প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যানজটে ধুকছে সাতক্ষীরা শহরের লক্ষাধিক মানুষ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : [২] যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং, অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল, সড়কের প্রস্থ কম হওয়াসহ নানা কারণে শহরে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে ১০ মিনিটের পথ যেতে ১ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগছে। আর এ কারণে নগরবাসীর একদিকে যেমন মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ফলে যানজটে ধুকছে সাতক্ষীরা শহরের লক্ষাধিক মানুষ।

[৩] পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৮৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়তন ৩১ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটার। লোকসংখ্যা প্রায় দুই লাখ। পৌরসভায় ২০১ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে শহরে রয়েছে ৩০ কিলোমিটার সড়ক। শহরের মধ্যের সড়কের প্রস্থ অনেক কম ও সড়কের পাশে নেই কোন ফুটপাত। তা ছাড়া সড়কে যত্রতত্র বাস, অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রীদের ওঠানো ও নামানো হয়।

[৪] এছাড়া শহরে চলছে অবৈধ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান, নছিমন, করিমন, ট্রলি ও মাহেন্দ্র। এসব কারণে সড়কে তীব্র যানজট হচ্ছে। এছাড়াও সড়কের দুই ধারে বিদ্যুতের খুঁটি দখল করে রেখেছে অনেক জায়গা। বাইপাস সড়ক থাকার শর্তেও শহরের মধ্য দিয়ে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য যানবাহন অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে। এতে শহরে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রান হারাচ্ছেন অনেকেই। শহরের শহীদ নাজমুল সরণি, শহীদ কাজল সরণি, শহীদ সিরাজ সরণি, সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ সড়কের শহীদ আলাউদ্দিন চত্বর থেকে ইটেগাছা পর্যন্ত, সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের নিউ মার্কেট থেকে সার্কিট হাউস মোড় পর্যন্ত, তুফান মোড়, সুলতানপুরের কেষ্টময়রার মোড়, বড়বাজার মোড়, পুরাতন সাতক্ষীরায় যানজট বেশি থাকে। তবে, পুলিশ বলছেন জনবল না থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ অবৈধ যান চলা চলের অনুমতি দিয়েছে। পৌরবাসীর দাবী যানজট নিরসনে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার।

[৫] শহরের নিউ মার্কেট এলাকার আরশাফ আলী ও আব্দুল মাজেদসহ কয়েকজন জানান, বড়বাজার সড়কের দুই ধারে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান। এছাড়া পাকা পোল থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপথ তৈরি হলে ও সেটি এখন অবৈধ দোকানিদের দখলে। এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, ট্রাফিক পুলিশ ব্যস্ত থাকেন মোটর সাইকেল আটক করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার জন্য।

[৬] সাতক্ষীরা নাগরিক আনোদালন মঞ্চের সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম জানান, শহরের যানজট পরিস্থিতি এখন একেবারেই দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। যাজটের প্রধান কারন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শহরের মধ্যে প্রচুর অবৈধ যান চলাচল করে যার কোন নিয়ন্ত্রন নেই। ফুটপাত গুলো নানা ভাবে দখল করে রয়েছে দোকানদাররা। এছাড়া শহরের বাইরে দিয়ে একটি বাইপাস সড়ক থাকলেও অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রচুর যানবাহন শহরের মধ্য দিয়ে চলাচল করছে। প্রশাসন ও পৌরকর্তৃপক্ষে যৌথভাবে কাজ করলে শহরের যানজট নিরসন করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

[৭] ট্রাফিক সার্জেন্ট শুভ্র দেব বিশ^াস জানান, ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অবৈধ ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যান আটক করা হচ্ছে। বড় গাড়ি শহরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। রাস্তায় বসানো হয়েছে চেকপোষ্ট।

[৮] পৌর মেয়র আলহাজ¦ তাজকিন আহম্মেদ চিশতি জানান, শহরের বাইরে থেকে যেসব যানবাহন আসে সে গুলো নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সামনে পৌরসভা নির্বাচন সে কারণে ফুটপথ মুক্ত করতে গেলে তার নির্বাচনে ক্ষতি হবে বলে তিনি জানান।

[৯] পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকল ইজিবাইকই অবৈধ। এসব অবৈধ ইজিবাইক থেকে টাকা নিয়ে পৌরসভা চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ইজিবাইক নিয়স্ত্রন করার মত লোকবল পৌরসভার নেই।

[১০] কয়টি ইজিবাইকের তারা অনুমতি দিয়েছে সেটার কাগজপত্রও তাদের নেই। একটি নাম্বারের বিপরীতে অনেক গুলো ইজিবাইক চলে। আবার এসব অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে মামালা দেওয়ার কোন আইনগত ব্যবস্থাও নেই।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত