প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সারাদেশের নজর চট্টগ্রামে

সালেহ্ বিপ্লব: [২] রাত পোহালেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচন। বুধবার সকাল আটটা থেকে টানা বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সবার নজর এখন চট্টগ্রামের দিকে।

[৩] ইতোমধ্যেই নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো নগরী।

[৪] আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘এই নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।  চট্টগ্রামের জনগণ যাকে খুশি তাকেই ভোট দেবে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে কমিশনকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা দেবে সরকার।’

[৫] তারপরও চসিক নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান বিএনপিসহ অনেক দল ও প্রার্থী।  তাদের মতে, এই সিইসির আমলে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তাই এই চসিক নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে।

[৬]  ডিজিটাল কারচুপির শংকা প্রকাশ করে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘বর্তমান ইসির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইসি থেকে সরবরাহ করা ইভিএম মেশিনে যে নিজস্ব ম্যাকানিজম করে ধানের শীষের ভোট অন্য প্রতীকে ট্রান্সফার করা হবেনা, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই নির্বাচন কমিশনের দিনের ভোট রাতে নিয়ে নেয়ার কলঙ্কজনক অধ্যায় আছে। তাই আমাদের দাবি নির্বাচনের আগে ইভিএম মেশিনের নিরপেক্ষ কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে নয়, মেয়র প্রার্থীদের পছন্দের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে ইভিএম মেশিনগুলো পরীক্ষা করতে হবে।’

[৭] ডা. শাহাদাত হোসেনের ভোট কারচুপির শংকা উড়িয়ে দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘চসিক নির্বাচনে ইভিএমে যেখানে নির্বাচন হবে, সেখানে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য থাকবে। ভেতরে গিয়ে একজনের ভোট আরেকজনে দেয়া ইভিএমে সম্ভব না। চসিক নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হবে।’

[৮] রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেছেন, ‘চসিক নির্বাচনকে ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই, ভোটকেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ৪১৭টি কেন্দ্রকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১৮ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। প্রথমবারের মতো চসিক নির্বাচনে সব কেন্দ্রে ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। আশা করছি, ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’

[৯] এবারের চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী, বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন (মিনার), এনপিপির আবুল মনজুর (আম), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জান্নাতুল ইসলাম (হাতপাখা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ (চেয়ার) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন চৌধুরী (হাতি)।তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা সকলেই এক বাক্যে মেনে নিচ্ছেন।

[১০] জয়ের ব্যাপারে নৌকা ও ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থীই শতভাগ আশাবাদী।  আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘ চট্টগ্রামের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরবাসী নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন ইনশাল্লাহ। তাছাড়া গণসংযোগে মানুষ আমাকে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছে, তাতে আমি নিশ্চিত জনগণ নৌকায় ভোট দেবে। আমি অবশ্যই জয়ী হয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদটা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবো।’

[১১] একই প্রসঙ্গে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ভোটাররা বিনা বাধায় ভোট কেন্দ্রে এসে নিজের ভোট দিতে পারলে ধানের শীষ প্রতীকে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো ইনশাল্লাহ। এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।’

সর্বাধিক পঠিত