প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিমু নাসের : সন্ধ্যায় হঠাৎই হাতের কাছে পেলাম লাবণ্য দাশের ‘মানুষ জীবনানন্দ দাশ’

শিমু নাসের : সন্ধ্যায় হঠাৎই হাতের কাছে পেলাম লাবণ্য দাশের ‘মানুষ জীবনানন্দ দাশ’। পড়ার আগ্রহ হলো কারণ তার সম্পর্কে নানা সময় যেসব মন্তব্য শুনে এসেছি কোনোটিই সুখকর নয়। বিশেষ করে কবির মৃত্যুর পর ভূমেন্দ্র গুহকে করা লাবণ্য দাশের এই মন্তব্যটি তো কিংবদন্তি হয়ে আছে, ‘আচ্ছা, তোমার দাদা তো বড় কবি ছিলেন, বাংলা সাহিত্যকে নিশ্চয়ই অনেক দানও করে গেলেন। কিন্তু আমার জন্য কী রেখে গেলেন, বলো তো।’ তাই একটানে বইটি শেষ করলাম তার ভাষ্যটি জানার জন্য। কিন্তু শেষ করে মনে হলো শেষ হয়নি, অনেক কথাই বলেননি তিনি বা বলতে পারেননি। কবি সম্পর্কে ভালো বলার একটা দায়বোধ থেকেই যেন এই বই, একটা নির্দিষ্ট দূরত্ব থেকে কিছু কথা বলে চুপ করে গেছেন লাবণ্য। অনলাইন ঘাটাঘাটি করে তার ভাষ্যে ছাড়াছাড়া ভাবে কিছু পেলাম। গভীর রাতে পড়তে শুরু করলাম শাহাদুজ্জামানের, ‘একজন কমলালেবু’। ঘোর লাগা এক বিষণ্নতার মধ্যে ভোর রাতে শেষ হলো সে বই। সে বইয়েও বিভিন্ন জনের ভাষ্যে লাবণ্যের যে চিত্র ফুটে উঠেছে সেটা একধরনের বেদনার, ভিলেনীয়।

কবি না হয় ছিলেন ‘বিপণ্ন বিস্ময়ে’ আক্রান্ত একজন মানুষ, কিন্তু লাবণ্য তা ছিলেন না স্বাভাবিক কারণেই। এ দায় লাবণ্যের উপর বর্তানো যায় না কোনোভাবেই। লাবণ্য ইডেন কলেজ পড়ুয়া এক স্বাধীনচেতা মেয়ে। যার জীবনের স্বপ্ন একদমই ভিন্ন। কিছুদিন যেতে না যেতেই স্বাধীনচেতা এই সাধারণ মেয়েটি সংসার এবং নিয়মের জাতাকলে পড়ে একেবারে ডিপ্রেশনের রোগী হয়ে গেলো। সে জেনে এসেছে তার হবু স্বামী একজন কলেজ প্রসেফর। কিন্তু বিয়ের পর দেখলো স্বামী একজন কবি এবং বেকার, আয় রোজগার নেই কোনো। নিজেও কিছু করতে পারছে না। কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রেগন্যান্ট। লাবণ্য বরিশালে, কবি কলকাতায় চাকরি খুঁজতে খুঁজতে জীবনের খেই হারিয়ে ফেলছেন। দীর্ঘ ৫ বছর এই ব্যবস্থা। এরপর কিছুদিন চাকরি করেছেন, পরে আবার বেকার হয়েছেন। কবিতা ছাড়া আর সবকিছুতেই ছিলেন ব্যর্থ একজন মানুষ, তিনি কখনোই উৎকৃষ্ট স্বামী ছিলেন না, ছিলেন না উৎকৃষ্ট পিতাও। কিন্তু কবিরা তো এমনই হবেন ধরে আমরা ধরে নিয়েছি, লাবণ্য কেন উৎকৃষ্ট স্ত্রী হলেন না?
জীবনানন্দের যেসব গল্প আগে পড়েছি কখনোই তার জীবনের সাথে মিলিয়ে পড়িনি। গল্পকে গল্পের মতোই পড়ে গেছি। কিন্তু ‘কমলালেবু’ পড়তে গিয়ে বুঝতে পারলাম তার গল্প-উপন্যাস সবই আসলে আত্মজৈবনিক। সেখানে তিনি নিজের প্রেমিকাকে তার গল্পে বিভিন্ন নামে বারবার উপস্থিত করেছেন এবং তার অসুখী দাম্পত্যের মূল পাত্রী লাবণ্যকে কোনো রাখঢাক না করে সন্নিবেশ করেছেন নানাভাবে। সাধারণের মাঝে মোটকথা ব্যাপারটা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে, জীবনানন্দ দাশের কবি জীবনের অন্যতম ভিলেন লাবণ্য দাশ। তিনি শত দুঃখ, কষ্ট, বঞ্চনার মাঝেও সিনেমাটিক গ্রাম্য বধূর মতো কবির সাথে কেন মিলে মিশে চললেন না। জীবনানন্দের ‘বোধ’ কবিতার সবচেয়ে প্রিয় লাইন আমার, ‘সে কেন জলের মতো ঘুরে-ঘুরে একা কথা কয়। ‘লাবণ্য দাশ কেন ঘুরে ঘুরে এতো এতো কথা কবিকে শুনিয়েছেন, ভিলেন তকমা কেন তাকে দেওয়া উচিত না এ নিয়েও মনে হয় বিস্তর কথা বলার প্রয়োজন আছে। এই হলো এই দুটি বই পড়ে আপাতত আমার পাঠপ্রতিক্রিয়া। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত