শিরোনাম
◈ সাজেকে ১৪ দিনের অবরোধে চরম খাদ্যসংকট, পর্যটন ও পরিবহন খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতির শঙ্কা: সমাধান করবে কে? ◈ শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ জিগাতলায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৮৪ ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ ◈ গাছতলায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ৯৫ বছরের বাবাকে বাড়িতে নিলেন বড় ছেলে ◈ কিশোরগঞ্জে জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলেকে ছুরিকাঘাত ◈ ১২ দেশে কর্মী পাঠাতে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক, ছাড়পত্রে সরকারের কঠোর নির্দেশনা ◈ ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পায়ে হেঁটে মানিকমিয়া এভিনিউ পর্যন্ত যাবেন ◈ জানুয়া‌রি‌তে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ? ◈ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের মালিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি ◈ ভারত থেকে সার্ভারে প্রবেশের অভিযোগ, ডিজিপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থা

প্রকাশিত : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৩২ দুপুর
আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০:৩২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] বাঙালির পাতে ফিরছে দেশীয় প্রজাতির বিপন্ন মাছ

আব্দুল্লাহ আল আমীন: [২] মাছে ভাতে বাঙালি চিরায়ত এই প্রবাদ শুধু মুখেই নয় বাস্তবে স্বাদে কড়কড়ে পুঁটি মাছ ভাজা কিংবা টেংরা মাছের ঝোল। গনিয়া, কালবাউস, ভাগনা, মহাশোলের চচ্চড়ি। অথবা চিতল দিয়ে কোপ্তা! চল্লিশোর্ধ যারা আছেন, তারা দেশি এসব মাছের স্বাদ-গন্ধ মনে গেঁথে রেখেছেন। আর নতুন প্রজন্মের কাছে এসব মাছের প্রাচুর্য ও স্বাদ কেবলই গল্প।

[৩] সেই গল্পই যেন ধীরে ধীরে সত্য হতে চলছে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছ খাবার টেবিলে আবার ফিরে আসছে। চাষাবাদ ও জলাশয়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার ফলে চাহিদা ও কদর আবারো ফিরছে বলে মনে করছে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)।

[৪] প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিলুপ্ত প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করায় পোনা প্রাপ্তি সহজতর হয়েছে। অনেকে চাষাবাদেও আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন দেশের প্রায় শতাধিক হ্যাচারিতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। পরে ব্যবহার করা হচ্ছে চাষাবাদে। কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক লোকের।

[৫] ২০১৫ সালে প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউসিএন) জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৬৪টি। উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহার ও অভ্যন্তরীণ উম্মুক্ত জলাশয় শুকিয়ে যাওয়াই এসব মাছ বিলুপ্তির মূল কারণ। এরপরই দেশীয় প্রজাতির এসব মাছকে বিলুপ্তের হাত থেকে বাঁচাতে গবেষণা শুরু করে বিএফআরআই।

[৬] গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এখন অনেকটাই সহজলভ্য বিপন্ন প্রজাতির পাবদা, গুলশা, টেংরা, মেনি, চিতল এবং ফলি মাছ। দামও নাগালে। বছর দুয়েক আগেও পাবদা মাছ এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৫শ’ টাকার নিচে নেমে এসছে।

[৭] বিএফআরআই সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেছে। এগুলো হচ্ছে-পাবদা, গুলশা, টেংরা, মেনি, ফলি, চিতল, গুতুম, বালাচাটা, গুজি, আইড়, কুচিয়া, খলিশা, গনিয়া, কালবাউস, ভাগনা, মহাশোল ও দেশি পুঁটি।

[৮] এছাড়াও, বর্তমানে ইনস্টিটিউটে রানী মাছ, কাকিলা, গজার, শাল বাইম, বৈরালী মাছ, আঙ্গুস ও খোকসা মাছ এবং উপকূলীয় এলাকার কাইন মাগুর (কাউন) মাছের প্রজনন ও চাষ কৌশল উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা চলছে।

[৯] বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে বর্তমানে ইনস্টিটিউটের যশোর, সৈয়দপুর ও ময়মনসিংহ গবেষণা কেন্দ্র থেকে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে। মৎস্য অধিদফতরও অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে কাজ করছে।

[১০] তিনি আরো জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ উম্মুক্ত জলাশয় সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্র এরইমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্রাকৃতিক জলাধার যেমন বিল, হাওড়, খাল-বিল ও নদ-নদীতে এসব মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

  • সর্বশেষ