প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনার টিকা: ভিড় সামলাতে হিমশিম

  • এ পর্যন্ত টিকা নিয়েছে ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০৯ জন ষ ২৪ ঘণ্টায় নিয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪০ জন ষ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছে

ডেস্ক রিপোর্ট: দিন যত যাচ্ছে, টিকা গ্রহীতার সংখ্যা তত বাড়তে শুরু করেছে। গত কয়েকদিন অধিকাংশ কেন্দ্রে টিকা নেওয়ার ধুম পড়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন টিকা কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, হাজারো মানুষের ভিড়। কেন্দ্রে অতিরিক্ত জনসমাগমে সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত হওয়া ছাড়াও নিয়োজিত চিকিৎসক-নার্সদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। এদিকে, সরকার সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে অনস্পট (তাৎক্ষণিক) নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকা প্রদানে ঘোষণার কারণে অনেকে টিকা পেতে তদবিরও শুরু করে। ফলে অনলাইনে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে টিকার জন্য অনস্পট (তাৎক্ষণিক) নিবন্ধন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, ২৭ জানুয়ারি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত করোনা টিকা গ্রহীতার সংখ্যা ৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ঢাকা বিভাগে ৫১ হাজার ১৫৯ জন, ময়মনসিংহে ৯ হাজার ৩৩৭ জন, চট্টগ্রামে ৫২ হাজার ৮৬৯ জন, রাজশাহীতে ২৩ হাজার ১১৮ জন, রংপুরে ১৯ হাজার ৩৮০ জন, খুলনায় ২৩ হাজার ৪৭৯ জন, বরিশালে ৯ হাজার ৩৯৭ জন, সিলেটে ১৫ হাজার ৭৩৯ জনসহ পঞ্চম দিন আট বিভাগে নতুন করে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪০ টিকা নিয়েছে। দেশে ড্রাই রানসহ এ পর্যন্ত

৫ লাখ ৪২ হাজার ৩০৯ জন করোনা টিকা নিয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ

৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৮ ও নারী ১ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ জন। এ পর্যন্ত ২৩৬ জনের মধ্যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে টিকা দানের চিত্র :বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৪৫৭ জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১ হাজার ১৩৮ জন, স্যার সলিমুলস্নাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৯০ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৩৯ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ২৯৯ জন, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ৭৬৩ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৯০০ জন, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউটে ৮১৮ জন, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে (মাতুয়াইল) ৪৬০ জন, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ১ হাজার ৭২০ জন, সচিবালয় ক্লিনিকে ৩৬০ জন টিকা নিয়েছেন। আর গত একদিনে ঢাকা মহানগরে ৪৬টা হাসপাতালে ২৪ হাজার ৪৫৩ জন টিকা নিয়েছেন। বুধবার মহানগরীতে এই সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১১৫ জন।

সরেজমিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে টিকা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সরাসরি টিকা কেন্দ্রে যোগাযোগ করছেন। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল স্টাফদের স্বজনপ্রীতির কারণে সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পূর্বে নিবন্ধনকারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অতিরিক্ত জনসমাগমে টিকা কেন্দ্রে সামাজিক দূরত্ব মানার মতো স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয়। এছাড়া অতিরিক্ত জনসমাগমে ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে চাহিদার তুলনায় টিকা সংখ্যা কম পড়ায় স্পট নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, করোনাভাইরাসের টিকা তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে এন্টিবডি তৈরি করে কি-না, সংক্রমণ রোধে কতদিন পর্যন্ত প্রতিষেধক হিসেবে কাজ তার সঠিক গবেষণা নেই। এ কারণে টিকা নেওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিস্নউএইচও) আগের মতোই সোশ্যাল ডিসটেন্সিং বা সামাজিক দূরত্ব বাজায় রেখে চলাফেরা, মাস্ক পরিধানসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু নিবন্ধন শিথিলতায় টিকা কেন্দ্র জনসমাগমে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। নিবন্ধন ছাড়াই অনস্পট টিকা পেতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলে অনলাইনে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদেরকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

কাকরাইল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) টিকা নিতে আসা ব্যবসায়ী দোজাহান তালুকদার জানান, ‘টিকা নেওয়ার জন্য তিনি ৮ ফেব্রম্নয়ারি নিবন্ধন করেছেন। তবে টিকা নেওয়ার সময় এবং তারিখ জানিয়ে তার মোবাইলে কোনো এসএমএস আসেনি। গতকাল শুনলাম ন্যাশনাল আইডি কার্ড আর নিবন্ধনের কপি দেখালেই টিকা দেওয়া যায়। এ কারণে এসেছি। কিন্তু এখানে আসার পর বলছে হবে না।’

ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার আরেক বাসিন্দাও এসেছিলেন টিকা নিতে। তিনিও জানালেন, নিবন্ধন ছাড়াই টিকা নেওয়া যাচ্ছে শুনে এসেছিলেন। কিন্তু এসে দেখেন এখন আর তা হচ্ছে না।

বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুলফিকার আহমেদ আমিন বলেন, হাসপাতালের ৮টি বুথের জন্য প্রতিদিন বারো’শ জনের কোটা নির্ধারণ করা আছে। এই কেন্দ্রের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা আছে ২০ হাজার ডোজ। অনলাইনে ইতোমধ্যে ২০ হাজার রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আর নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে কেউ আর এন্ট্রি করতে পারছেন না। স্পট রেজিস্ট্রেশনে কিছু ব্যক্তিকে আমরা তার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত এন্ট্রি করতাম। কাগজ বের হলে টিকা দিয়ে দিতাম। এখন নতুন করে এন্ট্রি নিচ্ছে না।’

এদিকে এমন পরিস্থিতিতে গতকাল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার জন্য টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে নিবন্ধনের সুবিধা আপাতত বন্ধ করে দেওয়া কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিবন্ধন না করেও অনেকে টিকা নিতে আসায় বিভিন্ন কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হচ্ছে। ‘আমরা সুন্দর পরিবেশ বিভিন্ন জায়গা তৈরি করে দিয়েছি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যারা অনস্পট রেজিস্ট্রশন করছেন, তাদের সংখ্যাই বেশি। আর যারা রেজিস্ট্রেশন করছেন, তারাই ঢুকতে পারছেন না। বয়স্ক লোকেরা যাচ্ছে, তাদের কষ্ট হচ্ছে। যারা টিকা দিচ্ছে- ডাক্তার, নার্স তাদের কষ্ট হচ্ছে। আমরা এই পরিস্থিতি চলতে দিতে চাই না।’

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন। ৩ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন। কিন্তু টিকাদান কার্যক্রম ঠিকভাবে চালাতেই আপাতত এই সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন যেহেতু অনেক সাকসেসফুলি হচ্ছে, ১০ লাখের বেশি হয়ে গেছে, এ কারণে আমরা এখন অনস্পট রেজিস্ট্রেশন আর করব না। এখন থেকে যারা নিবন্ধন করে কেন্দ্রে যাবেন, শুধু তাদেরই টিকা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যদি টিকাদান কেন্দ্রে নিবন্ধনের প্রয়োজন পড়ে তখন জানানো হবে।’ যায়যায়দিন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত