প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীদের জন্য মহাসড়কের পাশে আলাদা শৌচাগার নির্মাণের আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট : যাতায়াতের প্রয়োজন হয় সবারই। চাই তিনি পুরুষ হোন কিংবা নারী। আর ঘর থেকে বের হলে ওয়াশরুমে যাওয়ার প্রয়োজন যে কারো যে কোন সময় হতে পারে। কজনই বা আছেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন? কেউ যে পারেন না এমন না। তবে না পারার সংখ্যাটা অনেক বেশি। তাদের কথা বিবেচনা করে মহাসড়কের পাশে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র ওয়াশরুম কিংবা টয়লেট নির্মাণের করার আহবান করেছেন আলেমরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পরই এমন আহবান করেছেন তারা। এ বিষয়ে কথা বলেছেন দেশের শীর্ষ আলেমরা।
জামিয়াতু ইব্রাহিম সাইনবোর্ড মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যে জায়গায় অবস্থান করছি এটি শহরের একেবারে দক্ষিণপাশে। কখনো এমন হয়, অসংখ্য নারী তাদের হাজত (টয়লেট করা) কিংবা অন্য জরুরত সাড়ার জন্য মাদরাসায় চলে আসেন। আমাদের মহিলা শাখায় যথাযথ রয়েছে। তাই হয়তো তিনি হাজত সাড়তে পারলেন। কিন্তু যখন তিনি দূরে চলে যাবেন তখন তাদের জন্য কি ব্যবস্থা? কোথায় তারা টয়লেট করবেন? কিংবা নামাজের সময় নামাজ পড়বেন? এমন একটা প্রশ্ন থেকে যায়। তাই আমি দেশের সরকার মহোদয়কে আহবান করব, সকল মহাসড়কের পাশে নারীদের জন্য আলাদা ওয়াশরুম ও টয়লেটের ব্যবস্থা করার জন্য। সকল জায়গার সিটি কর্পোরেশন লোকদেরকেও আহবান জানাবো, যে সরকারিভাবে মহাসড়কের পাশে নারীদের জন্য আলাদাভাবে ওজু-ইস্তেঞ্জা ও নামাজের ব্যবস্থা করার জন্য।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি মুফতী ফজলুল করীম কাসেমী জানান, মহাসড়কের পাশে নারীদের জন্যই শুধু না। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সরকারি বাজেটে টয়লেট নির্মাণ প্রয়োজন। সেই সাথে মুসলিম দেশ হিসেবে মসজিদের ব্যবস্থা রাখারও আহবান জানান তিনি। তবে যে সকল স্থানে রাস্তার পাশে মসজিদ রয়েছে সেসকল জায়গায় নারীদের জন্য স্বতন্ত্র ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করতে পারেন মসজিদ কমিটির লোকেরা।

এদিকে সম্প্রতি তরুণ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরাও মহাসড়কের পাশে মহিলাদের জন্য স্বতন্ত্র ওয়াশরুম করার আহ্বান জানিয়েছেন। হাসান সিদ্দিকি নামের এক ফেসবুক ইউজার টয়লেট নির্মাণের আহবান জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একটি জরুরি সেবা! হাইওয়েসহ রাস্তার পাশের মসজিদগুলোতে মা-বোনদের জন্য বাথরুম, ওজুখানাসহ ছোট্ট ‘নামাযঘর’ নির্মাণ করুন।’

একই আহ্বান জানিয়েছেন কুমিল্লার মাওলানা এনামুল হক মাসুদ। ব্যবস্থা না থাকায় নারীদের নামাজ পড়তে না পারার বিষয়টি তুলে ধরে এক লম্বা স্টাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘হাইওয়েসহ রাস্তার পাশের ও শহরের মসজিদগুলোতে মা-বোনদের জন্য বাথরুম ও ওজুখানাসহ ছোট্ট নামাজের কক্ষ নির্মাণ করুন। বিষয়টি গতকদিন আগে পরিবার নিয়ে কোনো একটি কাজে শহরে গিয়ে সাথে থাকা মহিলাদের নামাজ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনার অভাবে দুই ওয়াক্ত নামাজ কাজা হয়। পরোক্ষণে শুধু নামাযের কারণে বিশেষ প্রয়োজনেও শহরে যেতে চায়না পরিবারের মহিলা সদস্যরা।’

আমার জানতে ইচ্ছে করে শহুরে মসজিদ কমিটির কাছে যে, নামাজ কি শুধু পুরুষদের উপরই ফরজ মহিলাদের উপর ফরজ নয়? যদি মহিলাদের উপরও যথাক্রমে ফরজ হয় তাহলে মহিলাদের জন্য নামাজের ব্যবস্থা করতে বাঁধা কোথায়? শহুরে মসজিদগুলো তো সাধারণত আর্থিক সংকটমুক্ত এটা সবারই অজানা নয়। যার প্রেক্ষিতে বিশেষত মসজিদগুলো সীমাতিরিক্ত জাকজমক হচ্ছে, বহু টাকা অপচয়ের কাতারেও খরচ হচ্ছে। কিন্তু মা-বোনেরা যেন প্রয়োজনে নিজেদের নামাজ আদায় করে নিতে পারে; এমন কোনো ব্যবস্থাপণা তেমন নজরে পড়েনা। কেন তাদের নামাজের ব্যবস্থা করা কি মসজিদ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে পড়ে না?

এদিকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশের যে কোনো কাজ করা যায় গুছিয়ে। সরকার দেশের জনগণের কল্যাণের জন্যই কাজ করে থাকেন। তাই সরকার থেকে এ বিষয়ে নজর আছে কিনা? কিংবা থাকলেও তার বাস্তবায়ন হচ্ছে কী না? জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী অফিসার মঈনুল ইসলাম কাছে।

তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দেশের সকল থানা শহরে আলাদা করে টয়লেট করার ব্যবস্থার জন্য বাজেট করা হয়েছিল। দেশের কয়েকটি থানা শহরে ইতিমধ্যে আমরা টয়লেট নির্মাণ সম্পূর্ণও করতে পেরেছি। কিন্তু সকল জায়গায় এখনও টয়লেট করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রণোদনা আছে। আশা করি খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিনিয়র নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশ এখনো স্বল্পোন্নতের দেশ। উন্নত দেশের দিকে আমরা পা রাখছি সবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে ওঠা সর্বক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে উঠছে না। তবে মহাসড়কের পাশে মহিলাদের জন্য আলাদা টয়লেটের প্রস্তাবনাটি অত্যন্ত ভালো। উপরমহলের সাথে কথা বলে এটার বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করব।

রাজশাহী অঞ্চলের অন্যতম আলেম মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, পুরুষদের জন্য মহাসড়কের পাশে কিংবা রাজধানীর শপিং সেন্টারগুলোতে নামাজ পড়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমাদের মা-বোনদের জন্য এর কোন ব্যবস্থা নেই। অথচ তারা হলেন সবচেয়ে বেশি রক্ষনশীল। পুরুষেরা যতোটুকু খোলামেলা চলতে পারেন কিংবা চলা সম্ভব মহিলাদের পক্ষে ততটা সম্ভব নয়। তাই পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে ওয়াশরুম কিংবা ওযু করার ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন।
সূত্র- আওয়ার ইসলাম২৪

সর্বাধিক পঠিত