শিরোনাম
◈ ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়-বাংলাদেশ সকল মানুষের জন্য এক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি: প্রধান উপদেষ্টা ◈ ‘পছন্দ না হলে মাজারে নাও আসতে পারেন, আঘাত-ভাঙচুর গ্রহণযোগ্য নয়’ ◈ জনসভা ছাড়িয়ে নিউজফিড: কেন সামাজিক মাধ্যমই এবারের নির্বাচনের মূল ময়দান ◈ উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই, বেকারত্ব দূর করবো: ডা. শফিকুর রহমান ◈ বিএনপি চাইলে ঢাকা শহরে জামায়াতের কোনো প্রার্থীই রাস্তায় নামতে পারবে না: ইশরাক হোসেন ◈ সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ইসির ◈ এক সপ্তাহে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার ২৭৮, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার ◈ নতুন পে-স্কেল, রাজস্ব ঘাটতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি: পরবর্তী সরকার আর্থিক চাপে পড়বে ◈ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড স্থাপন করবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে প্রধান উপদেষ্টা ◈ আইসিসিকে ফের চিঠি বিসিবির, নিরপেক্ষ কমিটিতে দাবি পাঠানোর অনু‌রোধ

প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৮:১১ সকাল
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০, ০৮:১১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: বাংলাদেশ এগিয়েছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আমরা সামরিক বিজয় অর্জন করেছিলাম, অন্য অনেক বিষয় তখনো স্থগিত ছিলো। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছিলো, ১৭ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিলো মুক্তির যুদ্ধ, যা আজও চলমান। ২০২০ সালে বিজয় দিবসের বিশেষমাত্রা আছে, যে বিজয় দিবস মুজিববর্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এই বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ১০ ডিসেম্বর পদ্মা সেতু অবকাঠামো পুরোপুরি দৃশ্যমান করে আরেকটি বিজয় অর্জন করেছে বাঙালি। ফলে ২০২০ সালের বিজয় দিবস একটু ভিন্ন মাত্রায় বিশ্লেষণ করতে হবে। উপরন্তু আগামী বছর আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো।

প্রায় অর্ধ-শতাব্দীতে বাংলাদেশের যে পরিক্রমা তাতে যোগ আছে অনেককিছু, কিন্তু বিয়োগ যে নেই তা নয়। যোগ হয়েছে আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধির, উন্নয়ন এখনো নয়। কারণ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ধনবৈষম্য বাড়ছে, কিছু মানুষের হাতে প্রচুর বিত্ত এবং কিছু মানুষ বিত্তহীন। এই বাংলাদেশ আমরা চাইনি। বিয়োগের খাতায় হচ্ছে আদর্শিক বিচ্যুতি। বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। বাংলাদেশের ভিত্তি কোনো ধর্মীয় ভিত্তি হবে না। বাংলাদেশের ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজন্ত্র।

আমরা জানি সংবিধান রচনার সময় যুক্ত হয়েছিলো জাতীয়তাবাদ। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত চারটি রাষ্ট্রীয় নীতি আমরা পেয়েছিলাম। এই চারটি রাষ্ট্র নীতি আজকে কতোটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, তা প্রশ্নবৃদ্ধ। তাছাড়া একাত্তরের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রচার করেছিলো। সেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য হিসেবে নির্দেশিত ছিলো তিনটি বিষয়Ñ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। বঙ্গবন্ধুর চারটি রাষ্ট্রমূলনীতি এবং মুজিবনগর সরকারের লক্ষ্যকে যদি আদর্শ ধরা হয়, তাহলে আমরা বাংলাদেশের পথ-পরিক্রমা যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারবো। আমাদের মূল্যায়নে ফলাফল মিশ্র। তবে বাংলাদেশে এগিয়েছে, এগিয়ে যাবে। কিন্তু বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লগ্ন থেকেই এগোতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে আপোস করে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ হবে না। অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে এলেও আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ় হতে হবে। আমরা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়তে চাই এবং একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে যে বিজয়গুলো স্থগিত ছিলো তা সম্পূর্ণ করতে হবে।

আমরা স্বাধীন হয়েছি ঠিকই, কিন্তু মুক্তি আমাদের এখনো আসেনি। অথচ একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে মুক্তির কথাই আগে বলেছিলেন। মুক্তির কথা তিনবার বলেছিলেন, স্বাধীনতার কথা মাত্র একবার বলেছিলেন। সুতরাং মুক্তি আমাদের মূল লক্ষ্য। উপরন্তু একাত্তরের যে যুদ্ধ ছিলো সেটা স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিলো না। এটা ভুল বলা হচ্ছে। কারণ স্বাধীনতা ঘোষিত হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর উপকণ্ঠেই ২৬ মার্চ ১৯৭১, তার পরে যুদ্ধটা হয়েছিলো দেশকে শত্রু পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী মুক্ত করার জন্য। সেই জন্য যুদ্ধের নাম ছিলো মুক্তিযুদ্ধ। যদি আমরা স্বাধীনতা বলি জেনে বা না জেনে তাহলে ওই যুদ্ধটির মাহাত্ম্য ছোট করে দিতে চাই। সুতরাংএকাত্তরের যুদ্ধ আমার মুক্তিযুদ্ধ। যে যুদ্ধ এখনো চলমান। আবারও জয় ছিনিয়ে আনার জন্য লড়াই করছি, এই লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে। এই অঙ্গীকার হোক আমাদের বিজয় দিবসের।

পরিচিতি: ইতিহাসবিদ। অনুলিখন : মাসুদ হাসান

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়