প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিদিন গড়ে দেড়শ অভিযোগ পাচ্ছে সাইবার পুলিশ সেন্টার
[১] বেড়েছে অনলাইনে নারী হয়রানি ও কেনাকাটা সংক্রান্ত প্রতারণা

সুজন কৈরী : [২] সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে হয়রানি ও সাইবার অপরাধ বাড়ছে। নারী ও শিশু থেকে শুরু করে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তিদের টার্গেট করে হয়রানি করছে সাইবার অপরাধীরা। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো মাধ্যমগুলোকে বেপরোয়াভাবে সাইবার অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ ঠেকাতে সরকারের আইসিটি বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো তৎপর রয়েছে।

[৩] সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোভিডের কারণে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও কেনাকাটাসহ সমস্ত কিছুই অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়েছে। এর সুযোগ নিচ্ছে কতিপয় দুষ্কৃতকারী। বিশেষ করে টার্গেট করা হচ্ছে নারীদের। ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য আদান প্রদান করে ব্ল্যাকমেইল করছে। সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে পর্নোগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইল, ফেসবুক আইডি হ্যাক, অর্থ আদায় এবং হত্যার হুমকি উল্লেখযোগ্য।

[৪] বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, তুচ্ছ ঘটনায় সম্পর্ক নষ্ট করা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় এসব ঘটনা বারবার ঘটছে।

[৫] অপরদিকে, অনলাইনে কেনাকাটার সাইট তৈরি করেও প্রতারণা করা হচ্ছে। পণ্যের ছবি সাইটে দিয়ে অর্ডার নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে পণ্য দেয়া হয় না। আবার কখনও নিম্মমানের পণ্য দেয়া হয়। এছাড়া কোনও কিছু বিক্রির কথা বলে টাকা হাতিয়ে প্রতারণার সংখ্যাও বেড়েছে।

[৬] সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কাজ করা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাইবার পুলিশ সেন্টারের ফেসবুক পেজে ১৯ হাজার ৪৯৯টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ফোনে অভিযোগ জানিয়েছেন ১১ হাজার ৩৫৯ জন ও ফেসবুকে অভিযোগ জানিয়েছেন ৮ হাজার ১৪০ জন।

[৭] সাইবার পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ২ হাজার ৭৪০টি ফোনেই সমাধান করা হয়েছে। আর ৪৭০টি অভিযোগ নেয়া হয়েছে। যার তদন্ত চলছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ১৩৩টি হ্যারেসম্যান্ট বিষয়ক, ৭০টি বিকাশ প্রতারণা, ১৩৬টি অনলাইন প্রোডাক্ট পারচেজ সংক্রান্ত অভিযোগ, ৩৫টি ডলার এক্সচেঞ্জ, ৭টি নাইজেরিয়ান ফ্রড সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছে সাইবার পুলিশ সেন্টার। এছাড়া ১১৫টি অন্যান্য অভিযোগও পেয়েছে।

[৮] সাইবার পুলিশ সেন্টারের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ৬৮ শতাংশ নারী সাইবার স্পেসে নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হওয়া এসব নারীর প্রায় সবাই তরুণী।

[৯] এদিকে গত ১৬ নভেম্বর পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন (পিসিএসডব্লিউ) ফেসবুক পেজ চালু হওয়ার পর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ হাজার ৪৫৩টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১ হাজার ৭৯৫টি। এছাড়া ১ হাজার ৭৪০টি অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের জন্য অভিযোগকারীর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। তথ্যাদি পেলে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করা হবে। অবশিষ্ট ১ হাজার ৯১৮টি অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্তের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। দ্রুত অবশিষ্ট অভিযোগগুলোর তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ সম্পন্ন করা হবে।

[১০] পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া এন্ড পিআর) মো. সোহেল রানা বলেন, সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারীদের কাছে প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, ব্ল্যাকমেইলিং, পর্নোগ্রাফি, ফেসবুক আইডি ব্যবহার, ফেসবুক আইডি হ্যাক করা ও হুমকি দেওয়া ইত্যাদি।

[১১] ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের কাছে তরুণীদের যত অভিযোগ আসে তার অধিকাংশই সাইবার ক্রাইম। এসব ক্ষেত্রে তরুণীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সাইবার ক্রাইম এখন যে পর্যায়ে চলে গেছে এখন লজ্জা আর ভয় পেয়ে থাকলে চলবে না। ওই কর্মকর্তা ভুক্তভোগীদের অনুরোধ করে বলেন, সাইবার স্পেসে হয়রানির শিকার হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে হবে।

[১২] সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের পুলিশ সুপার (এসপি) রেজাউল মাসুদ বলেন, সাইবার সেন্টারে আসা অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হয়। ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়াসহ আইনি সহয়তা দেয়া হচ্ছে। আবার তদন্ত করে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তবে অনলাইন ব্যবহার, যোগাযোগ ও তথ্য আদান প্রদানে সকলকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে নারীদের আরো অনেক বেশি সচেতন হতে হবে। হ্যাকিং রোধে সামাজিক মাধ্যমগুলো নিরাপদ রাখার চেষ্টা করতে হবে। অপরিচিত কারো অনুরোধ গ্রহণ না করা ও সন্দেহজনক কোনো লিঙ্কে প্রবেশ না করাসহ কিছু বিষয় মেনে চললে সামাজিক মাধ্যম হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

[১৩] তিনি আরও জানান, কোভিডের কারণে অনলাইনে কেনাকাটায় প্রতরাণা বেড়েছে। এমন অভিযোগ প্রায়ই আমরা পাচ্ছি। এক্ষেত্রে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ অর্ডারের পর রশিদের একটি স্ক্যান কপি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চেয়ে নিতে হবে। আর অর্ডার করা পণ্যটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর পণ্যের মূল্য পরিশোধ করতে হবে। সেইসময় পণ্যের রশিদের মূল কপিটিও বুঝে নিতে হবে। এতে করে বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটি পণ্য না দিয়ে প্রতারণা করলে রশিদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিক্রয় প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ভালভাবে খোঁজখবর নিয়ে অর্ডার করতে হবে। তাহলে এক্ষেত্রে প্রতারণা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

[১৪] রেজাউল মাসুদ বলেন, সাইবার সেন্টারে আমরা কিছু অভিযোগ পাই। কিন্তু ইন্টেলিজেন্স, অসম্পূর্ণ তথ্য, ভোক্তা অধিকার, সিরিয়াস কেস, তুচ্ছ তথ্যের কারণে গ্রহণ করা সম্ভব হয়না। এজন্য আইনি সহায়তা পেতে অভিযোগকারীকে সম্পূর্ণ তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

সম্পাদনা : প্রিয়াংকা আচার্য্য

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত