প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফ আকবর: গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর সমস্ত অধিকার কুক্ষিগত নতুন বেনিয়া প্রযোজকদের কাছে

আসিফ আকবর : বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধশালী করেছে সিনেমার গান। স্বর্ণালী সময়ের রূপকারগণ শুধু সৃষ্টিশীলতায় নিমগ্ন ছিলেন। কপিরাইট আইন অনুযায়ী সিনেমার সমস্ত অধিকার প্রযোজকের। সমস্যা হলো জেনুইন প্রযোজকরা তৃতীয় পক্ষের কাছে রাইট বিক্রি করে দিয়েছেন যেকোনো কারণে। তৃতীয় পক্ষ গানগুলোর মালিক হয়েছে অত্যন্ত স্বল্প বিনিয়োগে। অনেকটা ওৎ পেতে থাকা সুযোগসন্ধানীর মতো। কামাই করছে কোটি কোটি টাকা। এখন তারাই পুরনো সিনেমার সমস্ত স্বত্ত্বের মালিক, যারা কখনোই মূল পরিকল্পনায় ছিল না।

শেষ সময়ে অনেক প্রথিতযশা শিল্পীরা অভাবগ্রস্থ হয়েছেন। সংখ্যায় কম হলেও ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু। মানুষের মনে প্রশ্ন আছে এই দারিদ্র্যের কারণ কী। আগের সময়ে শুধু প্লে-ব্যাক কিংবা স্টেজ শো করে কোনো শিল্পী সারভাইভ করতে পারতেন না। গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীর সমস্ত অধিকার কুক্ষিগত নতুন বেনিয়া প্রযোজকদের কাছে। শুধু গান গেয়ে এদেশে বেঁচে থাকা মুশকিল, পাশাপাশি অন্য পেশা বা পুরনো জমিদারি থাকলেই অভাবের হাত থেকে বাঁচা যায়। প্রযোজকপন্থী কালাকানুনে আটক এ দেশের শিল্পীদের নিরাপত্তা, কোনো মাধ্যম থেকে কোনো রয়্যালিটি পাবার সুযোগই নেই। বরং আসল শিল্পী, সুরকার, গীতিকারদের জীবিত অবস্থায় অন্য শিল্পীদের দিয়ে গাইয়ে নিচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো। এখানে আসল স্রষ্টারা অসহায়… অনুমতি নেয়ার কোনো প্রয়োজনই বোধ করছে না তথাকথিত নব্য প্রযোজক নামের আইটেমগুলো।

‘ও প্রিয়া তুমি কোথায়’ গানটি একটি সিনেমায় ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছিল। মূল প্রযোজক সিনেমাটি বিক্রি করে দেয় অনুপম রেকর্ডিং নামের একটি কোম্পানির কাছে। অনুপম গিলে ফেলতে চেয়েছিল সাউন্ডটেকের প্রযোজনায় সৃষ্ট এই ব্যবসাসফল গানটি। পরে এই গানের গীতিকার, সুরকার ইথুন বাবু ভাই কপিরাইট অফিস থেকে গানটির মালিকানা যুদ্ধ করে ফিরে পান। পঁচাত্তর হাজার টাকায় সিনেমাটি কিনে ও প্রিয়া গানের মালিকানার আবদার করে আইনগতভাবে ব্যর্থ হয় অনুপম রেকর্ডিং। পরে অনুপম রেকর্ডিং ফোন করে গানটির সিনেমা ভার্সন প্রচারের অনুমতি চায় আমার কাছে, কিছু টাকাও ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল। সরাসরি না করে দিয়েছি। এদের যথেষ্ট প্রশ্রয় দেয়া হয়েছে, এ ধরনের প্রযোজকদের খপ্পর থেকে বাঁচতে পারলেই গীতিকার, সুরকার, শিল্পীদের মুক্তি মিলবে। নানান সংঘ হচ্ছে চারদিকে, সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত নব্য ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সুষ্পষ্ট যুদ্ধ ঘোষণা করা। তবে সংঘগুলোর মধ্যে কিছু মীরজাফরের প্রাধান্য দেখতে পাচ্ছি। বাংলা সিনেমার সব ভূঁইফোড় প্রযোজক নিপাত যাক, সংশ্লিষ্ট সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। তথাকথিত কপট প্রযোজকদের একচ্ছত্র মালিকানা বিষয়ক কালাকানুন বাতিল চাই… নিজেদের অধিকারে দারিদ্র্যমুক্ত হোক দেশের সঙ্গীতাঙ্গন। সব মধ্যসত্ত্বভোগী নিপাত যাক… আমি আসিফ আরও আরো অনেক মামলা খাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। আজ (১১ জানুয়ারি) থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম সিনেমার গানে শ্রদ্ধেয় অগ্রজদের অধিকার আদায়ের স্বার্থে। চলবে…। ভালোবাসা অবিরাম। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত