প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেনাপ্রধানের ভাইদের সাজা মওকুফের প্রজ্ঞাপনটি এখনও দেখিনি : ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী

ডয়চে ভেলে: বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের দুই ভাই আনিস আহমেদ ও হারিস আহমেদের সাজা মওকুফের বিষয়ে মতামত দিলেও দুই বছর আগে এ সংক্রান্ত যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল সেটি এখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷

ডয়চে ভেলের ইউটিউব টকশো ‘খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চায়’-এ এবারের অতিথি ছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক৷ বাংলাদেশ নিয়ে আল জাজিরার আলোচিত তথ্যচিত্র, পলাতক অবস্থায় সেনাপ্রধানের ভাইদের দণ্ড মওকুফ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও আইনের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন তিনি৷

সম্প্রতি জানা যায়, পলাতক অবস্থাতেই আনিস আহমেদ ও হারিস আহমেদকে একটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন দণ্ড ২০১৯ সালেই মওকুফ করে সরকার৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঐ বছরের ২৯ মার্চ এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে৷ সেটির অনুলিপি আইনমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছে পাঠানোর কথা উল্লেখ থাকলেও তিনি বলেন, ‘‘এই প্রজ্ঞাপন আমার একান্ত সচিবের কাছে আসে নাই৷ জানলে সে আমার কাছে প্লেস করতো৷’’ তবে প্রজ্ঞাপনটি মিথ্যা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি৷

এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় তার মতামত চেয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেন আনিসুল হক৷ বলেন, কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো মন্ত্রণালয়ে যদি কোনো আইনি বিষয় থেকে থাকে, আইনের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন থাকে তাহলে সেটা হয় সংসদীয় আইন বিষয়ক ডিভিশন অথবা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মতামতের জন্য যায়৷ ‘‘আমি বলেছি, ৪০১ ধারায় এই সাজা (আনিস আহমেদ ও হারিস আহমেদের যাবজ্জীবন) মওকুফ করা যায় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীয় বিবেচনায় এই সাজা মওকুফ করতে পারেন, এই কথা আমার মতামতে ছিল৷’’

এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘প্রথম কথা হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশ ছিল না৷ দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, নির্দেশ যেহেতু ছিল না মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন ছিল না এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও আমার কাছে কোনো নির্দেশ আসে নাই৷’’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি জোর দিয়ে জানান, এই মত তিনি স্বাধীনভাবেই দিয়েছেন এবং আইনের মধ্যে থেকেই দিয়েছেন৷

সেনাপ্রধানের ভাইদের নিয়ে আল জাজিরায় তথ্যচিত্র প্রকাশের পর তাৎক্ষণিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) যে বিবৃতি দিয়েছিল সেখানেও তাদের দণ্ড মওকুফের কথাটি উল্লেখ ছিল না৷ বিষয়টি কেন আইনমন্ত্রী সরকারের অন্য বিভাগগুলোকে জানাননি- এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘‘আমি জানতাম যে, ৪০১ ধারায় তাদের সাজা মওকুফ করার জন্য একটা ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাকে পাঠিয়েছে৷ তাদের মা একটা অ্যাপ্লিকেশন করেছিল, সেটা আমার কাছে পাঠিয়েছে৷ তারা ফিউজিটিভ (পলাতক) ছিল কি ছিল না এমন কথা আমি কোনো দিন বলিনি৷’’

আল জাজিরার তথ্যচিত্রে উঠে আসা অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই বিষয়ে নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখতে হবে আপনারা যে প্রশ্নগুলো করেছেন সেগুলো সঠিক কীনা৷ সঠিক হলে তার পরের পদক্ষেপ নেয়া উচিত৷ আর যদি সঠিক না হয় তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেয়া উচিত৷ এই দুইটার একটা করতে হবে৷ যখন প্রশ্ন উঠেছে তখন নিশ্চয়ই এটা খতিয়ে দেখা হবে৷’’

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে৷ সেই সঙ্গে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র ফিরে এসেছে৷

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত