শিরোনাম
◈ পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব পাকিস্তান ক্রিকেট লিগে প‌ড়ে‌ছে ◈ যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে হামলা করলে ভারতের দিল্লি-মুম্বাই গুঁড়িয়ে দেবে ইসলামাবাদ! ◈ জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকটে দেশের পেট্রোল পাম্প বন্ধের শঙ্কা, মালিকদের সতর্কবার্তা ◈ যৌ.ন আকাঙ্ক্ষা বাড়াতে টেস্টোস্টেরন থেরাপি: সমাধান নাকি লাভজনক ব্যবসা? ◈ ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতির বড় ধাক্কা, ঝুঁকির তালিকায় শীর্ষে কারা ◈ শিশুসহ ৩৩ বাংলাদেশি বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ◈ এবার বিশ্বনেতাদের কাছে ইরানকে রুখতে যে আহ্বান জানালেন নেতানিয়াহু ◈ ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ শেষ করার জন্য অবশেষে যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে তুরস্ক ◈ কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি; গুলিবিদ্ধ ৪ ◈ ১৫ বছর বয়‌সে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস!

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:০৮ দুপুর
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:০৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আরিফ রহমান: অভিজিৎ রায় আর অজয় রায়দের হারতে দেওয়া যাবে না

আরিফ রহমান : অভিজিৎ রায়ের জন্ম ১৯৭১ সালে, অভিজিৎ রায় আর বাংলাদেশ সমবয়সী। অভিজিৎ রায়ের জন্মের সময় পিতা অজয় রায় স্ত্রীর পাশে ছিলেন না। তিনি তখন মুক্তিযুদ্ধে। লড়াই করছেন। সন্তানের জন্মের সময়টা তিনি স্ত্রীর পাশে থাকতে পারলেন না। দেশের জন্মটা ওনার কাছে বড় বিষয় ছিল। তিনি চাইছিলেন তার সন্তানের জন্ম কোন অধীন কলোনিতে হবে না, হবে একটা স্বাধীন দেশে। পিতা অজয় রায়ের সাধ মিটেছিল। অভিজিৎ রায়ের জন্মসনেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।

অভিজিৎ রায় আর বাংলাদেশ ছিলো সহোদর। অভিজিৎ রায়ের বয়স যখন ৪৪ বছর বাংলাদেশের বয়সও তখন ৪৪ বছর। জীবনের ৪৪ বছরের মাথায় কি নির্মম যন্ত্রণা দিয়ে অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়েছিল তা আজ ৬ বছর পরেও কল্পনা করতে গেলে গা কেঁপে ওঠে। অথচ বড় সাধের বড় সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রফেসর অজয় রায় সেই বার্তাবাহকে বললেন, ‘যা হয়েছে সত্যি সত্যি আমাকে বলো, এতো ভেঙে পড়লে চলবে নাকি?’

অভিজিৎ রায়ের মৃত্যুর দুদিন বাদে আয়োজিত স্মরণ সভায় পিতা অজয় রায় বললেন, ‘অভিজিৎ একটা আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছে। আদর্শের জন্য সবাই জীবন দিতে পারে না। আমার ছেলে আমাকেও ছাড়িয়ে গেছে।’ নীরবে-নিভৃতে কাউকে একটুও কষ্ট না দিয়ে অধ্যাপক অজয় রায় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন দু’বছর আগে। দান করে গেলেন নিজের দেহ। প্রথমে ছেলে, এরপর মা, এরপর পিতা; একই পরিবারের তিনজন মরণোত্তর দেহদানের ঘটনা বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ঘটালেন এই পরিবার।

অজয় রায় জীবনের পুরোটা দেশকে দিয়ে গেলেন। মৃত্যুর পর ধুলো হয়ে যাওয়া পর্যন্ত সবটা দেশকে দিলেন। সন্তানকে দিলেন। স্ত্রীকে দিলেন। অজয় রায়ের কথা মনে পড়লে বারবার আমার কবিগুরুর আমার সোনার বাংলা গীতিকবিতার একটা লাইন মনে পড়ে- ‘তোমারি ধুলামাটি অঙ্গে মাখি ধন্য জীবন মানি...’

শোষণ, শাসন, কণ্ঠরোধ, গুম-খুন, লুটতরাজের পুণ্যভূমি আজকের বাংলাদেশ নিয়ে আমি আর স্বপ্ন দেখি না, স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে না। আবার মনে পড়ে যে এই দেশটা অজয় রায়ের মত মানুষদের পবিত্র আমানত। এই দেশটারে টিকিয়ে রাখতে হবে। দেশটারে লাইনে আনার জন্য কাজ করতে হবে। অভিজিৎ রায় আর অজয় রায়দের হারতে দেয়া যাবে না। চলমান অসম লড়াইয়ে আমরা হারি আর জিতি, এই লড়াই আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়