের বাড়ছেই। লেবাননের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ টেকনোক্র্যাট সদস্য নিয়ে গঠিত দাবি করে হাসান ডিয়াব দাবি করেছিলেন, তাদের কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ নেই। লেবাননের পরবর্তী নির্বাচনে নতুন গঠিত মন্ত্রীসভার কেউই অংশগ্রহণ করবেন না।

[৬] এদিকে কয়েক মাসের বিক্ষোভে নতুন সরকার গঠিত হলেও বিক্ষোভ থামেনি লেবাননে। বৈরুতের পার্লামেন্টের কাছে বিক্ষোভকারীরা গত সপ্তাহেও ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে দাঙ্গা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।

[৭] মুলত গত বছরের অক্টোবরে লেবাননে হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপে কর আরোপের ঘোষণার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশটিতে। পরে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এ বিক্ষোভ।

[৮] গণবিক্ষোভের মুখে ২৯ অক্টোবর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরি পদত্যাগ করেন। লেবাননে নতুন করে লকডাউন ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ জনগণ। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) দক্ষিণ লেবাননের সাইদায় তারা প্রধান সড়ক বন্ধ করে এই বিক্ষোভ করে।

[৯] দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ঘটছে। এই পরিস্থিতেতে উচ্চতর প্রতিরক্ষা কাউন্সিল ২৬ থেকে ৮ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত দুই সপ্তাহের নতুন কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হয়। লকডাউন এখনও পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়নি।

[১০] বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, সরকার জোরপূর্বক লকডাউন দিচ্ছে কিন্তু জনগণের সাহায্য সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসছে না। এভাবে লকডাউন জোরপূর্বক জেল ছাড়া আর কিছু নয়, তবে জেলখানাতেও তো খাবার মিলে।’

[১১] অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, এখন এমন সময় যখন দেশটি অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগছে, মানুষের ঘরে খাবার নেই। একদিন কাজ না করলে এখন পেট চলে না, সেখানে লম্বা লকডাউন দিয়ে সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে অক্ষম হয়েছে। তাহলে কেন এই লকডাউন?’

[১২] বিক্ষোভকারীরা সাইদার এলিয়া মোড়ে বিপ্লব চত্বর থেকে বিক্ষোভ করেই যাচ্ছে। কারফিউ এবং লকডাউনের প্রতিবাদে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্লোগান দেয়।বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের জানান, মানুষ ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ছে এবং দেশে দুর্নীতির কারণে ডলারের দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।

[১৩]তাদের ভাষায়, রাষ্ট্র যদি অসহায় এবং যারা দৈনন্দিন মজুরিতে কাজ করে তাদের জন্য সাহায্য প্রদান করতে না পারে, তাহলে তাদের বেঁচে থাকার জন্য কাজ করার অনুমতি দেওয়া উচিত। এভাবে লকডাউন মানুষকে মেরে ফেলবে।

[১৪] অন্যদিকে একই কারণে বিক্ষোভে নামে উত্তরাঞ্চলের জনগণও, তারা ত্রিপোলি-মিনিহ মহাসড়ক এবং পালমা মহাসড়ক অবরোধ করছে। আক্কার অঞ্চলের জনগণও ত্রিপোলিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিক্ষোভে যোগ দেয়।

[১৫] তারা সরকার বিরোধী গ্লোগান দিয়ে সাদ হারিরির মুসতাকবাল দলের আফিসের দিকে এগিয়ে যান। অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে আল-কোবেহ এবং আল-বেদ্দাউযচ্চির রাস্তা অবরোধ করে রাখছেন।

[১৬] দেশটিতে চরম অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা কোনো রকম দৈনন্দিন কাজ করে দিন যাপন করছেন। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনে কাজে নামতে না পেরে তাদের খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। তাদের মূল অভিযোগ সরকার শুধু লকডাউন দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু অসহায় দরিদ্র জনগণের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসছে না।

[১৭] অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন নেতারা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা ধরে রাখতে ব্যস্ত। বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী মনোনীত'র দ্বন্দ্বে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আরো কঠিন করে দিচ্ছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত